সরকার এবং সরকার পোষিত স্কুলের পড়ুয়ারা কবে পাবে ইউনিফর্ম? নিয়মমত বছরে দুবার পোষাক দেওয়া হয়। সরকার বদলেছে কিন্তু স্কুলে আসে নি পোষাক। এমন কি জুতো, ব্যাগও পায় নি পড়ুয়ারা। শিক্ষাবর্ষের ৭ মাস অতিক্রান্ত। প্রশ্ন উঠেছে শিক্ষা দপ্তর করছেটা কি? কোচবিহার জেলার একাধিক অবর বিদ্যালয় পরিদর্শকদের সঙ্গে কথা বলেও জানা যায় নি কবে আসবে পোষাক, ব্যাগ আর জুতো! সূত্রের খবর আগের সরকারের আমলে ব্লক ও পৌরসভা গুলিতে জামা প্যান্টের কাপড় এসেছিল। কিন্তু সেগুলি ডাঁই হয়ে পড়ে আছে। কারণ আগের রঙ এখন আর চলবে না বলেই জানা গেছে। লক্ষ লক্ষ টাকার সেই কাপড়ের ভবিষৎ কি? সেটাও কেউ জানে না। নতুন সরকার আসার পর শিক্ষা দপ্তর থেকে চিঠি করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলির কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে ২০২২ সালের আগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কি রঙের পোষাক ছিল? তার তালিকা ইতিমধ্যে গেছে শিক্ষা দপ্তরে।
স্কুলের শিক্ষকেরা বলছেন সাধারণত মার্চ -এপ্রিল মাসে পড়ুয়াদের প্রথম পোষাক দেওয়া হয়। আরেকবার বছরের শেষের দিকে আরেক সেট পোষাক দেওয়া হয়। জুতো এবং ব্যাগ শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই দেওয়া হয়। ২০২২ সালে তৃণমূল সরকার বাধ্যতামূলক ভাবে নীল-সাদা ইউনিফর্ম চালু করেছিল। যাতে থাকতো বিশ্ববাংলা লোগো। ইতিমধ্যে বিশ্ববাংলা লোগো বাতিল করেছে নতুন সরকার। এতদিন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা পোশাক তৈরি করতো। কোচবিহার জেলায় প্রায় ৩ লক্ষ পড়ুয়া পোশাক পায়। সংকটে পড়েছেন গরীব অভিভাবকেরা।
মাথাভাঙা পৌরসভা এলাকার ১৩ টি স্কুলের ৩৪০০ পড়ুয়ার পোষাক দেবার জন্য ২২ টি স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে বরাত দেওয়া হয়েছিল। গোষ্ঠীর সদস্যরা অনেকেই কাপড় নিয়ে কাজ শুরু করেছিল। তারপর থেকে সেগুলি তাদের বাড়িতেই পড়ে আছে। পৌরসভা এবং ব্লকের গোডাউনে পড়ে আছে আগের সরকারের দেওয়া পোষাকের নীল -সাদা কাপড়।
তুফানগঞ্জ-২ ব্লকের প্রাক প্রাথমিক থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ুয়ার সংখ্যা প্রায় ১৭ হাজার। ব্লকের বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষকেরা বলছেন, পড়ুয়াদের পোষাকের মাপ নিয়ে গেলেও এখনও পোষাক আসে নি। তবে আমরাও চাই ২০২২ সালের আগে স্কুলের নিজস্ব রঙের পোষাক ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি তুলেছেন অভিভাবকেরা।
স্কুলের পড়ুয়াদের পোষাক নিয়ে ২০২২ সাল থেকে নীল সাদা রঙের পোষাক দেওয়া নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে। প্রত্যেকের অভিমত আগের সরকার পড়ুয়া-অভিভাবক-শিক্ষকের মতামতকে উপেক্ষা করেই নীল-সাদা ইউনিফর্ম চাপিয়ে দিয়েছিল। এই প্রথার অবসান চাইছে সব মহল। জেলার বিভিন্ন ব্লকের স্কুলের শিক্ষকেরা জানিয়েছেন এই মুহুর্তে শহরের হাতে গোনা গুটি কয়েক স্কুল বাদ দিলে কোথাওই ইউনিফর্মের বালাই নেই। যে যেমন পোষাক পাচ্ছে সেটা পড়েই স্কুলে আসছে। গরীব পড়ুয়াদের পোষাকের জন্য চাপ দেওয়া সম্ভব নয়।
School Uniforms
শিক্ষাবর্ষের ৭ মাস অতিক্রান্ত, কবে মিলবে ইউনির্ফম উঠছে প্রশ্ন
×
Comments :0