Election Commission of India

বিবেচনাধীনরা কি ভোট দিতে পারবেন? উত্তর নেই জ্ঞানেশ কুমারের কাছে

জাতীয় রাজ্য

৬০ লক্ষ নাম বাদ দিয়েই কি হবে রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন? উত্তর নেই মুখ্য-নির্বাচনী কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের।
এসআইআর পর্বে কতজন অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে? উত্তর নেই জ্ঞানেশ কুমারের কাছে।
মঙ্গলবার নিউ টাউনের হোটেলে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন মুখ্য-নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার সহ জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। এদিন প্রথমেই জ্ঞানেশ কুমার বলেন, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন ভয় এবং হিংসামুক্ত পরিবেশে হবে। তিনি বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের সব মানুষকে জানাতে চাই আগামী বিধানসভা নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ভাবে অনুষ্ঠিত হবে। সবাই নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োজ করতে পারবেন।’ বিহারের নির্বাচনের মতো জ্ঞানেশের মুখে শোনা যায় ‘নির্বাচন পর্ব পশ্চিমবঙ্গের গর্ব’ আওয়াজ। 
এদিন জ্ঞানেশ কুমার বারবার শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের কথা বললেও এসআইআর পর্বে বিবেচনাধীন থাকা ৬০ লক্ষ মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন কি না সেই নিয়ে বার বার প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য এদিন সাংবাদিক সম্মেলনের প্রথমে কমিশনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন তথ্য পেশ করা হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে খসড়া তালিকায় ভোটার সংখ্যা ৭ কোটি। ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত তালিকায় ভোটারের সংখ্যা ৬ কোটি ৪৪ লক্ষ ৫২ হজার ৬০৯। বাদ রাখা হয়েছে বিবেচনাধীন থাকা ভোটারদের। কেন বাদ দিল কমিশন? তাহলে কি কমিশনে এই বিপুল সংখ্যায় ভোটারদের বাদ রেখেই রাজ্যে নির্বাচন করতে চাইছে? অনেকের মনে ইতিমধ্যে এই প্রশ্ন ঘুরতে শুরু করে দিয়েছে।  কারণ এদিন বার বার এই সংখ্যাটিকে উল্লেখ করেছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার।
গতকালই সিপিআই(এম) এর পক্ষ থেকে স্পষ্ট ভাবে জানানো হয়েছে ৬০ লক্ষ বিবেচনাধীন থাকা ভোটারদের বাদ দিয়ে কোনোভাবে রাজ্যে ভোট করানো যাবে না।
জ্ঞানেশ কুমারের কথায়, ইআরও এবং এইআরও-দের পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’-র তালিকা তৈরি হয়েছে। এক কথায় বলা যেতে পারে জাতীয় নির্বাচন এই ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি‘ বা ‘যুক্তিগ্রাহ্য অসঙ্গতির‘ দায় রাজ্য সরকারের দিকে ঠেলে দিয়েছে মঙ্গলবার। কারণ ইআরও বা এইআরও-রা রাজ্য সরকারের কর্মী। জ্ঞানেশ কুমার বলেন, ‘চলতি পর্বে যে ১২ রাজ্যে এসআইআর হয়েছে তার সব কয়টিতেই ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি‘-র তালিকা করা হয়েছে। সেখানে বিএলও, ইআরও, এইআরও-রা সঠিক নথি দেখে সমস্যা মিটিয়ে দিয়েছেন। এই রাজ্যের ক্ষেত্রে যুক্তিগ্রাহ্য অসঙ্গতির বিপুল সংখ্যা ছিল বলেই ভিন রাজ্য থেকে মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগ করা হয়েছে।’ কমিশনের কথায়, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে অ্যাাডজুডিকেশনের কাজ চলছে। সংবিধানের ৩২৬ ধারাকে মান্যতা দিয়েই সব কাজ হচ্ছে। 
এদিন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে এসআইআরের প্রথম পর্বে ৩ থেকে ৪ শতাংশ ভোটার ছিলেন ‘আনম্যাপড‘। পরে ৭ থেকে ৮ শতাংশ নামে দেখা যায় ম্যাপিংয়ে ত্রুটি রয়েছে অথবা তথ্য ভুল রয়েছে। কমিশনের যুক্তি, অনেকে ভুলভাবে ফর্ম পুরণ করার জন্য এই তালিকায় যুক্ত হয়েছেন।
গত সোমবার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ছিল কমিশনের দফায় দফায় বৈঠক। সেখানে বামপন্থীরা সহ বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দল সুষ্ঠু এবং স্বচ্ছ নির্বাচন করার দাবি জানিয়েছে। তার সাথে জোর দেওয়া হয়েছে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার ওপরও। এদিন নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে রাজ্যে তারা শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোট করাতে দায়বদ্ধ। জ্ঞানেশ কুমার বলেন, ‘মুখ্য সচিব সহ বিভিন্ন স্তরের সরকারি আধিকারিক এবং পুলিশ কর্তাদের সাথে বৈঠক হয়েছে কমিশনের। সেখানে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে আলোচনাও হয়েছে। প্রশাসন আস্বস্ত করেছে তারা শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোট পরিচালনা করতে দায়বদ্ধ।’
গতকাল সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিযোগ করেছিলেন যে রাজ্য সরকারের কিছু আধিকারিক যারা সরকারের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত, তাদের দিয়ে নিরপেক্ষতার সঙ্গে নির্বাচন পরিচালনা করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এদিন মুখ্য- নির্বাচনী আধিকারিককে বলতে শোনা গিয়েছে যে যদি কোনও আধিকারিকের বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ লক্ষ্য করা যায় তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, আইন মেনে এবং কমিশনের গাইড লাইন মেনেই সবাইকে কাজ করতে হবে। ভুয়ো খবর সম্প্রচারের ক্ষেত্রে প্রশাসনকে সতর্ক থাকার বার্তাও কমিশনের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।  
কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে ২৯৪টি আসনের মধ্যে ৬৮টি তপশিলি জাতি এবং ১৬টি তদশিলি উপজাতির জন্য সংরক্ষিত। গতকাল সিপিআই(এম) এর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল সব বুথের ওয়েব কাস্টিং করার জন্য এবং কন্ট্রোল রুমে রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের রাখার জন্য। তবে মুখ্য-নির্বাচনী কমিশনার জানিয়েছেন সব বুথেই ওয়েব কাস্টিং করা হবে। 
রাজ্যের ৮০ হাজার ৭১৯ বুথের মধ্যে ৬১ হাজার গ্রামীণ বুথ এবং ১০, ৩৬১ টি বুথ মহিলা পরিচালিত বুথ হবে। ১২০০’র বেশি ভোটার কোন বুথে থাকবে না বলেই জানিয়েছে কমিশন। গতবারের মতো এবারও ৮৫ ঊর্ধ্ব এবং বিশেষভাবে সক্ষম ভোটাররা বাড়ি থেকেই ভোট দিতে পারবেন।

Comments :0

Login to leave a comment