MD SELIM

মানুষের অধিকার পুনরুদ্ধারের জন্য বাংলায় বামপন্থার পুনর্জাগরণ করতে হবে, পশ্চিম মেদিনীপুরে সেলিম

রাজ্য জেলা

চিন্ময় কর

চোর চোরকে ধরছে না। বিজেপি তৃণমূল কেউ কাউকে জব্দ করছে না। জব্দ হয়েছে বাংলার মানুষ। আবার নতুন করে ৬০ লক্ষ ভোটারকে বিবেচনাধীন তালিকায় রেখে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র। আরএসএস'র এজেন্ডা কার্যকর করছে নির্যাতন এজেন্সি, তাতে তৃণমূল ও বিজেপি কার্যকলাপ প্রমান করেছে সেটিং এর রাজনীতি। আমাদের এখন এনিয়ে একটাই দাবী আগে ভোটার তারপর ভোট। সেই তালিকা দিতে না পারলে ঠিকমতো ভোটও নিতে পারবে না। হিয়ারিং-এ যাদের ডাকা হয়েছিল, অন্যায়ভাবে ডাকা হয়েছিল। লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি আমরা মানছি না। মানুষের অধিকার পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে বাংলায় বামপন্থার পুনর্জাগরণ করতে হবে মানুষকেই একজোট করেই। সেই লড়াইতে সিপিআই(এম)কেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। শনিবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ডেবরা  এবং দাসপুর বিধানসভা কেন্দ্রের পার্টি কর্মীদের কর্মী সভায় একথা তুলে ধরেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম।

শনিবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সকালে  ডেবরা বিধানসভা ও বিকালে দাসপুর বিধানসভা দুই কেন্দ্রের সিপিআই(এম) কর্মীদের নিয়ে নির্বাচনী কর্মীসভা সংগঠিত হয়। দুইটি সভাতেই বক্তব্য রাখেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সম্পাদক বিজয় পাল। ডেবরার সভায় বক্তব্য রাখেন সিপিআই(এম) পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য প্রানকৃষ্ণ মন্ডল, সভাপতিত্ব করেন সুমিত অধিকারী। দাসপুর কেন্দ্রের সোনাখালি অডিটোরিয়ামে সভায় বক্তব্য রাখেন সিপিআই(এম) পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য সমর মুখার্জি এবং সভাপতিত্ব করেন শান্তনু চক্রবর্তী।

সেলিম বলেন, "যিনি ফাইল ছিনতাই করলো, যার বান্ধবীর ঘাটের তলা থেকে চাকরি বিক্রির টাকা উদ্ধার হলো, কয়লা, বালি, সোনা পাচার, কাকুর গোলার স্বর মিল খুঁজে পেলো, আবার ভোটের সময় ইডি সিবিআই এর চোর পুলিশ খেলা, তাদের বিচার না করে ছেড়ে দিয়ে এখন ভোটারকে বিচারাধীন রেখে গণতন্ত্রকে সংকুচিত করা হচ্ছে।"

সেলিমের কথায়, "আমরা শুধু বিজেপি তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়ছি না। ফ্যাসিবাদী শক্তি, দক্ষিনপন্থার বিরুদ্ধে লড়াই করছি। কারণ বামপন্থা মানে রুটি রুজির দাবী, খাদ্য বস্ত্র ও বাসস্থানের মাটির লড়াই। ওরা সেটা চায় না। ওরা জানে দক্ষিনপন্থার উত্থান সম্ভব নয় যদি না বামপন্থীদের দমানো যায়। তাই আমদানি করা ব্রিটিশের  সেই বিভাজনের রাজনীতি, ধর্মীয় মেরুকরণের মৌলবাদী জিগির। দাঙ্গা হাঙ্গামার রাজনীতিতে মানুষকে বিচ্ছিন্ন করে চলেছে লুঠের রাজনীতি। বর্গাদার পাট্টাদার উচ্ছেদ। পঞ্চায়েত দখল করে লুঠ, শিক্ষা স্বাস্থ্য কর্মসংস্থান সবেতেই সংকোট নামিয়ে এনেছে। আর আমরা এর বিরুদ্ধে হাজির করেছি বিকল্প।

মহম্মদ সেলিম এদিন বলেছেন, "সিপিআই(এম) ও বামশক্তিকে মজবুত করতে না পারলে শ্রেণী আন্দোলন ও শ্রেণী সংগ্রামকে বিকশিত করা সম্ভব নয়।  শুধু বামফ্রন্ট নয় বামফ্রন্টের বাইরে যে বাম শক্তি আছে, ব্যাক্তি, গোষ্ঠী, দল তাদেরও সঙ্গে নিতে হবে এবং সম্পর্ক স্থাপন করতে হবে। লড়াইয়ের বৃত্তকে বড় করে বৃহত্তর বাম ঐক্য গড়ে তুলতে আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি। বামফ্রন্ট আমলে দুর্বল পরিবারকে রক্ষা কবচ হিসাবে অনুদান চালু করি। এখন মমতা অনুদান কেনো দিচ্ছে। তিনি ডবল ডবল চাকরি, এমনকি দুই কোটী বেকারের চাকরি দিয়েছে বলে ঘোষনা করেন । আগের যুবশ্রী প্রকল্প কোথায় গেলো। ঘরে ঘরে সংকোট, শিক্ষা স্বাস্থ্যে নৈরাজ্য,গ্রামে গ্রামে কাজের আকালে পরিযায়ীর গড় হয়েছে। আর রাজ্যে যে হারে মহিলা নির্যাতন, ধর্যণ ঘটনায় জর্জরিত দোষীদের আড়াল করে।"


তিনি বলেন, "রাজ্যে পরিবর্তনের পর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, ব্যবসা, বাণিজ্য, পরিবেশ সব ধ্বংস হয়েছে। বামপন্থা, গণতন্ত্র ও রাজ্য আক্রান্ত। এই মেদিনীপুর রক্তাক্ত হয়েছে। দেশী বিদেশী  অর্থ আর আর এস এস মমতা কে দুর্গা বানিয়ে মাওবাদী ভাড়া করে বামপন্থা কে খতম করার মরিয়া চেষ্টা চালিয়েছে। তৃণমূলের শুভেন্দু ঘোষনা করেছিলো জঙ্গলমহলে লাল ঝান্ডার ধরার লোকতো দূরের কথা, লাল কাপড়ের টুকরোও দেখা মিলবে না। আর তৃণমূলী শুভেন্দু তৃণমূলের পতাকাকে ন্যাকড়া করে বিজেপিতে চলে গেছে দূর্নীতি ও জেলের বন্দীর ভয়ে।"

এদিন বিজয় পাল বলেছেন, "বাইনারিকে ধরে রাখতে আরএসএস-বিজেপি, তৃণমূল এক হয়ে প্রবল চেষ্টা করছে। বিজেপি-তৃণমূলের মধ্যে বোঝাপড়া মানুষের ভাবনার মধ্যে চলে এসেছে। তাই ওদের মধ্যে প্রার্থী অদল বদল হয়। যাহা তৃণমূল ও তাহাই বিজেপি। ১০০ দিনের কাজ বন্ধ, জমির উপর হামলা,কর্মসংস্থান নেই, বেকারী নিয়ে এদের কথা নেই। দুটো দলের চরিত্রই এক। বাংলায় তৃণমূলের লুঠের রাজত্ব দখল করে ওরাও লুঠে খেতে উদগ্রীব।"

 

Comments :0

Login to leave a comment