মণ্ডা মিঠাই | রামমোহন রায়ের রাজা উপাধি
তপন কুমার বৈরাগ্য
নতুনপাতা | ৪র্থ বর্ষ | ১২ জুলাই ২০২৬
১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে ৪ঠা ডিসেম্বর তখনকার ভারতের গভর্ণর জেনারেল লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক বঙ্গ সতী প্রবিধান আইন অনুসারে আইনতঃ সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ করেন।সমাজ সংস্কারক রামমোহন রায়ের দীর্ঘ আন্দোলনের ফলে এটা সম্ভব হয়েছিল।রামমোহনকে সম্রাট দ্বিতীয় আকবর অন্য চোখে দেখতে শুরু করলেন।তিনি ছিলেন দ্বিতীয় বাহাদুর শাহের পিতা।যিনি ছিলেন শেষ মুঘল সম্রাট।দ্বিতীয় আকবর শাহ ছিলেন ১৮তম মুঘল সম্রাট।তার শাসনকাল ছিল ১৮০৬খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৮৩৭খ্রিস্টাব্দপর্যন্ত।তখন মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় আকবরকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর মুখাপেক্ষী হয়ে চলতে হতো।মুঘল সম্রাটকে দেওয়া হতো পেনশনএবং ভাতা।তার পরিমাণ ছিল খুবই কম।পেনশন এবং ভাতা বাড়ানোর আর্জি নিয়ে তিনি রামমোহন রায়কে মুঘল সম্রাটের দূত হিসাবে যুক্তরাজ্যে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন।ব্রিটিশ রাজদরবারে তিনি যাতে রাজা হিসাবে সম্মান পান তার জন্য দ্বিতীয় আকবর তাকে রাজা সম্মানে ভূষিত করেন। সময়টা ছিল ১৮৩০খ্রিস্টাব্দের নভেম্বর মাস।তারপর রাজা রামমোহন রায় ১৯শে নভেম্বর জাহাজে করে ইংল্যান্ড যাত্রা করেন। সেখানে পৌঁছে চতুর্থ উইলিয়ামের সাথে তার বৈঠক হয়।রামমোহন রায় এতে বেশ কিছুটা সফলও হন।১৮৩১খ্রিস্টাব্দে তিনি দেশে ফিরে এলে দ্বিতীয় আকবর তার দরবারে রামমোহন রায়কে যথাযথ সম্মানিত করেন এবং রাজা উপাধিতে ভূষিত রামমোহন রায়কে বুকে জড়িয়ে ধরেন।রামমোহনকে রাজা উপাধি দেওয়ার জন্য তিনি বাঙালীর হৃদয়ে স্মরণীয় ও বরণীয় হয়ে আছেন।রামমোহন রায়ের জন্ম ১৭৭২খ্রিস্টাব্দের ২২শে মে।মৃত্যু ১৮৩৩খ্রিস্টাব্দের ২৭সে সেপ্টেম্বর।১৮২৮খ্রিস্টাব্দে তিনি ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠা করেন। রাজা রামমোহন রায় বেশ কিছু বই লেখেন।তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বেদান্ত,বেদান্ত সার,গৌড়ীয় ব্যাকরণ ইত্যাদি।তার পৃষ্ঠপোষকতায় ১৮২১ খ্রিস্টাব্দে বের হয় সাপ্তাহিক পত্রিকা সংবাদ কৌমুদী।
Comments :0