জলদাপাড়ার জঙ্গলে হাতির জন্য পাতা সংগ্রহ করতে গিয়ে গন্ডারের অতর্কিত আক্রমণে মৃত্যু হলো এক তরুণ চুক্তিশ্রমিকের। মৃত যুবকের নাম প্রবীর দাস(২৬)। তিনি আলিপুরদুয়ার জেলার ফালাকাটা ব্লকের খাউচাঁদপাড়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় গোটা এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার পর থেকেই বনকর্মীদের নিরাপত্তা এবং জঙ্গলে কাজের ঝুঁকি নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
বনদপ্তর ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রবীর দাস গত প্রায় আট মাস ধরে জলদাপাড়া বনদপ্তরের অধীনে দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে হাতির ‘পাতাওয়ালা’ হিসেবে কাজ করছিলেন। প্রতিদিনের মতোই সোমবার বিকেলে দুটি হাতির পিঠে চেপে চারজন মাহুত ও পাতাওয়ালা জলদাপাড়ার জঙ্গলে হাতিদের জন্য পাতা সংগ্রহ করতে যান।
পাতা সংগ্রহ শেষে ফেরার পথে ঘটে সেই বিপত্তি। গভীর জঙ্গল থেকে বেরোনোর সময় আচমকাই একটি বুনো গন্ডার দলটির ওপর চড়াও হয়। গন্ডারটি মূলত অপেক্ষাকৃত ছোট হাতিটিকে লক্ষ্য করে আক্রমণ চালায়। বুনো জানোয়ারের এমন আকস্মিক ও হিংস্র আক্রমণে হাতিটি ভয় পেয়ে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। তীব্র ঝাঁকুনিতে হাতির পিঠ থেকে ছিটকে মাটিতে পড়ে যান প্রবীর দাস। গন্ডারের আঘাত এবং নিচে পড়ে যাওয়ার ফলে তিনি গুরুতর জখম হন।
সহকর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দ্রুত জখম প্রবীরকে উদ্ধার করেন। জঙ্গল থেকে বের করে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা প্রবীরকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়েই হাসপাতালে ছুটে আসেন প্রবীরের পরিবারের সদস্যরা। অভাবী পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম যুবকের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁরা। এলাকায় নেমে আসে শোকের স্তব্ধতা।
এই মর্মান্তিক ঘটনা প্রসঙ্গে জলদাপাড়া বনদপ্তরের এক পদস্থ আধিকারিক বলেন, "এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। আমরা গভীরভাবে শোকাহত। মৃতের পরিবারের পাশে বনদপ্তর সবসময় রয়েছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সমস্ত রকম আর্থিক ও অন্যান্য সহযোগিতা করা হবে।"
তবে বন এলাকাগুলির শ্রমিকদের একাংশের বক্তব্য, জঙ্গলের ভেতরে কাজ করার ক্ষেত্রে পাতাওয়ালা বা অস্থায়ী কর্মীদের জীবনের ঝুঁকি প্রতিনিয়ত বাড়ছে। তাঁদের উপযুক্ত সুরক্ষাকবচ ও ক্ষতিপূরণের স্থায়ী বন্দোবস্ত করা দরকার।
Rhino Attack
জলদাপাড়ায় হাতির পিঠে পাতা সংগ্রহ করতে গিয়ে গন্ডারের আক্রমণে তরুণ বনকর্মীর মৃত্যু
কাঁন্নায় ভেঙে পড়েছে মৃত বন কর্মীর পরিবার।
×
Comments :0