কালিম্পঙ, দার্জিলিঙ এবং পাহাড়ের অন্যান্য অঞ্চল সহ জলপাইগুড়ির মিউনিসিপালিটির জঞ্জাল সমূহ বহন করে নিয়ে এসে শিলিগুড়ি পৌর কর্পোরেশনের ডাম্পিং গ্রাউন্ডে নিক্ষেপ করার সাম্প্রতিককালে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রীর প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধীতা করলেন সিপিআই(এম)’র পরিষদীয় দলনেতা মুন্সি নুরুল ইসলাম। শুক্রবার দুপুরে শিলিগুড়ি অনিল বিশ্বাস ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করেন তিনি। বৈঠকে ছিলেন সিপিআই(এম) কাউন্সিলার দীপ্ত কর্মকার।
ওয়েষ্ট বেঙ্গল মিউনিসিপ্যাল অ্যাক্টের বিভিন্ন আইনের ধারা উল্লেখ করে নুরুল ইসলাম বলেছেন, সংবিধান স্বীকৃত সংস্থা শিলিগুড়ি পৌর কর্পোরেশন। কিন্তু শিলিগুড়ি পৌর বোর্ডের মেয়র নাকি এবিষয়ে কিছুই জানেন না। কর্পোরেশনকে বাদ দিয়ে কিভাবে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো? এই সিদ্ধান্তের সাথে শহরের পরিবেশ, পানীয় জল, শিলিগুড়ির আট থেকে দশ লক্ষ মানুষ ও শিশুদের জীবন যুক্ত। শহরের এক নম্বর নাগরিক, মহানাগরিক শিলিগুড়ি শহরের মেয়র। তার কোন প্রতিবাদ নেই। তিনি মুখে সেলোটেপ লাগিয়ে বসে আছেন। এবিষয়ে রাজ্য সরকারকে কেন চিঠি দেবেন না মেয়র এই প্রশ্ন তুলে বলেন, রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তের সাথে সিপিআই(এম) কোনভাবেই সহমত পোষন করছে না। এই সামগ্রিক বিষয় নিয়ে আগামীদিন প্রচার আন্দোলন, নাগরিক সচেতনতা গড়ে তুলতে নাগরিক সভা করা হবে। এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, শিলিগুড়ির মন্ত্রীর কাছে দাবি জানানোর পাশাপাশি শিলিগুড়িকে রক্ষা করতে রাজ্য সরকারি সিদ্ধান্তের পুনর্বিবেচনা করার দাবিতে রাজনীতির উর্দ্ধের উঠে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
পরিষদীয় দলনেতা বলেন, ভারতবর্ষের দেশগুলির মধ্যে শিলিগুড়ি দ্রুত বেড়ে ওঠা অন্যতম একটি বানিজ্যিক শহর। প্রায় ৮লক্ষাধিক মানুষ শিলিগুড়ি শহরে বসবাস করেন। শিলিগুড়ি গ্রামাঞ্চল পঞ্চায়েত এলাকায় আরো লক্ষ মানুষের বসবাস। এছাড়াও প্রতিনিয়ত শিলিগুড়ি শহরে পর্যটক থেকে শুরু করে বিভিন্ন কাজের সূত্রে, ব্যবসাসয়িক প্রয়োজনে আরো দেড় লক্ষ মানুষ যাতায়াত করে থাকেন। পশ্চিমবঙ্গে সরকারের রেভিনিউ আদায়ের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে শিলিগুড়ি শহর। ১৯৯৪সালে জনসংখ্যা বৃদ্ধিজনিত কারনে মিউনিসিপালিটি থেকে মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন রূপান্তরিত হয়। ১৫বর্গকিমি এলাকা বেড়ে দাঁড়ায় ৪২.২বর্গ কিমি এলাকা। জনসংখ্যা প্রায় দ্বিগুন বেড়ে যায়। শহরের আশপাশ এলাকায় মেডিকেল কলেজ, রেগুলেটেড মার্কেট, নার্সিংহোম, হোটেল গড়ে উঠেছে। শুধু তাই নয়, শিলিগুড়ি ডাম্পিং গ্রাউন্ড থেকে কয়েক কিমি দূরত্বের মধ্যেই বেশ কয়েকটি বড় স্কুল রয়েছে। বর্ষার সময় ডাম্পিং গ্রাউন্ডের নোংরা জল আশপাশ জনবসতি এলাকার কুয়োর জল দূষিত করে তোলে। ইতোমধ্যেই জলপাইগুড়ি মিউনিসিপালিটি থেকে জঞ্জাল এনে এখানে ফেলা শুরু হয়ে গেছে।
আরো বলেন, ১৯৫৭ সালে ডাম্পিং গ্রাউন্ডের এই জমিটি শিলিগুড়ি কর্পোরেশন কেনে। এরপর থেকেই প্রথমে শিলিগুড়ি মিউনিসিপালিটি ও পরবর্তীতে শিলিগুড়ি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের বর্ধিত এলাকার সমস্ত জঞ্জাল স্তূপীকৃত হলেও, সেই জঞ্জাল প্রক্রিয়াকরনের কোন ব্যবস্থা ছিলো না। ২০২০সালে অশোক ভট্টাচার্যের মেয়র থাকাকলীন সময়ে বায়ো মাইনিং—র উদ্যোগ গ্রহনের মধ্য দিয়ে জঞ্জাল অপসারন এবং ডাম্পিং গ্রাউন্ডকে পরিষ্কারের পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়। প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হয়েছে বিগত বামফ্রন্ট পরিচালিত শিলিগুড়ি পৌর বোর্ডের সময়কালে। বর্তমান তৃণমূল বোর্ডের সময়ে দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শুরু হলেও সেই কাজ অত্যন্ত ধীর গতিতে চলেছে। এমনিতেই শিলিগুড়িতে প্রতিদিন ৩৫০থেকে ৪০০মেট্রিকটন জঞ্জাল তৈরী হয়। এখন নতুন করে পাহাড় সহ জলপাইগুড়ি থেকে নোংরা এখানে এনে ফেলা হলে জঞ্জালের যে পাহাড় গড়ে উঠবে তার ফলে শিলিগুড়ির পরিবেশ, জল, আবহাওয়া দূষনের মাত্রা বাড়বে। এসব কোনকিছুই চিন্তা না করেই সমস্ত জঞ্জাল শিলিগুড়িতে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
CPI-M Siliguri
শিলিগুড়ির ডাম্পিং গ্রাউন্ডে জঞ্জাল ফেলার তীব্র বিরোধীতা
×
Comments :0