Indranil Sen

গ্রেপ্তার রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন

রাজ্য

সিজিও কমপ্লেক্স থেকে বাইরে আসার সাথে সাথেই রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে গ্রেপ্তার করলো কলকাতা পুলিশ। দূর্গা পুজোর পাস নিয়ে যেই দুর্নীতি সামনে এসেছিল সেই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে ইন্দ্রনীলকে। বউবাজার থানায় তার বিরুদ্ধে দায়ের করা হয় অভিযোগ। তারপর মামলা সরাসরি যায় লালবাজারের হাতে। অবিযোগ বার বার তাকে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও হাজিরা দেননি রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী। নোটিশ পাঠালে তা গ্রহনও করেননি। 
রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুপ্রিম কোর্ট এবং কলকাতা হাইকোর্টের রক্ষা কবচ চেয়ে আবেদন করেন। কিন্তু আদালত তার আবেদন শোনেনি।
দুর্গাপুজোর পাস বিক্রিতে আর্থিক অনিয়ম ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগের তদন্তে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের কলকাতা, হুগলী সহ ১৫টি ঠিকানায় মঙ্গলবার একযোগে তল্লাশি চালিয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। কসবা ও হিন্দুস্তান পার্কের বাড়ি থেকে সিঙ্গুরের বাগানবাড়ি, ইন্দ্রনীলের সংস্থার অফিস এবং ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তির বাড়িতেও অভিযান চলে।
ইউনেস্কোর নাম ও লোগো ব্যবহার করে কলকাতার দুর্গাপুজোর ‘পুজো পরিক্রমা’র পাস বিক্রির মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের টাকা তোলার অভিযোগ রয়েছে ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর সঙ্গে যুক্ত একটি সংস্থার বিরুদ্ধে। সেই টাকার উৎস, কোথায় খরচ হয়েছে, কারও কাছে পৌঁছেছে কি না এবং অন্যত্র বিনিয়োগ করা হয়েছিল কি না এই আর্থিক লেনদেনের সূত্রই খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। 
ঘটনার সূত্রপাত গত বছর জুনে। বৌবাজার থানায় ইন্দ্রনীল সেন, তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেন এবং তাঁদের সংস্থা ‘মাস আর্ট’-এর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করেন জয়দীপ মুখোপাধ্যায়। অভিযোগ, ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার করে বিদেশিদের কাছে কলকাতার কয়েকটি দুর্গাপুজোর পাস বিক্রি করা হয়েছিল। সংস্থাটি ইউনেস্কোর ‘পার্টনার’ বলে দাবি করলেও সেই দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
২০২১ সালে কলকাতার দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর ‘ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ’-এর স্বীকৃতি পায়। অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, সেই স্বীকৃতির নাম ব্যবহার করে পাস বিক্রির মাধ্যমে প্রায় ১০০ কোটি টাকা তোলা হয়েছিল। এই অর্থের প্রকৃত পরিমাণ এবং লেনদেনের গতিপথই এখন ইডির তদন্তের অন্যতম বিষয়।

Comments :0

Login to leave a comment