শিলিগুড়ি কলেজে এসএফআই’র ছাত্রীকে শারীরিকভাবে হেনস্থা ও কুরুচিকর মন্তব্যের প্রতিবাদে এবং এসএফআই ছাত্রদের ধর্ম জাত নিয়ে কুরচিকর মন্তব্য ও শারীরিক আক্রমণের প্রতিবাদ জানালো ছাত্র যুব মহিলারা। শুক্রবার বিকেলে এসএফআই ও সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি দার্জিলিঙ জেলা কমিটির পক্ষ থেকে এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে শিলিগুড়ি থানার সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়। শিলিগুড়ি মহাবিদ্যালয়ে এসএফআই সদস্যদের হুমকি দেবার ঘটনার তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে শহর জুড়ে।
বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে রাজ্যে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন, ‘‘তৃণমূলের রাজত্বে বাংলার প্রতিটি নাগরিক ভয়ে বাঁচছে। এটাই ভয় কাটানোর ভোট। বিকশিত বাংলার দিকে এটাই প্রথম ধাপ হবে। ভয় আউট। ভরসা ইন। বিজেপিকে ভোট দিন।’’ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীও বলেছিলেন, ‘‘রাজ্যে এখন থেকে ‘ভয় আউট’‘ভরসা ইন। দাবি করেছিলেন ভয়ের পরিবেশ কাটিয়ে মানুষের আস্থার শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে রাজ্যে।’’ তবে কি সত্যিই আইনের শাসন তৈরি হচ্ছে রাজ্যে উঠছে প্রশ্ন। প্রসঙ্গত শিলিগুড়ি কলেজের ভেতরে এসএফআই সদস্য ও কর্মীদের উদ্দেশ্যে কুরুচিকর মন্তব্য, ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে আরএসএস অনুমোদিত জাতীয়তাবাদী ছাত্র সংগঠন(এবিভিপি)। গত মঙ্গলবার এসএফআই’র বেশ কয়েকজন ছেলেমেয়ে কলেজের ভেতরে থাকাকালীন আচমকাই এবিভিপি’র ছেলেরা সেখানে এসে এসএফআই’র ইউনিটের কনভেনার অঙ্কিতা ভাওয়াল ও রেহান সিদ্দিকী নামে এক এসএফআই কর্মীকে হুমকি দিতে শুরু করে। এবিভিপি’র ছেলেরা প্রকাশ্যে হুমকি দেয় এসএফআই করা যাবে না। এসএফআই করলে অবস্থা খারাপ করে দেওয়া হবে। শুধু তাই নয়, এসএফআই ইউনিটের কনভেনার অঙ্কিতা ভাওয়ালের হাত ধরে টানাটানি করে তাঁর ফোন কেড়ে নেবার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ।
এসএফআই’র ছাত্রী অঙ্কিতা ভাওয়াল অভিযোগ করেন, ওরা জানতে পারে এসএফআই’র ফেসবুকে অফিসিয়াল ওয়েবসাইট রয়েছে। সেটা জানতে পেরে এসএফআই’র তিনজন কর্মীকে প্রায় ২০/২৫জন এবিভিপি’র ছেলেরা কলেজের একটি রুমে ঘিরে ধরে। হুমকি দেওয়া হয় এসএফআই’র কোন গ্রুপ চালানো যাবে না। গ্রুপগুলো দ্রুত বন্ধ করে দিতে হবে। হুমকি দেওয়া হয় কলেজের দখল আমরা নিয়েছি। এরপর থেকে তোরা কলেজে ঢুকতে পারবি না। পাশাপাশি মুসলিমদের এই কলেজে কোন জায়গা হবে না এই বলে এসএফআই কর্মী রেহান সিদ্দিকীকে হুমকি দেওয়া হয়। প্রকাশ্যে এবিভিপি’র ছেলেরা প্রকাশ্যে বলতে থাকে এসএফআই’র সদস্য সংখ্যা কিভাবে হবে সেটাও দেখে নেওয়া হবে। শিলিগুড়ি কলেজে একটিই ছাত্র সংগঠন থাকবে সেটা হলো এবিভিপি। মঙ্গলবারের ঘটনায় পরিপ্রেক্ষিতে শিলিগুড়ি থানায় এসএফআই’র পক্ষ থেকে লিখিতভাবে অভিযোগ দায়ের করা হয়। এদিন শিলিগুড়ি থানার সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শনে ছিলেন এসএফআই দার্জিলিঙ জেলা সম্পাদক অঙ্কিত দে, সম্রাট সাহা, দীপঙ্কর ধর, মহিলা নেত্রী স্নিগ্ধা হাজরা, বীনা নন্দী, মধুমিতা দে, প্রিয়া দে সহ অন্যান্যরা। এদিন শিলিগুড়ি থানার সামনে বিক্ষোভ চলাকালীন ছাত্র মহিলা প্রতিনিধি দল থানার ভেতরে গিয়ে আইসির সাথে দেখা করেন। বিক্ষোভের চাপে পড়ে প্রশাসনের তরফে শিলিগুড়ি মহাবিদ্যালয়ের প্রিন্সিপালের সাথে এ বিষয়ে কথা বলা হবে বলে আইসি ছাত্র মহিলা প্রতিনিধি দলকে আশ্বস্ত করলে বিক্ষোভ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
AIDWA SFI PROTEST
শিলিগুড়ি কলেজে হুমকি-হেনস্তা, জাত তুলে মন্তব্য এবিভিপি’র, প্রতিবাদ ছাত্র-মহিলাদের
×
Comments :0