Christians attacked in Chandrakona

খ্রিস্টানদের ওপর হামলা, মহিলাদের পোশাক ছিঁড়ে দেওয়ার অভিযোগ চন্দ্রকোনায়

জেলা

খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী তিনটি পরিবারের  উপর নৃশংস আক্রমণের অভিযেগ উঠেছে বিজেপি’র নেতা ও কর্মীদের বিরুদ্ধে। আক্রান্তদের অভিযোগ, বাড়ি থেকে টেনে হিঁচড়ে বের করা হয়। তাতে মহিলাদের পরনের পোশাক ছিঁড়ে দেওয়া হয়। গ্রাম থেকে ২ কিমি দূরে ডিঙ্গাল দুর্গা মন্ডপে নিয়ে গিয়ে গঙ্গাজল দিয়ে স্নান করানো হয়। সেই ভিজে পোশাকে ঘন্টার উপর আটক রেখে  জোর করে মন্দিরে পুষ্পাঞ্জলি দেওয়ানো হয়। 
এমন ঘটনা পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা থানা এলাকার মনোহরপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার পাতলা গ্রামে।
এর আগে বিজেপি নেতা বাপ্পাদিত্য চ্যাটার্জি, বাপী মন্ডল, পিন্টু সাউ, দিলীপ মিশ্র, তরুণ মন্ডল, পচা দোলই, অরুণ মন্ডল, রনজিত দোলইদের নেতৃত্বে গ্রামে সালিশি সভা হয়। এই তিন পরিবারকে সামাজিক বয়কটের পাশাপাশি তাদের ওপর জরিমানা চাপানো হয় বলে অভিযোগ। এদের কিছু বিক্রি করতে নিষেধ করা হয় দোকানদারদের। 
অভিযোগ, জরিমানার টাকা না পাওয়ায় গত ১৯ অক্টোবর  তিনটি পরিবারের ওপর হামলা চালায় ওই বিজেপি দলের নেতারা। মহিলাদের পোশাক ছিঁড়ে টেনে হিঁচড়ে ঘর থেকে বের করা হয়। বাড়ির পুরুষরা বাধা দেওয়ায় তাঁদের নৃশংস ভাবে মারধর করা হয়। তিনটি পরিবারের ৯ জনকে রাস্তায় টানা হিঁচড়ে করে মন্ডবে  নিয়ে যাওয়া হয়। 
এমন ঘটনার প্রতিকার চেয়ে পুলিশ প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তরে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। খ্রিষ্টানদের সংগঠনের পক্ষ থেকেও  অভিযোগ দায়ের হয়। গত ২০ অক্টোবর অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এক সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা বৃহস্পতিবা, ২২ অক্টোবর, সংবাদমাধ্যমকে জানান যে আক্রান্ত পরিবারগুলি ওই এলাকায় গত ৩০ বছর ধরে বসবাস করছে। প্রায় ১৮ মাস আগে খ্রিস্ট ধর্ম গ্রহণ করে। চন্দ্রকোনায় বসবাসকারী ওই তিন পরিবারের মোট ৯ সদস্য পুলিশকে বলেছে যে ১৮ ও ১৯ অক্টোবর ওই গোষ্ঠী তাদেরকে মারধর করে এবং যদি তারা খ্রিস্টধর্ম ত্যাগ না করে তবে মারাত্মক পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে হুমকি দেয়।
জেলা শাসক বিজি কৃষ্ণা এবং এসপি পাপিয়া সুলতানার দপ্তরেও অভিযোগ দায়ের হয়েছে বলে আক্রান্তরা জানান।

Comments :0

Login to leave a comment