Domkal Rally

এবার লড়াই আরএসএস-র বিরুদ্ধে, সম্প্রীতি রক্ষার দায়িত্ব বামপন্থীদের: ডোমকলে ‘রানা’

জেলা

বৃহস্পতিবার ডোমকলে সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন মোস্তাফিজুর রহমান রানা।

অশক্ত শরীরে মঞ্চে উঠলেন আনিসুর রহমান। হাত ধরে তাঁকে বসালেন মোস্তাফিজুর রহমান , যাঁকে ডোমকল চেনে ‘রানা’ নামে।‌ 
মুর্শিদাবাদের এই কেন্দ্রর প্রাক্তন বিধায়ক আনিসুর রহমান ছিলেন বামফ্রন্ট সরকারের মন্ত্রী। এবার এই কেন্দ্র থেকেই সিপিআই(এম) বামফ্রন্টের একমাত্র বিধায়ক নির্বাচিত রানা।
বৃহস্পতিবার ২১ মে  ডোমকলে এই সমাবেশের আলাদা গুরুত্ব ছিল। সমাবেশের প্রধান দাবি ছিল তিনটি। ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে।  দ্রুত  নিষ্পত্তি করতে হবে  বিচারাধীন নামের। সুরক্ষিত করতে হবে পরিযায়ী শ্রমিকদের। বন্ধ করতে হবে  বুলডোজার রাজনীতি। 
তীব্র গরমে সমাবেশের যোগ দেওয়া বেশিরভাগই জানিয়েছেন যে  বহু বছর পর ভোট দেওয়া গিয়েছে। সন্ত্রাস করে এবার ভোট করতে পারেনি তৃণমূল। সরকার বদলেছে। এই ডোমকলেই জয়ী হয়েছে সিপিআই(এম)। কিন্তু এবার লড়াই আলাদা।
সেই নতুন লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিল ডোমকল। সরকারে সদ্য আসীন হয়েই একদিকে বুলডোজার, আরেকদিকে সংখ্যালঘু মুসলিমদের লক্ষ্য করে সরকারি নির্দেশিকা জারি করেছে বিজেপি।  
মুস্তাফিজুর নিজে বলেছেন, এবার লড়াই আরএসএস-র বিরুদ্ধে, সম্প্রীতি রক্ষার দায়িত্ব বামপন্থীদের।
কেবল সিপিআই(এম) না, বিভিন্ন অংশের মানুষ ভোট দিয়েছেন। কংগ্রেস, তৃণমূল‌সহ অন্য দলের সমর্থকরা আমাদের ভোট দিয়েছেন।  
দায়িত্ব আমাদের বেড়েছে। বামফ্রন্ট সরকারের সময়ে দমকলের উন্নয়ন হয়। নেতৃত্বে দেন আনিসুর রহমান। কিন্তু তৃণমূল ডোমকলকে খুন সন্ত্রাস, কাটমানির এলাকা বানিয়েছিল।  
মোস্তাফিজুর ফের বলেন,  “একজনেও কাজ করা যায়। পুরো পার্টি, বহু গণ সংগঠন রাস্তায় তিনশো পঁয়ষট্টি দিন লড়াই করেছে। অভয়ার লড়াই আমরা করছি। এসএসসি থেকে প্রাইমারি স্কুল বন্ধের লড়াই আমরাই লড়েছি। সেই লড়াই তুলে ধরব বিধানসভায়।” 
তৃণমূলের উদ্দেশ্যে বলেন, ২৮ লাখ ভোট এবার আমাদের। আমরা চুরি দুর্নীতি করি না। তৃণমূলের ৮০ জন বিধায়ক । তবু ফলতায় প্রার্থী তুলে নিতে হচ্ছে। কোথায় পুষ্পা?” 
সমাবেশে যোগ দেওয়া জনতার উদ্বেগ খেয়ালে রেখে ডোমকলের বিধায়ক বলেছেন,
“ নির্বাচনের পর দায়িত্ব বেড়েছে। আরএসএস সঙ্গে আমাদের লড়াই। পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। বিজেপি মনে করে  মেরুকরণের কায়দায় হিন্দু ভোট এককাট্টা করবে। ফলে এই রাজনীতির মুখোশ খুলতে হবে।
ওরা খেটে খাওয়ার লড়াই করবে না। সেই লড়াই আমাদের করতে হবে। সম্প্রীতি রক্ষার দায়িত্বও আমাদেরই।
ঠিক সেই সুরেই সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক এবং পলিট ব্যুরো সদস্য মহম্মদ সেলিম বলেছেন সরকারি কর্মচারীদের উপর নিষেধাজ্ঞা জারির প্রসঙ্গ টেনেই। 
সেলিম বলেন, “
ভালো কাজ করলে সমালোচনা্ আটকানোর নিষেধাজ্ঞা জারি করত না। গণতন্ত্রের জন্য সরকারকে সমালোচনা শুনতে হয়, সেই ধক লাগে।”
ঈদুজ্জোহার মুখে পশুজবাই সংক্রান্ত নির্দেশিকা ঘিরেও বক্তব্য জানান সেলিম। তিনি বলেছেন, “কলকাতা হাইকোর্টৈ বামপন্থী আইনজীবীরা লড়ছেন। ১৯৫০ সালের আইনটিকেই ব্যাখ্যা করেছেন আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। ওই নির্দেশ বাতিল করতে হবে। 
তিনি বলেন, আইনের লড়াই যেমন থাকবে তেমনি রাস্তায় ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক মনোভাবের নাগরিকদের নিয়ে রাস্তায় নামা চলবে। তিনি সমাবেশে ব্যাখ্যা করেছেন যে আসলে বিপদে পড়ছেন দুই ধর্মেরই মানুষ। পশুপালনে যুক্ত দুই ধর্মেরই মানুষ বিপন্ন হচ্ছেন।

Comments :0

Login to leave a comment