চুঁচুড়া চাঁদনী ঘাটে গঙ্গায় মাছ ধরতে গিয়েছিল চক বাজারের দুই মৎসজীবি। মাঝ গঙ্গায় নৌকা নিয়ে জাল ফেলার সময় হঠাৎ ঝড় ওঠে। নৌকা উল্টে যায়। অমিত মন্ডল ও খোকন মন্ডল নামে দুই মৎস জীবি গঙ্গায় পরে যায়। খোকন সাঁতরে পারে উঠতে পারলেও অমিত তলিয়ে যায়। ঝড় বৃষ্টি থামলে তল্লাশি শুরু হয়। বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী তল্লাশিতে নামে। স্থানীয় কাউন্সিলর ঝন্টু বিশ্বাস বলেন, চকবাজার এলাকায় মৎস জীবীদের বাস। তারা মূলত গঙ্গায় মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। আজকে ঝড় ওঠার আগে দুজন একটি ডিঙি নৌকা নিয়ে গঙ্গায় মাছ ধরছিল। হঠাৎ করে ঝড় আসায় নৌকা উল্টে যায়। অমিত মন্ডল গঙ্গায় তলিয়ে যান। স্থানীয় মৎসজীবীরা গঙ্গায় নেমে তল্লাশি শুরু করে। পরে বিপর্যয় মোকাবেলা বাহিনী আসে। শুক্রবার আধ ঘন্টার ঝড়ে লণ্ডভন্ড কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলা। সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়ের গতিতে এদিন কল্লোলিনী দাপিয়ে বেড়ালো ঝড়। কলকাতায় সর্বোচ্চ সেই ঝড়ের গতিবেগ ঘন্টায় ৮৮ কিলোমিটার ছুঁয়ে ফেললো। কালবৈশাখীর সর্বোচ্চ গতিকে পিছনে ফেলে এদিনের ঝড়ের দাপট দক্ষিণবঙ্গের সব জেলায় ভাঙচুর চালালো। ঝড়ের দাপটে ও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে রাজ্যে মোট ৭জনের মৃত্যু হয়েছে। কলকাতাতেই ২জনের মৃত্যু হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগণার দমদমে এদিনের ঝড়ের দাপট সর্বোচ্চ ছিলো ঘন্টায় ৭৪ কিলোমিটার। কালবৈশাখীর গড় বেগ ৫৬ কিলোমিটার থেকে অনেক বেশি গতিতে হঠাৎই মারাত্মক রূপ নিলো অসময়ের ঘূর্ণিঝড়। তীব্র ঝোড়ো বাতাস এদিন বেশিক্ষণ টেকেনি, না হলে আরো খারাপ পরিণতি হতে পারতো শহর কলকাতার। কলকাতার সঙ্গে এদিন ভালো বৃষ্টি হয়েছে হাওড়া ও হুগলিতে। ওই দুই জেলায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার গতিবেগে ঝড়ের সঙ্গে বৃষ্টি হতে দেখা গেছে। ঝড়ের দেখা মিলেছে পূর্ব বর্ধমান, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রামে। ওই জেলায় জারি হয়েছে লাল সতর্কতা। হুগলীর সিঙ্গুরের দিয়াড়াতে ১২ নম্বর রাজ্য সড়কে গাছ পড়ে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। ঝোড়ো হাওয়ার দাপটে বৈদ্যবাটি-তারকেশ্বর ১২নম্বর রাজ্য সড়কের উপর গাছ উপড়ে পড়ায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। ফলে সেই রাস্তা দিয়ে গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে এদিন রাত পর্যন্ত কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি নিখোঁজ মৎজীবীর।
Boat Capsizes
ঝড়ে নৌকা উল্টে নিখোঁজ মৎস্যজীবী
ছবি- অভীক ঘোষ।
×
Comments :0