সংবাদমাধ্যমের কাছে মুখ খুলতে পারবেন না রাজ্য সরকারি কর্মীরা, এই মর্মে নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্য সরকার। মুখ্যসচিব মনোজ আগারওয়ালের জারি করা নির্দেশিকাটি রাজ্যের সমস্ত দফতর, কমিশনার, জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়েছে। আইএএস, ডবলিউবিসিএস, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ সার্ভিসের আধিকারিকদের পাশাপাশি রাজ্যের অন্যান্য সরকারি কর্মচারী, জেল কর্মী, সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বোর্ড, পুরসভা, পুর নিগম ও স্বশাসিত সংস্থার কর্মীদের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, সরকারের অনুমতি ছাড়া কোনও সরকারি কর্মী কোনও সংবাদমাধ্যম আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারবেন না। সংবাদমাধ্যমের কাছে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে কোনও সরকারি তথ্য, নথি বা প্রশাসনিক কাগজপত্র তুলে দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সরকারি কর্মচারিদের কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বিরূপ মন্তব্য বা সমালোচনা করা থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
রাজ্য সরকারের এই নির্দেশিকার সমালোচনা করেছে বিভিন্ন মহল। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, ‘গত ২০ মে রাজ্যসরকারি সার্কুলারে রাজ্য সরকারি চাকুরিজীবী সহ রাজ্য সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত স্বশাসিত সংস্থার সকল কর্মীদের প্রেসের সঙ্গে কথা বলার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। শুধু বিবৃতি বা মন্তব্যের বিষয় নয় সংবাদ -সাময়িকীতে লেখালেখির ক্ষেত্রে জারি হয়েছে বিধিনিষেধ। সরকার বিরোধী কোনোরকম কথাও বলা যাবেনা। পূর্বতন সরকারের নিয়ন্ত্রণের রাজনীতির পথই অনুসরণ করেছে এই সরকার। এটা শুধু গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক নয়, ব্যক্তি স্বাধীনতা ও মত প্রকাশের যে সাংবিধানিক অধিকার/স্বীকৃতি রয়েছে তাকেও ধ্বংস করছে। এই সার্কুলার যেভাবে ইঙ্গিত করেছে সেখানে কোনোরকম স্বাধীন চিন্তা ও মতপ্রকাশের সুযোগ আমাদের থাকবেনা। এমনকী একাডেমিক লেখার মধ্যেও যে পরিসর থাকার কথা তা ব্যাহত হচ্ছে। একাডেমিক জার্নালে লেখাও কি অনুমতিসাপেক্ষ অথবা নিয়ন্ত্রিত? সোশ্যাল সায়েন্স, হিউম্যানিটিজ সহ নানা একাডেমিক ডিসিপ্লিনের কাজে ব্যক্তি-সমাজ-সরকারের নানা বিষয় চর্চা খুবই স্বাভাবিক। ফলত এই সার্কুলার মুক্ত চিন্তা ও জ্ঞানচর্চার প্রতিবন্ধক যা একটি উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উৎকর্ষকে ব্যাহত করবে। মৌলিক বা সৃজনশীল রচনা প্রকাশের প্রশ্নেও এই বিধি আসলে ব্যক্তিমানুষের অস্তিত্ব, চিন্তাকেই নাকচ করছে। গণতন্ত্রে ভিন্ন মত ও রুচির অধিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা, কাজকর্ম সম্পর্কে জনগণের মতদান সরকারকেই সমৃদ্ধ করে এবং এটাই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মূল ভিত্তি। আমরা দাবি করছি যে এই ধরনের সার্কুলার অবিলম্বে বাতিল করা হোক।’
Government circular
সরকারি কর্মীদের সংবাদমাধ্যমে মুখ খুলতো নিষেধাজ্ঞা, প্রতিবাদ শিক্ষা মহলের
×
Comments :0