জানা অজানা
নতুনপাতা
বাংলার বিশ্বকর্মা
তপন কুমার বৈরাগ্য
২ জানুয়ারি ২০২৬, বর্ষ ৩
বিশ্বকর্মা শিল্পগুরু। তাকে শিল্পগুরু হিসাবে আমরা ভাদ্রমাসের
শেষদিনে পূজা করি।বাংলার বিশ্বকর্মা রাজেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়।
যিনি ভারতের এক যশস্বী ব্যক্তি। কলকাতার হৃৎপিন্ডে অবস্থিত
ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল।যা কলকাতার গর্ব।সারা পৃথিবীর গর্ব।
রানি ভিক্টোরিয়ার স্মৃতিতে তৈরি ঐতিহাসিক ও দৃষ্টিনন্দন সাদা
মার্বেল পাথরের সৌধ।১৯০৬খ্রিস্টাব্দে এর কাজ শুরু হয়।বাংলার
বিশ্বকর্মা রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের তত্ত্বাবধানে এর কাজ
শুরু হয়।দীর্ঘ১৪বছর পর ১৯২০খ্রিস্টাব্দে এর কাজ শেষ হয়।
এর জন্য রাজেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় অক্লান্ত পরিশ্রম করে গেছেন।
এই অপূর্ব স্মৃতি সৌধ প্রিন্স অব ওয়েলস১৯২১খ্রিস্টাব্দে উদ্বোধন
করেন।সেদিন প্রিন্স অব ওয়েলস রাজেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়কে
বুকে জড়িয়ে ধরেছিলেন।১৯২২খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ সরকার তার
স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে নাইট উপাধি দিয়ে সম্মানিত করেন।
ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল সৌধ সংলগ্ন উদ্যান চত্ত্বরে রাজেন্দ্রনাথের
মূর্তি আছে।১৯১১খ্রিস্টাব্দে তিনি কলকাতার শেরিফ হয়েছিলেন।
কলকাতায় আর,এন,মুখার্জী রোড আছে।এই রোডটা যশস্বী ব্যক্তি
রাজেন্দ্রনাথ মুখার্জী স্মরণে।১৯৩৬খ্রিস্টাব্দে হাওড়া ব্রিজের কাজ
শুরু হয়।১৯৪২খ্রিস্টাব্দে এর কাজ শেষ হয়। ১৯৪৩খ্রিস্টাব্দে এই
সেতু জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়।এর দৈর্ঘ্য৪৬৮মিটার।
হুগলি নদীর উপর অবস্থিত কলকাতা এবং হাওড়ার মধ্যে তখন
যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ছিল।এই সেতুতে কোনো পিলার
নেই।১৯৬৫খ্রিস্টাব্দের ১৪ই জুন এই সেতুর নামকরণ হয় রবীন্দ্র
সেতু।এটায় কলকাতা এবং হাওড়ার আইকনিক ল্যান্ডমার্ক।
রবীন্দ্রসেতু নির্মাণে ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়ে যে বিশেষজ্ঞ কমিটি
গঠিত হয় তার সভাপতি ছিলেন রাজেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়।
সুতরাং হাওড়ার ব্রিজ নির্মাণে তার দান কোনো অংশে কম নয়।
১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে বেলুড়মঠে রামকৃষ্ণ মন্দির তার তত্ত্বাবধানে
নির্মিত হয়েছে। এই মহান মানুষটা ১৮৫৪খ্রিস্টাব্দের ২৩শে জুন
উত্তর২৪পরগণা জেলার বসিরহাটের নিকট ভ্যাবলায় জন্মগ্রহণ
করেন ।শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ১৯৩৬খ্রিস্টাব্দের১৫ই মে ।
কিন্তু তার কাজ তাকে চিরদিন অমর করে রাখবে।
Comments :0