DU Professor Murder Case

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা খুনে গ্রেপ্তার পূর্ব বর্ধমানের দম্পতি

জাতীয় রাজ্য

দিল্লির নিউ অশোক নগর এলাকায় দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক দেবস্মিতা পালের হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে পূর্ব বর্ধমানের এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান ১,৪০০ কিলোমিটার দূরে পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব বর্ধমান এই দম্পতি সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্য এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মৃত অধ্যাপিকা দেবস্মিতা পাল এবং গ্রেপ্তার হওয়া দম্পতির মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের একটি সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। অধ্যাপিকা তাঁর দাদুর মালিকানাধীন সম্পত্তি অভিযুক্তরা দখলে রাখতে চেয়েছিলেন। এই বিবাদ ধীরে ধীরে গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে অভিযুক্তরা অধ্যাপককে কুন করার পরিকল্পনা করে। পুলিশের মতে, দেবস্মিতা পালের তাঁর বড় ভাই ও বোন জমিটি বিক্রি করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু দেবস্মিতা তা বিক্রি করতে রাজি ছিলেন না। পুলিশের মতে, এই হত্যাকাণ্ডটি একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র করেই হয়েছে। দু’জনেই দেবস্মিতার পূর্ব পরিচিত বলে অনুমান তদন্তকারীদের। অভিযুক্ত ব্যক্তি পশ্চিমবঙ্গ থেকে দিল্লিতে এসেছিল। অধ্যাপিকা দেবস্মিতা পালের হত্যাকাণ্ডের পর দিল্লি পুলিশ একাধিক দল গঠন করে। পুলিশ প্রযুক্তিগত প্রমাণ এবং সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের খোঁজ চালাচ্ছিল। গুরুত্বপূর্ণ সূত্রের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্তদের খোঁজ পেয়ে যায়। দিল্লি পুলিশের একটি বিশেষ দল বর্ধমান জেলায় অভিযান চালিয়ে দুই প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের এক আধিকারিক জানান, গ্রেপ্তার এড়াতে এবং সন্দেহ দূর করতে অভিযুক্তরা তাদের সঙ্গে একটি শিশুকে নিয়ে এসেছিল। পুলিশ মনে করে, এটি তাদের পরিচয় গোপন করতে এবং তদন্তকে বিপথে চালিত করার একটি পরিকল্পিত কৌশল ছিল। এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে দিল্লি, উত্তর প্রদেশ, হরিয়ানা ও পশ্চিমবঙ্গসহ চারটি রাজ্যে অভিযান চালানো হয়। বর্তমানে, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর গ্রেপ্তার হওয়া উভয় অভিযুক্তকে দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। দিল্লির পূর্বাঞ্চলের বসুন্ধরা এনক্লেভের সত্যম অ্যাপার্টমেন্টে একাই থাকতেন দেবস্মিতা পাল। ২০২২ সালে স্বামীর থেকে আলাদা হয়ে যান তিনি। স্বামী বর্তমানে বেঙ্গালুরুতে থাকেন। গত হস্পতিবার সকালের পর থেকে দেবস্মিতাকে ফোনে না পেয়ে তাঁর বোন দেবারতি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তিনি ফ্ল্যাটে পৌঁছে দেখেন, বাইরে থেকে তালা দেওয়া রয়েছে। তালা ভেঙে ভিতরে ঢুকে দেখেন অধ্যাপিকা মৃত অবস্থায় পড়ে আছেন। তারপরই খবর দেওয়া হয় থানায়। পুলিশ তদন্ত নেমে পূর্ব বর্ধমানের এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করে। সম্পত্তি বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড সন্দেহে পুলিশের।

Comments :0

Login to leave a comment