Cockroach Janta Party

বন্ধ করা হয়েছে ওয়েবসাইট, অভিযোগ ‘কক্রোচ জনতা পার্টি‘-র

জাতীয়

ইন্টারনেটে আলোড়ন ফেলে দেওয়া ‘কক্রোচ জনতা পার্টি‘-র নিজস্ব ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ইন্টারনেট ভিত্তিক এই সিজেপি’র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে সরকারকে ‘একনায়কতান্ত্রিক’ আখ্যা দিয়ে শনিবার ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ জানিয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত একটি মামলার শুনানিতে কর্মহীন, প্রতিবাদী, আন্দোলনকারীদের আরশোলা বা ‘কক্রোচ‘-র সঙ্গে তুলনা করেন। পরে তিনি দাবি করেন যে যুবসমাজকে অসম্মান করতে চাননি। তাঁর বক্তব্য বেঠিকভাবে পেশ করা হয়েছে। তবে ততক্ষণে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে তুমুল প্রতিবাদ।
শনিবার দীপকে বলেছেন, দলের সদস্য হওয়ার জন্য ১০ লক্ষ সই জমা পড়েছিল। দলে সকলে যোগ দিচ্ছেন নিজেদের ব্যঙ্গাত্মক ‘কক্রোচ‘ বলে। সরকার আচমকা ওয়েবসাইট বন্ধ করে দিয়েছে।   
প্রধান বিচারপতির মন্তব্যই যদিও ইন্টারনেটে ঝড় তোলা ‘সিজেপি‘ তৈরির একমাত্র কারণ নয়। পরিস্থিতি ঘিরে ক্ষোভ ছিলই। মেডিক্যাল প্রবেশিকা ‘নিট’-র প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার ঘটনাতেও যুব অংশের তীব্র ক্ষোভ দেখা গিয়েছে। তার ওপর সর্বত্র চলছে ছাঁটাই। মজুরির হার নিচের স্তরে। কাজের জগতে যুক্ত থাকলেও রোজগারের স্থায়িত্ব নেই। 
ক’দিন আগেই দিল্লি লাগোয়া শিল্পাঞ্চলে তীব্র প্রতিবাদে নামেন শ্রমিকরা। উত্তর প্রদেশ বা হরিয়ানার বিজেপি সরকার যে কায়দায় শ্রমিকদের দমন করেছে বিক্ষোভ রয়েছে তা নিয়েও। মধ্য প্রাচ্যে সঙ্কটের পরিস্থিতি ক্ষোভ আরও তীব্র করেছে। অনেকে মনে করছেন, ক্ষোভের বারুদে আগুন দিয়েছে প্রধান বিচারপতির মন্তব্য। 
দীপকে এদিন দাবি করেছেন যে নিট-র প্রশ্ন ফাঁসের জন্য কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ৬ লক্ষ সই জমা পড়েছে অনলাইনে। সরকার মানুষের এই প্রতিবাদকে দমিয়ে দিতে চাইছে। 
কক্রোচ জনতা পার্টি যে দাবিপত্র প্রকাশ করেছে নিঃসন্দেহে তা কেন্দ্রের সরকারে আসীন বিজেপি’র পক্ষে স্বস্তিদায়ক নয়। বিশেষ করে সোশাল মিডিয়ায় তার সমর্থনে কোটির অঙ্কে ‘ফলোয়ার‘ হওয়ায়। দাবিপত্রে বলা হয়েছে যে বৈধ নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়ে থাকলে এবং তা ধরা পড়লে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে ইউএপিএ আইনে গ্রেপ্তার করা হবে। কারও ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া সন্ত্রাসবাদের চেয়ে কোনও অংশে কম নয়। আরও বলা হয়েছে, কোনও প্রধান বিচারপতিকে অবসরের পর বিশেষ পদ দেওয়া হবে না। মহিলাদের ৫০ শতাংশ সংরষণ চালু করা হবে। তার জন্য সংসদের আসন বাড়ানোর শর্ত জুড়ে দেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। আদানি এবং আম্বানি গোষ্ঠীর সব মিডিয়া প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল হবে।   
তবে বাংলাদেশ, নেপালের নবীন প্রজন্মের আন্দোলন বা দেশে আম আদমি পার্টির পরিণতির বিচারে বিভিন্ন অংশ সন্দিহান। এমন হঠাৎ ঝড় তোলা আন্দোলনে জুড়ে গিয়ে প্রচারের আলোয় এসে পরে মূল অবস্থান থেকে সরে যাওয়ার উদাহরণ রয়েছে। আবার বাংলাদেশে জামাতের মতো সংগঠনকে  শক্তি বাড়াতে দেখা গিয়েছে।

Comments :0

Login to leave a comment