শনিবার রাতে দমদম স্টেশনে অনৈতিক ভাবে হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে রবিবার এবং সোমবার রাজ্য জুড়ে প্রতিটা স্টেশনে বিক্ষোভ এবং ডেপুটেশন কর্মসূচির ডাক দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ রেলওয়ে হকার্স ইউনিয়ন(সি আই টি ইউ)।
বিবৃতি দিয়ে রবিবার বলা হয়েছে, ‘পশ্চিমবঙ্গ রেলওয়ে হকার্স ইউনিয়ন(সি আই টি ইউ) এর পক্ষ থেকে আমরা দমদম স্টেশনের এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করি। আজ এবং আগামীকাল সর্বত্র প্রতিটি রেল স্টেশনে সকল রেল হকার একত্রিত হয়ে অবস্থান, বিক্ষোভ, যুক্ত মিছিল সংগঠিত করবে ও উপযুক্ত পুনর্বাসন ছাড়া রেল হকার উচ্ছেদ করা যাবে না-এই দাবিতে স্টেশন ম্যানেজারকে স্মারকলিপি প্রদান করা হবে। রেল হকারদের রুটি রুজির ওপর যাবতীয় আক্রমণের প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে, যতক্ষণ না উপযুক্ত বিকল্প পুনর্বাসন না দেওয়া হয়।’
বলা হয়েছে, ‘রেল কর্তৃপক্ষ এই ধরনের আক্রমন শিয়ালদা ডিভিশনের যে কোন প্লাটফর্মে সংঘটিত করতে পারে। এর আগে শিয়ালদহ, সোনারপুরে রাতের অন্ধকারে এই ঘটনা ওরা ঘটিয়েছিল। রেল হকারদের সতর্ক থাকতে হবে। রাত প্রহরা দিতে হবে। সাধারণ মানুষকে শামিল করে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এই প্রশ্নে সকল রেল হকারকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানাই। সাধারণ রেল যাত্রী, শ্রমজীবী মানুষ, সাধারণ মানুষকে আমরা জীবন রক্ষার এই আন্দোলনে সামিল হওয়ার আহ্বান জানাই।’
শনিবার রাত প্রায় বারোটার সময় সামরিক কায়দায় রেল আধিকারিকরা,আর পি এফ,সি আর পি এফ, জিআরপি, কলকাতা পুলিশ তাদের সাঁজোয়া বাহিনী নিয়ে দমদম রেল স্টেশনের নিচে এবং উপরের সমস্ত রেল হকারদের স্টল বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়। তার আগে প্রচুর রেল পুলিশ দিয়ে রেলস্টেশন ঘিরে ফেলে। ফলে বাইরের কারুর আসার সুযোগ ছিল না রেল প্লাটফর্মে। রেল হকার ও তাদের নেতৃবৃন্দকে কার্যত পুলিশ অবরুদ্ধ করে ফেলে। রেল হকার নেত্রী গার্গী চট্টোপাধ্যায় আলোচনার আহ্বান জানালেও রেল কর্তৃপক্ষ তাতে কর্ণপাত করেন না। রেল লাইন দিয়ে ট্রলির উপর করে বড় ক্রেন আনা হয়। রাতে যে সময়ে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে সেই সময়েই রেল পুলিশ ও প্রশাসন স্টেশন সাফ করে দেয়। রেল হকার উচ্ছেদের কাজে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রচুর রাজ্য পুলিশ পাঠানোর মধ্যে দিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট হয়ে যায়। সদ্যগঠিত তথাকথিত বিজেপির ডাবল ইঞ্জিন সরকার গরীব রেল হকারদের রুটি রুজি হরণের সঙ্গী হলো। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য বিকেল বেলাতেই রেল কর্তৃপক্ষ রাজ্য সরকারের সহায়তা নিয়ে রেল হকারদের স্টল গুলির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। ভয়াবহতার আশঙ্কা করেই রেল হকারেরা রেল স্টেশনে একত্রিত হতে শুরু করে। পূর্ব পরিকল্পিতভাবে কর্পোরেটদের হাতে রেল স্টেশন তুলে দেওয়ার স্বার্থেই রেল পুলিশ এই মরিয়া ভূমিকা গ্রহণ করে। দমদম স্টেশন ম্যানেজারের ভয়ংকর অত্যাচারী ভূমিকা গ্রহণ করতে দেখা যায়।
সংগঠনের পক্ষ থেকে রেল কর্তৃপক্ষ ও রাজ্য সরকারের কাছে আমাদের আবেদন করা হয়েছে দ্রুততার সঙ্গে রেল হকার, রেল কর্তৃপক্ষ, রাজ্য সরকারের ত্রিপাক্ষিক সভা করে সমাধান সূত্র খুঁজে বিকল্প ব্যবস্থা করার।
Hawkers eviction
উচ্ছেদের বিরুদ্ধে রবিবার এবং সোমবার রাজ্য জুড়ে বিক্ষোভের ডাক রেলওয়ে হকার্স ইউনিয়নের
রবিবার দমদমে বিক্ষোভ সভা
×
Comments :0