Dhupguri

নাবালক ছেলের অস্ত্রের কোপে মৃত মা, আশঙ্কাজনক বাবা সহ আরও ৩

জেলা

ভরসন্ধ্যায় পারিবারিক নৃসংসতার সাক্ষী থাকল ধূপগুড়ি। নাবালক ছেলের ধারালো অস্ত্রের এলোপাথাড়ি কোপে প্রাণ হারালেন মা। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন বাবা, জ্যেঠিমা ও জ্যেঠতুতো বোন। সোমবার সন্ধ্যায় এই রক্তক্ষয়ী ঘটনাটি ঘটেছে ধূপগুড়ি ব্লকের গাদং ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের জুড়াপানি স্কুল সংলগ্ন এলাকায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জুড়াপানি এলাকার বাসিন্দা নেপাল সরকারের ছেলে রনিত সরকার দশম শ্রেণির ছাত্র। অভিযোগ, সোমবার সন্ধ্যায় আচমকাই সে বাড়িতে ঢুকে ধারালো অস্ত্র নিয়ে পরিবারের সদস্যদের ওপর চড়াও হয় এবং এলোপাথাড়ি কোপাতে শুরু করে। প্রথমে সে নিজের মা ও বাবাকে লক্ষ্য করে কোপ মারে। তাঁদের চিৎকার শুনে বাঁচাতে ছুটে আসেন জ্যেঠিমা সন্ধ্যা সরকার এবং জ্যেঠতুতো বোন প্রিয়াঙ্কা সরকার। উন্মত্ত নাবালক তাঁদেরও রেয়াত করেনি; ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁদের ওপরও নৃশংস হামলা চালায়।
পরিবারের সদস্যদের আর্তনাদ শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এলে হামলাকারী রনিত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। স্থানীয় বাসিন্দারা রক্তাক্ত চারজনকে উদ্ধার করে দ্রুত ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা মা দিপালী সরকারকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। বাবা নেপাল সরকারের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে তড়িঘড়ি জলপাইগুড়ি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, জ্যেঠিমা ও জ্যেঠতুতো বোনকে প্রথমে ফালাকাটা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও, শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় দুজনকেই চিকিৎসকরা শিলিগুড়িতে রেফার করেছেন।
এদিকে চারজনকে কুপিয়ে বাইক নিয়ে পালানোর চেষ্টা করার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে যায় রনিত। খবর পেয়ে ধূপগুড়ি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে আসে। জানা গেছে, ঘটনার পরই ওই নাবালক বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকেও পুলিশি নজরদারিতে জলপাইগুড়ি মেডিকেল কলেজে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
ঠিক কী কারণে একজন দশম শ্রেণির ছাত্র নিজের পরিবারের ওপর এমন মারাত্মক ও প্রাণঘাতী হামলা চালাল, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। ঘটনার খবর পেয়েই ধূপগুড়ি থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থল এবং হাসপাতালে পৌঁছায়। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পেছনে কোনো মানসিক অবসাদ, পারিবারিক বিবাদ নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ ইতিমধ্যেই পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে।

Comments :0

Login to leave a comment