Hingalganj TMC

হিঙ্গলগঞ্জে গ্রেপ্তার পঞ্চায়েতের উপপ্রধান

জেলা

গ্রেপ্তার তপন মণ্ডল।

তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি,সহ সভাপতি,কর্মাধ্যক্ষ, স্হানীয় স্তরের তৃণমূল নেতাদের পর এবার পুলিশের জালে গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান। উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জ ব্লকের রূপমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান তপন মণ্ডলকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। বসিরহাট মহকুমা জুড়ে নিয়ম করে তৃণমূলের এহেন প্রশাসনিক ও দলের কর্তাব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের খবরে রাজনৈতিক মহলে রীতিমতো আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। শুরু হয়েছে গুঞ্জন। বিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করে বলছেন, ঘুরপথে বিজেপিতে যাওয়ার রাস্তা সুগম করতে আগাম কোনও ছলচাতুরি নয় তো? 
রাজ্যে পালাবদলের পর তৃণমূলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে জনরোষ তৈরি হয়েছে গ্রামে গ্রামে। যেমন হিঙ্গলগঞ্জ ব্লকের বিশপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান শেখ শহিদুল ইসলামের বাড়ি চারটি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে শীততাপ নিয়ন্ত্রিত বাথরুমটিও।আগাম বিপদের আঁচ বুঝতে পেরে রূপমারী গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান তপন মণ্ডল নিজেকে সেফ করিডোরে নিতে তারই কোনও ব্যক্তিকে দিয়ে পুলিশে অভিযোগ করিয়ে দিল না তো? এই আশঙ্কার পাশাপাশি কেউ কেউ একথাও জানাতে ভুললেন না,ঘোড়া কেনা বেচায় জগৎ জোড়া নাম বিজেপির। যাদের নামে এতদিন কোনও অভিযোগ স্হানীয় থানায় লিপিবদ্ধ হলো না, বা কেউ করলো না হঠাৎ করে তাদের নামে অভিযোগ এবং গ্রেপ্তার এবং জেলযাত্রা কেমন যেন ধোঁয়াসা তৈরি হচ্ছে। একথাও চর্চায় রাখছেন রাজনৈতিক মহলের কেউ কেউ।
কেন উপপ্রধান তপন মণ্ডলকে গ্রেফতার করা হলো? পুলিশ জানিয়েছে, বাংলা আবাস যোজনার অর্থ সংক্রান্ত কাটমানি আদায়ের অভিযোগ এবং অভিযোগকারীকে মারধরের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার প্রেক্ষিতে এফআইআরে নাম থাকায় গ্রেপ্তার করা তপন মণ্ডলকে। তিনি রূপমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান।
তপন মণ্ডল গ্রেপ্তার হওয়ায় স্বভাবতই খুশি এলাকার মানুষ। সিপিআই(এম)'র নেতা ,কর্মী সহ বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীদের উপর তপন বাহিনীর পাশবিকতার সেই সব নিদারুণ কাহিনী শোনালেন তাদেরই কেউ কেউ। হিঙ্গলগঞ্জের প্রাক্তন বিধায়ক তৃণমূল কংগ্রেসের দেবেশ মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ অনুগামী বলে পরিচিত স্কুল শিক্ষক তপন মণ্ডল ওরফে তপন মাস্টার। সদানন্দ গায়েন কিম্বা সন্দীপ মিস্ত্রি এরকম অনেককেই তার কাছারিতে তুলে নিয়ে গেছেন তপন মাস্টার। তাদের জন্য তার বাহিনী হিটলারি কায়দায় অত্যাচার চালিয়েছে। সিপিআই (এম) করার অপরাধে সদানন্দ গায়েনকে তার বাড়ি থেকে তুলে এনে মেরে আধমরা করে ইলেকট্রিক পোস্টে বেঁধে রাখে মধ্যরাতে। এরপর নিজেরাই সাজিয়ে আগ্নেয়াস্ত্রের মামলা দিয়ে হাসনাবাদ থানায় পাঠানো হয়। মামলাটি আজও বিচারাধীন। আজও অস্ত্র মামলার আসামি। এছাড়াও বহু ঘর বাড়ি জ্বালানো, গরু বাছুর, ছাগল ,হাঁস, মুরগি লুট করে নিয়ে গেছে কত পরিবারের। হলধর রায়, প্লাবন মন্ডল ,শম্ভুনাথ মন্ডল, পুলিন সরদার, রাসবিহারী সরদার, মহাদেব সরদার সহ আরও অসংখ্য বাড়িতে হামলা করেছে। হরিপদ সরদার, সুশান্ত মন্ডল ,দেবানন্দ মন্ডল আরও অনেক মানুষের পঞ্চায়েতে নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা জমা দিতে দেয়নি। হিঙ্গলগঞ্জ বিডিও অফিসে মনোনয়নপত্র জমা দিতে যাওয়ার অপরাধে একটি ছেলের কাস্ট সার্টিফিকেট সহ সমস্ত কাগজপত্র বিডিও অফিস থেকে কেড়ে নিয়েছিলেন। তার বাড়িতে গিয়ে তার বাবা হাতে-পায়ে ধরে ছেলের সার্টিফিকেট গুলো পরবর্তীকালে ফেরত নিয়ে আসে। রাস্তার পাশের বাম আমলে লাগানো পঞ্চায়েতের বিরাট বিরাট গাছ নির্বিবাদে কেটে লুঠ করে নিয়েছে। বাইনাড়া নদী বাঁধের পাশে থাকা গাছগুলিও কেটে বিক্রি করে দিয়েছে। বাঁধের টাকা, ত্রাণের মাল, সরকারি টাকা ইত্যাদি দেদার লুট করা কোনটাই বাকি রাখেনি। তপন মণ্ডল এবং তার বাহিনীর হাতে অত্যাচারিতরা আজও বেঁচে আছে ঠিকই। কিন্তু তাদের উপর অত্যাচারের কাহিনী আজও জ্বলজ্বল করছে পূর্ব খেজুরবেড়িয়া,উত্তর রুপমারী, বাইনারা, হলদা, রুপামারি এবং কুমিরমারির ক্যানভাসে। 

Comments :0

Login to leave a comment