Waterlogging Howrah

বর্ষা আসার খবরে আতঙ্কিত হাওড়াবাসী

রাজ্য জেলা

ছবি প্রতিকী

বর্ষার সময়ে বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে পড়ে হাওড়া শহর। কোথাও দুইদিন আবার কোথাও জমা জল নামতে সময় নেয় এক মাস। চরম অসুবিধায় পড়েন হাওড়াবাসী। রাস্তার জমা জল মানুষের বসবাসের ঘরে ঠুকে পড়ে বহু জায়গায়। ঘরের মধ্যে জমা জলের মধ্যে থাকতে হয় বহু দিন। বর্ষা আসার খবরের সাথে হাওড়াবাসীর আতঙ্কিত হবার দিন গোনা শুরু হয়ে যায়। 
দীর্ঘ আট বছর হাওড়া কর্পোরেশনের নির্বাচন না হওয়ায় থমকে গেছে পৌরসভার কাজকর্ম। নূন্যতম নাগরিক পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন হাওড়াবাসী। নিয়মিত রাস্তা পরিস্কার, নালা নর্দমা থেকে নিয়মিত পলি না তোলার ফলে গভীর নালা নর্দমার জল ধারণ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই জল জমে যায়। হাওড়া শহরের উত্তর দিকের নিকাশি নালার জল রেলের পচাখাল ও গঙ্গায় গিয়ে পড়ে। মধ্য হাওড়া, শিবপুর ও দক্ষিণ হাওড়ার বিস্তৃর্ণ অঞ্চলের নিকাশির জল ডবল ব্যারেলের মধ্য দিয়ে ঝিল হয়ে গঙ্গায় গিয়ে পড়ে। কয়েক দশক আগে হাওড়া শহরের বিস্তৃর্ণ এলাকার মানুষকে জমা জলের হাত থেকে রক্ষা করতে তৈরি করা হয়েছিল ডবল ব্যারেল চ্যানেল। টিকিয়াপাড়া থেকে শুরু হয়ে প্রায় চার কিলোমিটার অতিক্রম করে ডবল ব্যারেলের মধ্য দিয়ে নিকাশির জল গিয়ে পড়ে গঙ্গায়। বর্তমানে ২০১৩ সালের পর থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদের প্রত্যক্ষ মদতে ডবল ব্যারেল চ্যানেলের উপর গড়ে উঠেছে একের পর এক বেআইনি বহুতল, রেস্তরাঁ, ক্লাবঘর ও ব্যাঙ্কোয়েট হল এবং বেআইনি পার্কিং।  ফলে নিকাশি ব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিষ্কারের কাজে দেখা দিয়েছে সমস্যা। মূলত ড্রেনেজ ক্যানেল রোড, ডুমুরজলা শৈলেন মান্না সরণি সংলগ্ন এলাকায় ডবল ব্যারেল চ্যানেল এর উপর গড়ে উঠেছে বেআইনি নির্মাণ। 
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ বারেবারে হাওড়া কর্পোরেশনের আধিকারিকদের জানিয়েও কোন সুরাহা হয়নি। পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, অতীতে বর্ষা আসার আগেই নিকাশির কাজে দক্ষ লোকেদের নিয়ে সমগ্র হাওড়া কর্পোরেশন এলাকার নিকাশি নালা, নর্দমা, ডবল ব্যারেল চ্যানেল থেকে পলি তুলে পরিস্কার করা হতো। যাতে জমা জল খুব সহজেই সরে যায়। কর্পোরেশনের আধিকারিকরা জানান, ২০১৩ সালের পর থেকে হাওড়া শহরের বহু জায়গায় নালা, নর্দমার উপর গড়ে উঠেছে বেআইনি বহুতল। টিকিয়াপাড়া থেকে শুরু হওয়া ডবল ব্যারেল চ্যানেল এর উপর বেআইনি বহুতল, রেস্তরাঁ, ক্লাবঘর ও ব্যাঙ্কোয়েট হল এবং বেআইনি পার্কিং তৈরি হবার ফলে বর্ষার আগে পরিস্কার করা যায়নি ডবল ব্যারেল চ্যানেল। 
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান বেআইনি ভাবে তৈরি হওয়া হোটেল এমনকি রেস্তোরাঁ থেকে প্রতিদিন রাতে ময়লা নির্দিষ্ট জায়গায় না ফেলে ডবল ব্যারেলের ভিতর ফেলে দেয়। ফলে নিকাশির জল যেতে সমস্যা তৈরি হয়। বিগত কয়েক বছর বর্ষার সময়ে ড্রেনেজ ক্যানেল রোড, শৈলেন মান্না সরণিতে জমা জল জমে থাকতে দেখা গেছে বহু দিন। বর্ষা আসার খবর জানা মাত্র জমা জলের আতঙ্কে আতঙ্কিত হাওড়াবাসী। কবে জমা জলের হাত থেকে মুক্তি পাবে তা নিয়ে চিন্তিত হাওড়াবাসী।

Comments :0

Login to leave a comment