কৃষককের জমি দখল করে সেখানে এক মৃত হনুমানের সমাধি দেওয়ার পর মন্দির নির্মাণের জন্য তোলা আদায়ের অভিযোগ উঠলো স্থানীয় বিজেপি নেতা-কর্মী সহ গেরুয়া বাহিনীর বিরুদ্ধে। এমন ঘটনা ঘাটাল ব্লকের বরোদাচৌকান এলাকার ঘোলা মৌজায়। অসহায় কৃষক পরিবার এমন ঘটনায় বিজেপি বিধায়ক শীতক কপাটের দ্বারস্থ হলেও এখনও পর্যন্ত কোনও সুরাহার আশ্বাস পায়নি।
জানা যায়, শনিবার রাত ৯ টার দিকে হঠাৎ করে চাষের জমিতে জেনারেটরের আলো জ্বালিয়ে হনুমানের সমাধি তৈরী করা হয়। তারপর ঘটা ঘরে চলে অনুষ্ঠান। এই ঘটনায় স্বভাবতই আতঙ্কিত বোধ করছেন জমির মালিক ওই কৃষক পরিবার। পরিবারের সদস্য জয়দেব মণ্ডল বলেন, "জমিটি তার বাবা ভোলা মন্ডলের নামে। রায়ত জমি। তাদের বসত বাড়ি পান্না গ্রামে। আর জমিটি পাশের গ্রাম ঘোলা মৌজায়।"
তিনি বলেন যে, শনিবার ঘাটাল থানার অন্তর্গত নির্মল বাজার সাবস্টেশনের সামনে একটি হনুমান মারা যায়। অভিযোগ, এরপরই বিজেপি কর্মী ও সমর্থকরা সেই মৃত হনুমানটিকে সেখান থেকে তুলে নিয়ে সটান চলে যান প্রায় দু'-তিন কিলোমিটার দূরের ওই ঘোলা গ্রামে। তাঁদের না জানিয়ে রাতের অন্ধকারে জমি দখল করে মৃত হনুমানের সমাধি দিয়ে সেখানে বেদী তৈরী করা হয় রাতারাতি। রাত জুড়ে সেখানেই চলে মোচ্ছব। এর জন্য জমির মালিকের কোনও রকম অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন বোধ করেনি গেরুয়া বাহিনী।
স্থানীয় মানুষের বক্তব্যে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। মৃত হুনুমানের শোভাযাত্রা চলা কালিন পথ চলতি মানুষ সহ দোকান দানি থেকে চাঁদাও তোলা হয়। সেই টাকায় চলে ধূমধাম অনুষ্ঠান সহ মোচ্ছব। আর তা থেকেই গেরুয়া বাহিনীর মাথায় উদ্ভব হয় হনুমান মন্দির করার। এতে আরও টাকা আদায় করার পরিকল্পনা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এমন বার্তায় রাতেই হনুমানটির সমাধি দেওয়ার জন্য কয়েকশো বিজেপির নেতা, কর্মী ও সমর্থক ওই জমিতে জড়ো হন। রীতিমতো জাঁকজমক করে পুজো ও নাম যজ্ঞের মাধ্যমে মৃত হনুমানটির সমাধি দেওয়া হয়। তারপরই জমায়েত থেকে প্রকাশ্যে ঘোষণা করা হয়, ওই নির্দিষ্ট জমির উপরেই একটি স্থায়ী হনুমান মন্দির তৈরি করা হবে। কারও ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে এহেন জোরজুলুমের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, ধর্মের আড়ালে রাজনীতি করে কৃষকের জমি দখল করার চেষ্টা চলছে। গোটা ঘটনায় এলাকার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
Comments :0