ডাবগ্রাম ২ নম্বর পঞ্চায়েত এলাকার বারিভাষাতে দীর্ঘদিনের সিপিআই(এম)'র দলীয় কার্যালয় বিজেপি'র দখল করার ঘটনার তীব্র ধিক্কার জানালেন সিপিআই(এম) নেতৃবৃন্দ। বৃহস্পতিবার দুপুরে সিপিআই(এম) দার্জিলিঙ জেলা কমিটির পক্ষ থেকে অনিল বিশ্বাস ভবনে সাংবাদিক সম্মেলন করে সিপিআই(এম) নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, ডাবগ্রাম ফুলবাড়ির বিধায়িকা শিখা চ্যাটার্জির নেতৃত্বেই এই ধরনের দখলদারির ঘটনা ও থ্রেট কালচারের ঘটনা ঘটছে। শুধু তাই নয়, পার্টিদপ্তর দখলের পুরো ঘটনা জানিয়ে এনজেপি পুলিশ স্টেশনে এফআইআর করা হলেও, এখনও পর্যন্ত এফআইআরের রিসিভিং কপি দেওয়া হয়নি। এনজেপি পুলিশ স্টেশনের আইসি বারবার নেতৃবৃন্দকে ডেকে হয়রান করছে। সাংবাদিক বৈঠকের মধ্যে দিয়ে বিজেপি'র শীর্ষ নেতৃত্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অবিলম্বে সিপিআই(এম)'র পার্টি দপ্তর পুনরুদ্ধারের দাবি জানান।
সিপিআই(এম) দার্জিলিঙ জেলা সম্পাদক সমন পাঠক বলেন, ‘তিনদিন আগে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির অনুষ্ঠান করে সিপিআই(এম)'র বারিভাষা এলাকার পার্টি অফিসটির দখল করে নেয় বিজেপি। দুই মাসের নতুন বিজেপি সরকার পিছনের দরজা দিয়ে ১৫ বছরের তৃণমূল কংগ্রেসের অপশাসনকেই ফিরিয়ে আনছে। বর্তমান রাজ্য সরকারের গতিপ্রকৃতি বিগত তৃণমূল পরিচালিত রাজ্য সরকারের মতোই। শুধুমাত্র ফ্ল্যাগের পরিবর্তন ঘটেছে। বিগত সরকারের সময়ে গোটা রাজ্য জুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, তোলাবাজি, থ্রেট কালচার, দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছিল। এখন বিজেপি সরকারের সময়েও কোনকিছুর পরিবর্তন ঘটেনি। বরং থ্রেট কালচারের বাড়বাড়ন্ত হচ্ছে। যা রাজ্যের কালচারের সাথে কোনভাবেই খাপ খায় না।’
উল্লেখ্য হকার উচ্ছেদ, বুলডোজাররাজ, শিশু কন্যাকে ধর্ষণ ও খুন, মিনাক্ষী মুখার্জির ওপর আক্রমন ইত্যাদি নানা ঘটনায় দুই মাসেই নয়া সরকারের অত্যাচারের চেহারা প্রকাশ্যে এসেছে। বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের পরেই এনজেপি, ডাবগ্রাম, ফুলবাড়ি অঞ্চলে বিজেপি'র পতাকা, ঝান্ডা লাগিয়ে সিপিআই(এম) দপ্তর দখলের চেষ্টা হলেও, এলাকার মানুষের প্রতিরোধে বিজেপি'র সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পার্টি দপ্তর দখল করা, হয়রানি ও থ্রেট কালচার ডাবগ্রাম এনজেপি এলাকাতেই বেশী নজরে আসছে। দ্রুত এই বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে এলাকার সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে পার্টি অফিস দখলমুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন সমন পাঠক।
কার ইশারায় ডাবগ্রাম ফুলবাড়ি এলাকায় সিপিআই(এম)'র দলীয় কার্যালয় দখল করা হলো? এই প্রশ্ন তুলে পার্টিনেতা দিলীপ সিং বলেন, ‘নতুন বিজেপি সরকারের ডাবগ্রাম ফুলবাড়ির বিধায়িকার নেতৃত্বে ফের এলাকায় দখলদারির রাজনীতি হচ্ছে। সিপিআই(এম)'র দপ্তর হলেও সেখানে মূলত ইউসিআরসি ও বিভিন্ন গণসংগঠনের কাজকর্ম, গরীব মানুষের স্বার্থেই ওই দপ্তর পরিচালিত হতো। তৃণমূলের জমানায় দলদাস ছিল পুলিশ। সরকার বদলের পরেও পুলিশের ভূমিকা একেবারেই নিন্দনীয়। তিন চারদিন ধরে নেতৃবৃন্দকে এফআইআরের রিসিভ কপি দেবার কথা বলে ঘোরাচ্ছেন এনজেপি পুলিশ স্টেশনের আইসি।’
নেতৃত্ব হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন সিপিআই(এম)'র দপ্তর দখলমুক্ত করার ক্ষেত্রে অবিলম্বে প্রশাসন ব্যবস্থা না নিলে আইনের দারস্ত হব। একই সঙ্গে কমিশনার, মুখ্যমন্ত্রী দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে। সিপিআই(এম) দপ্তর পুনরুদ্ধার করে সাধারণ মানুষের হাতে তুলে দেওয়া না হলে অবস্থান, প্রতিবাদ মিছিল সহ যাবতীয় আন্দোলনের মাধ্যমে দলীয় কার্যালয় দখল মুক্ত করা হবে।
Comments :0