Left front

বৈধ তালিকা ছাড়া ভোট নয়, জানিয়ে দিল বামফ্রন্ট

রাজ্য কলকাতা

যতদিন না পর্যন্ত ৬০ লক্ষ ভোটারের নিষ্পত্তি হচ্ছে ততদিন ভোট ঘোষণা কোন ভাবেই করা যাবে না। বৃহস্পতিবার সিইও দপ্তরের বাইরের সমাবেশ থেকে একথা বললেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যন বিমান বসু। 
বিমান বসু বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত ক্ষোভ ও উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে, ভারতের নির্বাচন কমিশন এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য প্রশাসনের এক শ্রেণির দলদাস অফিসারের অশুভ আঁতাঁতে এরাজ্যে এক নজিরবিহীন সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়েছে। ভোটার তালিকার চূড়ান্ত সংশোধনী প্রক্রিয়ায় প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারকে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ না করেই 'Under Adjudication' বা 'বিচারাধীন' পর্যায়ে ফেলে রাখা হয়েছে। এই বিপুল সংখ্যক মানুষের মধ্যে সিংহভাগই দরিদ্র, প্রান্তিক, সংখ্যালঘু এবং মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি।’
গতকাল থেকে সিইও দপ্তরের বাইরে অবস্থান বিক্ষোভ চালাচ্ছে বামফ্রন্ট। এদিন বিমান বসুর নেতৃত্বে বামফ্রন্টের একটি প্রতিনিধি দল সিইও’র সাথে দেখা করেন। তারা জানায়, জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী, হয় একজন নাগরিক 'ভোটার', নতুবা তিনি 'ভোটার নন'। 'বিচারাধীন' বা 'Under Adjudication' বলে কোনো ধূসর এলাকা গণতন্ত্রে থাকতে পারে না। ৬০ লক্ষ ভোটারকে এই অনিশ্চয়তার অন্ধকারে রেখে নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করা কেবল অনৈতিক নয়, অসাংবিধানিক। এই বিশাল জনসংখ্যার মতামত ছাড়া কোনো নির্বাচনই জনমতের প্রকৃত প্রতিফলন হতে পারে না। এটি কি তবে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে সুবিধা, করে দেওয়ার জন্য এক পরিকল্পিত 'ডিজিটাল কারচুপি'? নির্বাচনের দিন ঘোষণার আগেই এই ৬০ লক্ষ মানুষের বর্তমান স্থিতি স্পষ্ট করতে হবে।


ফ্রন্টের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জেলা নির্বাচন দপ্তর (DEO) থেকে ডিলিটেড ভোটারদের নতুন করে ৬ নং ফর্ম পূরণ করতে বলা হচ্ছে, যা একটি পরিকল্পিত 'আইনি গোলকধাঁধা'। যাদের নাম 'বিচারাধীন' হিসেবে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে, তাদের ৬ নং ফর্ম পূরণ করার আইনি অধিকারই নেই যতক্ষণ না পূর্বের আবেদনের নিষ্পত্তি হচ্ছে। এছাড়া, যাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে কোনও কারণ উল্লেখ না করেই, অনলাইনের সুবিধা বন্ধ করে দিয়ে প্রান্তিক মানুষকে ৫০-৬০ কিলোমিটার দূরে জেলা সদরে গিয়ে বিশেষ ফর্ম অফলাইনে জমা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এটি কি সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে সামাল দেওয়ার 'ছেলে-ভোলানো' কৌশল নয়? কেন আজ পর্যন্ত নাম কাটার সুনির্দিষ্ট 'অর্ডার শিট' অনলাইন বা অফলাইনে জনসমক্ষে আনা হলো না কেন? অথচ নাম বাদ পড়ার কারণ অনলাইন ফর্মে উল্লেখ না করলে সেই ফর্ম গৃহীত হচ্ছে না। নির্বাচন কমিশন কি ভোটারদের সঙ্গে লুকোচুরি খেলছে। কি লুকোতে চাইছে নির্বাচন কমিশন। সবকাজ গোপনে ষড়যন্ত্রের কায়দায় করার কারণ কী রাজোর মানুষ এসব জানতে চায়।
কমিশনের কাছে এদিন অভিযোগ জানানো হয়েছে, জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী, DEO-এর যে কোনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ১৫ দিনের মধ্যে আপনার (CEO) কাছে আপিল করার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের আছে। কিন্তু অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে রিজেকশন লেটার বা অর্ডার শিট গোপন রাখা হচ্ছে, যাতে সংশ্লিষ্ট ভোটাররা আইনি পথে বা আদালতে যেতে না পারেন। প্রশাসনের এই অসহযোগিতা প্রমাণ করে যে, কেন্দ্রের শাসকদলের অঙ্গুলিহেলনেই এই গোটা প্রক্রিয়াটি পরিচালিত হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। সেই প্রতিষ্ঠানের মর্যাদাকে কেন্দ্রের শাসকদলের কাছে সমর্পণ করার মতো এরকম ঘটনা স্বাধীনোত্তর ভারতবর্ষের ইতিহাসে কখনোই ঘটেনি।
বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাবা-মায়ের নাম থাকা সত্ত্বেও সন্তানদের নাম বাদ দেওয়া বা 'বিচারাধীন' রাখা প্রমাণ করে যে, তথ্য যাচাই (Verification) প্রক্রিয়ায় চরম জালিয়াতি হয়েছে। এমনকি ৩০/৪০ বছর ধরে রাজ্য অথবা কেন্দ্রীয় সরকারী আধিকারিক বা কর্মচারি ছিলেন, এমন ভোটারদেরও বিচারধীন পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত রাখা হয়েছে। বিএলও (BLO) থেকে শুরু করে উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের একটি আংশ নিরপেক্ষতা বিসর্জন দিয়ে রাজ্যের শাসকদলের ক্যাডারের মতো কাজ করছেন। তার সঙ্গে কেন্দ্রীয় শাসক দলের স্তাবকতায় ব্যস্ত নির্বাচন কমিশনের কার্যকলাপ নজিরবিহীন ভাবে বিচারব্যবস্থাকে প্রশাসনিক দায়িত্ব নিজেদের হাতে তুলে নিতে বাধ্য করেছে। এই অপরাধের কে বিচার করবে! আমরা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিচ্ছি, এই বিপুল সংখ্যক মানুষের ভোটাধিকার হরণ করে পশ্চিমবঙ্গে কোনো প্রহসনের নির্বাচন মেনে নেওয়া হবে না। নির্বাচন কমিশন যদি অবিলম্বে এই 'বিচারাধীন' ভোটারদের জট না কাটায় এবং দোষী অফিসারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়, তবে আমরা রাজ্যজুড়ে বৃহত্তর গণ-আন্দোলনের পাশাপাশি উচ্চতর আদালতে দ্বারস্থ হতে বাধ্য হব। সাধারণ ভোটারের ক্ষোভের আগুনে তৈরি হওয়া পরিস্থিতির দায় সম্পূর্ণভাবে কমিশন এবং রাজ্য প্রশাসনকেই নিতে হবে।

Comments :0

Login to leave a comment