MUKTADHARA | UTSAV 1433 | POETRY | BIVRAT | KRITIKA BHATTACHARYYA | 28 OCTOBER 2026 | 4th YEAR

মুক্তধারা | উৎসব ১৪৩৩ | কবিতা | বিভ্রাট | কৃত্তিকা ভট্টাচার্য্য | ২৮ অক্টোবর ২০২৬ | ৪র্থ বর্ষ

নতুনপাতা/মুক্তধারা

MUKTADHARA  UTSAV 1433  POETRY  BIVRAT  KRITIKA BHATTACHARYYA  28 OCTOBER 2026  4th YEAR

মুক্তধারা

উৎসব ১৪৩৩

কবিতা

বিভ্রাট : কৃত্তিকা ভট্টাচার্য্য

২৮ অক্টোবর ২০২৬ -  ৪র্থ বর্ষ

রাস্তার পাশে সদ্য জন্মানো ছোট্ট পাতাটি, 
সবে তার চোখ মেলেছিল গগনপ্রান্তে।
একি শোভা! আলো, জল,  বায়ু, প্রাণের আনন্দে মেতেছিল তার মন। 
দেবতার ঘরে সেদিনের দীপ তার দ্বীপান্তরে বন্দিনী ছিল,
সেদিন তাই দেবতার তুলি কলম তার পাশেই রয়ে গেল,
চিত্রগুপ্ত ও তাই লিখলেন না পাতার বিবর্তন কাহিনী। 
হঠাৎ গগন ঝাঁপিয়ে বারি ফিরে এলো তার জন্মভূমিতে। 
(চিত্রপট নিস্তব্ধ)
চিরায়ত কাল যার আগমনে হৃদয়ে কাঁপে, 
সেই বজ্র এসে আঘাত করল ছোট্ট পাতাটিকে।
যে নির্মম সত্যকে দেবদারু তার শেষ ঋতুতে দেখতে পায়,
পাতাটি তার সৃষ্টির ঠিক মুখেই দেখতে পেল। 
(চিত্রপট পরিবর্তন)
দেবতার ঘরে আলোয় জ্বলজ্বল করছে বিরাট এক ঝাড়বাতি,
স্তিমিত আলোতে একছড়া গাদার দড়ি,
তার সূক্ষ্ম উপস্থিতি বুঝিয়ে দিচ্ছিল তার শরীরের হালকা ওয়াচ স্থির গন্ধ।
ঝাড়বাতির একটি পিদিম ছাড়া জেগে ছিল না নিশির সোম তারাও,
বিপ্লব হঠাৎ গগন ঝাঁপিয়ে আছড়ে পড়ল ঝাড়বাতির উপর,
সুতোর মায়ায় সে বাঁধা , পারল না পালাতে,
সুতোর গাঁথুনির ফাঁকে কিছু ফুলের কেবল শ্বাস নেওয়ার অধিকার ছিল,
আগামীদিন অরুণ আভায় তারও ঠাই হল মৃতের ভিড়ে। 
(চিত্র মূল) 
সভ্যতা চিরায়ত কাল থেকে ভাসিয়ে আনে সেই এক প্রথা,
যার পদতলে ক্ষুদ্র পাতা বা ছোট গাদার ফুল,
এক ভাবে পদদলিত হয় ,
পাহাড় প্রমাণ অহংকারের সামনে। 
সে অহংকারে সোনালী চকচকে ধাতু বুঝিয়ে যায় মানের দাম।
মানবতা বা মন সেখানে আকশি গাঁথে না,
শোনেনা ছোট পাতার কোলাহল, 
কিংবা মালার নির্ভেজাল মায়া।
চাকচিকনের চালচিত্র তাই সবার অনলে লুকিয়ে রাখে তার অবিন্যস্ত রাঙ্গতাগুলো।
(চিত্র বিক্ষেপ)
পাতার জন্মই ঠিক করে দেয় তার অবসানের দিন, ক্ষণ।
বনের পাতার মৃত্য দুর্ভাগ্যবশে জন্ম মুহূর্তে হলেও, 
পথের পাতার মৃত্য জন্ম মুহূর্তে লিখিত হয় থাকে চিত্রগুপ্তের খাতায়। 
তার কর্মের কোন ভার চিত্রগুপ্ত দেয় না। 
মুক্তমনা পাতার জন্ম তার মুক্তির স্বাদে,
আর মৃত্যু তার আকস্মিক আঘাতে লিখিত । 
মালার ভারী অদ্ভুত মায়া,
গাদা ফুলের মৃত্যু তার সাথে তার গাছের বিচ্ছেদেই হয়েছিল,
সে বোঝেনি, কারণ নিতান্ত অবোধ তারা,
সূচের তীক্ষ্ণ শলাকার মধ্যে বিঁধেও,
তারা ভেবেছিল মুক্তির স্বাদ বুঝি সুতোর বাঁধনে। 
(চিত্র নিক্ষেপ)
জন্ম মুহূর্ত পূর্বে একটি দৃশ্য থেকে পাতাটি অনবহিত ছিল,
সেদিনের সূর্যের প্রথম কিরণে উপড়ে ফেলে দেওয়া হয়েছিল তার সহোদর প্রাণকেও,
চিৎকারের অবকাশ পায়নি তারাও।
কিংবা,
ফুলের মালার ওই অবস্থান ছিলই, 
আগামীকালের ভ্যাটের গাড়িতে যাবে বলেই। 
মাঝে কেবল ঝাড়বাতির আহুতি হয়েছিল অনাহুত ভাবে। 
কালের নিয়মে গল্পের শেষে দেবদারু থেকে পথের পাশের পাতা,
শেষ কালিতে গল্প গুলো একই ছক কষে চলে,
দিনের পর দিন রাতের পর রাত। 
শেষ বলতে ইতি,
তা কেবল কলমের কালির শেষ বিন্দু টানে।

Comments :0

Login to leave a comment