আর মাত্র নব্বই মিনিট। একটা জয়। ২২ বছরের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে পারেন ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরা। কিশোর ভারতী স্টেডিয়ামে ইন্টার কাশীকে হারালেই নতুন ইতিহাস লিখবে অস্কার ব্রুজোর দল। দু’দশকের খরা কাটিয়ে দেশের শীর্ষ লিগ জয়ের সুযোগ লাল হলুদের সামনে। ১২ ম্যাচে ২৩ পয়েন্ট ইস্টবেঙ্গলের। সমসংখ্যক ম্যাচে সমান পয়েন্ট নিয়ে গোলপার্থক্যে লাল হলুদের থেকে পিছিয়ে সবুজ মেরুণ। শেষ ম্যাচে লিগ চ্যাম্পিয়ন হতে হলে বাকি চার দলের চেয়ে ইস্টবেঙ্গলের অঙ্কটাই সহজ। নূন্যতম দু’গোলের ব্যবধানে জিতলেই হবে। সেক্ষেত্রে, মোহনবাগান সুপার জায়ান্টকে চ্যাম্পিয়ন হতে গেলে স্পোর্টিং দিল্লির বিরুদ্ধে আট গোলের ব্যবধানে জিততে হবে।
অঙ্ক সহজ হলেও সতর্ক ইস্টবেঙ্গল। এই মরশুমে দু’বার খেতাবের কাছে পৌঁছেও ঠোঁট আর ট্রফির দূরত্ব থেকে গিয়েছে। আইএফএ শিল্ড ও সুপার কাপ ফাইনালে হার। এবার সেই দূরত্ব ঘোঁচাতেই মরিয়া মিগুয়েল ফিগুয়েরা, বিপিন সিং, কেভিন সিবিল্লেরা। তাঁদের শরীরীভাষায় চাপের লেশ মাত্র নেই। বেশ চনমনে মেজাজ। হাসিখুশি চেহারা। লক্ষ্যেস্থির। বুধবার সাংবাদিক সম্মেলন শেষে অস্কার বলে গেলেন, ‘ক্ষুধার্ত বাঘের মতো ঝাঁপাবে ইস্টবেঙ্গল।’
সেই ইঙ্গিতই পাওয়া গেল দলের প্র্যাকটিসেও। আক্রমণাত্মক ফুটবলে জোর দিলেন অস্কার। অর্থাৎ শুরুতেই যদি গোল করা যায়, চাপে পড়ে যাবে বাকি প্রতিপক্ষরা। প্রথম দশ-পনেরো মিনিটের মধ্যে গোল তুলে নেওয়াই লক্ষ্য ইস্টবেঙ্গলের। তাই, বড় ম্যাচে শুরু থেকে খেলা অ্যান্টন সোবার্গকে বসিয়ে সোনার বুটের দৌড়ে থাকা ইউসেফ এজ্জেজারিকে প্রথম থেকে নামানোর সম্ভাবনাই বেশি। উইংয়েও নানান পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলেন প্র্যাকটিসে। তবে ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পথে হয়তো হাঁটবেন না। ইউসেফ ঢুকবেন প্রথম একাদশে। বাকি দল অপরিবর্তিত থাকবে। বড় ম্যাচে লাল কার্ড দেখায় অনিশ্চিত এডমুন্ড। তাঁর কার্ড মুকুব করার আবেদন করা হলেও, এদিন ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত এক কর্তার মাধ্যমে জানা গেল, লাল কার্ড মুকুব হয়নি এডমুন্ডের। কার্ড সমস্যা কাটিয়ে ফিরছেন সৌভিক চক্রবর্তী।
