Suvedu Adhikari

স্বাস্থ্য ভবনের কন্ট্রোল রুম দেখলেন মুখ্যমন্ত্রী, নীরব মেয়াদউত্তীর্ণ সেলাইন নিয়ে

রাজ্য

বৃহস্পতিবার সল্টলেক স্বাস্থ্য ভবনে নব নির্মিত কন্ট্রোল রুম পরিদর্শন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য ভবনে একটি কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। যার মাধ্যমে রাজ্যের সব সরকারি হাসাপাতালের ওপর ২৪ ঘন্টা নজরদারি চলবে বলে জানিয়ে ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখার্জি। রোগী পরিসেবা থেকে শুরু করে অন্যান্য সব দিকেই নজর রাখা হবে এর মাধ্যমে। 
এদিন সেই কন্ট্রোল রুম পরিদর্শনের পর মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অন্যান্য রাজ্য গুলোয় এই ধরনের কন্ট্রোল রুম রয়েছে। পাটনায় গিয়ে দেখে এসেছিলাম। তারপর মন্ত্রী এবং সচিবকে বলেছিলাম বানাতে। ১৫-১৬টা স্টেট হাসপাতালকে প্রাথমিক ভাবে যুক্ত করে কাজ শুরু হয়েছে। ৩০ জুলাই মধ্যে সাবডিভিশানাল হাসপাতাল গুলোকে যুক্ত করা হবে। হাসপাতালের কিচেন পর্যন্ত মনিটারিং হবে। হাসপাতালের পরিবেশ এবং পরিসেবা ঠিক ঠাক করার জন্য এই পদক্ষেপ।’ মুখ্যমন্ত্রী যখন পরিসেবা নিয়ে কথা বলছেন তখন মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজে মেয়াদউত্তীর্ণ সেলাইন দেওয়াকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে বিতর্ক।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘২০১৭ সালে শেষ রোগীদের খাবারের টাকা বাড়ানো হয়েছিল। এই সরকার ৫৪ টাকা থেকে ১১০ টাকা করেছে। আগের সরকার এই সব দিকে নজর রাখতো না। হাসপাতালকে দালাল রাজ মুক্ত করতে হবে। মানুষকে পরিসেবা দিতে হবে। কন্ট্রোল রুমের বড় উদ্দেশ্যে দালালদের হাটানোর।’ শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য কর্মীদের স্তর অনুযায়ী ব্যাচ দেওয়া হবে। 
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন সরকারের পক্ষ থেকে অত্যাধুনিক ট্রমা কোয়ার সেন্টার তৈরি করা হবে। যেখানে ২৫০ জনকে পরিসেবা দিতে পারে এমন সেন্টার তৈরি করা হবে। তার কথায়, তারাতলার ঘটনার পর এই অত্যাধুনিক সেন্টারের গুরুত্ব বোঝা গিয়েছে। 
বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে রোগী পরিবারের সদস্যদের খোলা আকাশের নীচে থাকতে হয়। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘অনেকে মাথায় ব্যাগ রেখে হাসপাতালের বাইরে শুয়ে থাকেন। তাদের থাকার জন্য ব্যবস্থা করা হবে। শেড তৈরি করা হবে।’ এসএসকেএম-এ শারদীয়ার আগে ২৫০ আসন বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয় ছিলেন বেসরকারি হাসপাতালে গুলোয় আর্থীক ভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষদের জন্য আসন সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। এই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিধান রায় থেকে জ্যোতি বসু এক টাকায় জমি দিয়েছিল বেসরকারি হাসপাতালের জন্য। তাতে চুক্তিতে বলা ছিল ১৫ শতাংশ বেড গরীব মানুষের জন্য থাকবে তা মানা হতো না। সরকারি জমিতে যেই বেসরকারি হাসপাতাল গুলো তৈরি হয়েছে সেই মালিকদের সাথে সরকার বসেছিল। তারা রাজি হয়েছে ১০ শতাংশ বেড গরীব মানুষদের ছাড়ার জন্য।’
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আদানি গ্রুপ নিউ টাউনে দু’হাজার বেডের আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল তৈরি করবে। যার এক হাজার বেড থাকবে গরীব মানুষের জন্য সংরক্ষণ করা হবে।
সেবাশ্রয় নিয়ে দুর্নীতির প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পুলিশ যা তথ্য চাইবে স্বাস্থ্য দপ্তর তাই সাহায্য করবে। কোন তথ্য লোকানো হবে না।

Comments :0

Login to leave a comment