Siuri Municipality

একাধিক শূন্যপদ সিউড়ি পৌরসভায়, জোড়াতাপ্পি দিয়েছে চলছে পৌর পরিষেবা

জেলা

প্রায় অর্ধেক স্থায়ী পদই ফাঁকা। গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ হয়নি বছরের পর বছর। অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের দিয়ে জোড়াতাপ্পি মেরে চলছিল। নতুন সরকার আসার পর অবসরপ্রাপ্তদের অব্যাহতি দেবার নির্দেশে মুখ থুবড়ে পড়েছে পৌর প্রশাসন। বীরভূমের সদর শহর সিউড়ি পৌরসভার প্রশাসনিক কাজের সঙ্গে দৈনন্দিন পরিষেবা পড়েছে সঙ্কটে। নতুন নির্দেশ পেয়েই ১২ অবসরপ্রাপ্ত কর্মীকে সরিয়ে দিয়েছে পৌর প্রশাসন। সংখ্যাটা বারো হলেও এঁরা সকলেই সামলাচ্ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। ফলে পৌর প্রশাসন চালানো নিয়ে বেশ নড়বড়ে অবস্থায় পড়েছেন বিনা প্রতিদ্বন্দীতায় গায়ের জোরে দখল করা তৃণমূলের পৌরবোর্ড।

পৌরসভা থেকে অব্যাহতি কর্মীদের মধ্যে রয়েছেন মুখ্য করণিক, হিসাবরক্ষকসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের কর্মীরা। অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার, সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ারের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত পদের পাশাপাশি স্থায়ী সাফাই কর্মী, জলকল বিভাগের কর্মী এবং অফিস কর্মীদের একাধিক পদেও দীর্ঘদিন নিয়োগ হয়নি। একথা জানিয়েছেন খোদ তৃণমূলেরই পৌরপ্রধান। যিনি আবার নিজে বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করে হেরেছেন। শূণ্যপদে লোক নিয়োগ না হওয়ার জন্য আজ তিনি 'উদ্দ্বেগ' প্রকাশ করছেন। কিন্তু নির্বাচনের আগে এ নিয়ে তাঁর কোনও উচ্চবাচ্য ছিল না। এছাড়াও দূর্নীতির ভুরি ভুরি অভিযোগ রয়েছে তাঁর দিকে। সরকার বদলের পর স্বাভাবিকভাবেই বিজেপির প্রতিও নিয়ে নরম অবস্থান নিয়ে চলছেন। পৌরসভায় এতদিন মাতব্বরী করা এক তৃণমূল কর্মীই জানিয়েছেন, "আর পাঁচজনের মত আমাদের চেয়ারম্যানও ইট পেতে রেখেছেন। সূযোগ পেলেই ঝাপাবেন অন্যদিকে।"
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী নিয়োগ না হওয়ায় যাদের অভিজ্ঞতার উপরই  নির্ভর করে চলেছে পৌরসভা তাঁদের অব্যাহতির পর  বিকল্প হিসেবে যাঁদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাঁদের পক্ষে এত গুরুত্বপূর্ণ কাজ সামলানো অত্যন্ত কঠিন বলেই মনে করছেন পৌরসভা সম্পর্কে ওয়াকি বহাল মহল।
পৌরপ্রধান উজ্জ্বল চ্যাটার্জির বক্তব্য, “যে হারে পৌরসভায় স্থায়ী কর্মীর সংখ্যা কমছে, তাতে কাজ চালানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ছে। দ্রুত শূন্যপদ পূরণ না হলে অচলাবস্থা তৈরি হবে।" 
কাজ চালানো কঠিন হওয়ার কথা আগে কোনও দিন বলেননি পৌরপ্রধান। সরকার থেকে বিদায় নেওয়ার পর মুখ খুলছেন। যা ইঙ্গিত করছে অন্যরকমই। যাইহোক না কেন মূল প্রশ্ন হচ্ছে, স্থায়ীপদে স্বচ্ছতার সাথে  নিয়োগ কত দ্রুত হবে। জানা গেছে, আগে ১৯টি ওয়ার্ড নিয়েছিল সিউড়ি পৌরসভার স্থায়ী পদের সংখ্যা ছিল ১৮০টি। পরে আরও দুটি ওয়ার্ড যুক্ত হওয়ায় বর্তমানে সেই সংখ্যা প্রায় ২০০-র কাছাকাছি হওয়া উচিত। বাস্তবে অর্ধেক পদেই স্থায়ী কর্মী নেই। গত ২০২০ সালে মাত্র ৮ জন কর্মী নিয়োগ করা হয়েছিল। যদিও সেই নিয়োগের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।  উল্টে গত চার বছরে একাধিক কর্মী অবসর নিয়েছেন, কেউ কেউ মারা গিয়েছেন। সেই পদগুলিতে আর কোনও নিয়োগ হয়নি। এই পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়েই অবসরপ্রাপ্ত কর্মীকে দিয়ে কাজ চলছিল কিন্তু রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর জারি হওয়া নতুন নির্দেশিকার পর সিউড়ির বোর্ড অফ কাউন্সিলরস ১৪ মে বৈঠক করে ওই কর্মীদের অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এব্যাপারে সিপিআই(এম) নেতা মতিউর রহমান বলেন, “স্থায়ী নিয়োগ না হওয়ার পিছনে দায়ী তৃণমূলই।  নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইতিমধ্যেই তৃণমূলের এক প্রাক্তন মন্ত্রী জেলে গিয়েছেন, আরও অনেকের নাম তালিকায় রয়েছে। নতুন সরকার এসে কি করে তা দেখতে। স্রেফ প্রতিশ্রুতির ফানুস ওড়ালে হবে না।"

Comments :0

Login to leave a comment