সমর্থকরা স্বপ্ন দেখতে শুরু করে দিয়েছে খেতাবের। সামাজিক মাধ্যমে আভাস পাওয়া যাচ্ছে রীতিমতো। চ্যাম্পিয়ন হলে উদ্যাপন কীভাবে হবে? সমস্ত আয়োজন করে রেখেছেন লাল হলুদ অনুরাগীরা। কিন্তু অস্কার দাঁড়িয়ে রয়েছেন বাস্তবের মাটিতে। আগে থেকেই আবেগে ভেসে যেতে নারাজ তিনি। চ্যাম্পিয়ন হই আগে! এমনই মনোভাব অস্কারের। বললেন, ‘এখনই আমি ভেবে রাখি, চ্যাম্পিয়ন হলে কীভাবে উদ্যাপন করব, কাকে উৎসর্গ করবো? তাহলে আমার মতো বোকা কেউ নেই। ইন্টার কাশী ম্যাচের নব্বই মিনিটের দিকে ফোকাস। আমাদের কী করতে হবে, সেদিকেই সম্পূর্ণ মনোযোগ রাখতে হবে। আর যদি আমরা চ্যাম্পিয়ন হতে পারি, তাহলে ক্লাব ম্যানেজমেন্ট আমাদের সবার জন্য বিশেষ কিছু আয়োজন নিশ্চিত করবে।’
ইস্টবেঙ্গল কোচের আরও সংযোজন, ‘ইস্টবেঙ্গলে সই করার পর আমি বলেছিলাম, আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য টপ নাইনে শেষ করা। লিগ যত এগিয়েছে, আমাদের লক্ষ্য বদলেছে। টপ সিক্সে। এখন আমাদের কাছে সুযোগ রয়েছে প্রথম চারে শেষ করার। আগামীকাল আমরা কীসের জন্য লড়ব, সেটা ফুটবলারদের কল্পনা করতে হবে। আমরা জানি ম্যাচটা খুব কঠিন হবে। ইন্টার কাশী খুব ভালো দল। মোহনবাগানকে আটকে দিয়েছে। ওই ম্যাচে ওদের জেতার সুযোগ ছিল। তবে আমরা এটাও জানি, ঠিকভাবে খেলতে পারলে আমাদের স্বপ্নপূরণের বিশাল সুযোগ থাকবে।’ ইতিহাসে সামনে দাঁড়িয়েও ধীর-স্থির। বাড়তি চাপে ভুগতে নারাজ তিনি। অস্কারের সংযোজন, ‘ বুধবার রাতে খুব ভালো করে ঘুমাবো। এই ধরণের পরিস্থিতিতে আমি শান্ত হয়ে যাই।’
আইএসএল-র ইতিহাসে ইস্টবেঙ্গলের কোনও ফুটবলার সোনার বুট জেতেনি। প্রাক্তন ক্লেটন সিলভা এক মরশুমে ১২ গোল করেও জিততে পারেননি। এবার ইউসেফের সামনে সেই সুযোগ রয়েছে। ১০ গোল করে তিনিই চলতি আইএসএলে সর্বাধিক গোলদাতা। ন’গোল করে তাঁর ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে জেমি ম্যাকলারেন। অস্কারের পাশে বসে ইউসেফ বললেন, ‘ব্যক্তিগত পুরস্কার অর্জনের কথা ভাবছিই না। ইস্টবেঙ্গলকে চ্যাম্পিয়ন করানো নিয়ে ভাবছি আপাতত।’ জিতলেই চ্যাম্পিয়ন? অন্য ধাতুতে গড়া ইউসেফের উত্তর, ‘আমরা বিনয়ী থাকছি। মাথা ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করছি। অবশ্যই আবেগও আছে। আবেগ নিয়ন্ত্রণে রেখে পেশাদার থাকতে চাই এবং নিজেদের সর্বস্ব উজাড় করে দিতে চাই। এটাই লিগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। ইন্টার কাশী ভালো দল, লড়াইটা সহজ হবে না জানি। তবুও ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের জন্য আমাদের খেতাব জিততে হবে।’
ইন্টার কাশী: ইস্টবেঙ্গল
(ম্যাচ শুরু সন্ধ্যা ৭:৩০)
East Bengal
ঠোঁট আর ট্রফির দূরত্ব ঘোচাতে চান অস্কার
×
Comments :0