জল-জীবন মিশন প্রকল্পের পাম্প হাউস ও ওভারহেড রিজার্ভার গড়তে জমি বাছাইয়ের "সয়েল টেস্টে " পাশ করেছিল শুধু তৃণমূল নেতাদের জমিই! কোচবিহার জেলার ১২৮ গ্রাম পঞ্চায়েতেই এরকম ঘটনা ঘটেছে!
ঘরে ঘরে পরিস্রুত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার জন্য "জল-জীবন মিশন" প্রকল্পের আওতায় কোচবিহার জেলায় যে প্রকল্প চলছে সেখানেও "লাভের গুড় খেয়েছে" তৃণমূলের নেতারা! জেলার ১২৮ টি গ্রাম পঞ্চায়েতের সর্বত্র, প্রকল্পের পাম্প হাউস, ওভারহেড রিজার্ভার হয়েছে তৃণমূল নেতাদের জমিতে!
অবস্থা এমন জায়গায় গেছে, যে শুধু মাত্র এলাকার দাপুটে তৃণমূল নেতার জমিতেই পাম্প হাউস ও ওভারহেড রিজার্ভার গড়ার জন্য ডিপিআরের নকশাকেও বদলে নিয়েছে জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তর!
অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের নেতারা নিজেদের চাষের জমির সামান্য অংশ দপ্তরকে দিয়ে বিনিময়ে পরিবারের একজন সদস্যের পাম্প অপারেটর পদে কাজকে সুনিশ্চিত করে নিয়েছে শাসক দলের নেতারা।
উল্লেখ্য এই প্রকল্পে পাম্প হাউস আর ওভার হেড রিজার্ভারের জমি স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতকেই যোগাড় করে দিতে হয়। জমির জন্য আলাদা করে স্কীমে কোন টাকা বরাদ্দ নেই। গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান তৃণমূলের। আর অলিখিত নিয়ম ছিল জমিদাতার পরিবারের এলজন হবে পাম্প অপারেটর! ফলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিজের আত্মীয় বা দলের কারুর জমি দিয়ে একজনের কর্মসংস্থান করে নেওয়াই ছিল এতদিনের রেওয়াজ!
মাথাভাঙার নয়ারহাট গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় চার বছর আগে পাণিগ্রাম মৌজায় তৎকালীন গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান মহেশ বর্মনের জমিতেই গড়ে উঠেছে পাম্পহাউস। যদিও এখনও পুরোপুরি পানীয় জলের পরিষেবা চালু হয় নি।কিন্তু পাম্প চালানো ও দেখাশোনার জন্য দুজন নিয়োগ হয়েছে। যারা ঠিকাদারের মাধ্যমে বেতনও পাচ্ছে।
একই ভাবে শিকারপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল নেতা গজেন বর্মনের জমিতে পাম্প বসানোর কাজ শেষ। আরেক নেতা আজিজুল মিয়ার জমিতে পাম্প আর ওভারহেড রিজার্ভার বসানোর কাজ চলছে। এখানেও তাদের পরিবারের কেউই পাম্প অপারেটর হবে সেটা নিশ্চিত হয়ে আছে।
বৈরাগীহাট গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় তৃণমূল নেতা মন্টু রঞ্জন সরকারের পরিবারের জমিতে জলাধার তৈরির কাজ চলছে জোরকদমে।
একই ভাবে গোপালপুর ও হাজরাহাট -২ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকাতেও দুই তৃণমূল নেতার জমিতে প্রকল্প গড়ে উঠেছে।
বেছে বেছে কেন তৃণমূল নেতাদের জমিতেই উচ্চ জলাধার ও পাম্প হল? গ্রামে কি আর স্বেচ্ছায় জমিদাতা ছিল না? এই প্রশ্নের উত্তরের পেছনে লুকিয়ে আছে সেই কর্মসংস্থানের গল্প। নয়ারহাটের শিক্ষিত যুবক অমূল্য বর্মন বলেন, আমাদের এলাকায় যখন পাম্প বসানোর জন্য জায়গা চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়, তখন খবর পেয়ে আমি প্রধান ও তৃণমূল নেতাদের গিয়ে বলেছিলাম আমি এমএ -বিএড করেও কাজ পাই নি। টিউশনি করে সংসার চালাই। আমার জমিতে পাম্প বসলে অন্তত পাম্প অপারেটরের কাজ পাবো। আমার কথা কেউ শোনে নি।পাম্প বসেছে তৃণমূলের নেতার জমিতে। গত ১৫ বছরে যেখানে যতটুকু কাজের সুযোগ হয়েছে সবটাই ওরা খেয়ে নিয়েছে।
যদিও জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তর সূত্রে বলা হয়েছে, প্রকল্পের নকশার ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট এলাকায় উপযুক্ত জমির খোঁজ শুরু হয়। এক এলাকায় একাধিক জমি বাছাই করে সেই জমির "সয়েল টেস্টিং" করেই জমি চূড়ান্ত করা হয়েছে।
অবাক হবার মত বিষয় এটাই, জেলার জল- জীবন মিশন প্রকল্পে ১২৮ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় শুধু মাত্র তৃণমূল নেতাদের জমিই সয়েল টেস্টে পাশ করে গেছে? এই প্রকল্প করতে৷ গিয়েও তৃণমূলের গ্রামের নেতারা নিজের আখের ভালো ভাবেই গুছিয়ে নিয়েছে সেটাই স্পষ্ট।
Jal Jeevan Mission project in Cooch Behar
কোচবিহারে জল- জীবন মিশন প্রকল্প শুধু মাত্র তৃণমূল নেতাদের জমিতেই, উঠছে প্রশ্ন
×
Comments :0