অনিন্দিতা দত্ত: শিলিগুড়ি
বাগানের পর বাগান জুড়ে কাশফুলের সমারোহ। তবুও শারদোৎসবে এবার সেভাবে গা ভাসাতে পারেননি তরাইয়ের বাগিচা শ্রমিকেরা। সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী ২০ শতাংশ হাতে বোনাস পেলেও জিনিসপত্রের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধিতে তাদের জীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। তরাইয়ের হাটে বাজারে উৎসবের কেনাকাটাও চলেছে কমবেশী। কিন্তু গত বছর যে টাকায় ছেলেমেয়েদের জামাকাপড় কেনা হয়েছিলো, এবার তার দাম অনেক বেশী। ফলে বাজেটে টান পড়েছে।
শিলিগুড়ি মহকুমার নকশালবাড়ি চা বাগানের বিগত বছরের উৎসব ভাতার ৩ শতাংশ বকেয়া ছিলো। এবছরের ২০ শতাংশ মিলিয়ে মোট ২৩ শতাংশ উৎসব ভাতা একসাথে মিটিয়ে দেবার দাবিতে শারদোৎসবের প্রাক্কালে ক্ষোভ বিক্ষোভে সামিল হয়েছিলেন নকশালবাড়ি চা বাগানের শ্রমিকেরা। তা সত্ত্বেও মালিকপক্ষের অনমনীয় মনোভাবের দরুন এবছরেও এক কিস্তিতে তাদের বোনাসের টাকা মেলেনি। এবছর শারদোৎসবে নকশালবাড়ি চা বাগানের শ্রমিকদের হাতে ১৫ শতাংশ বোনাস তুলে দেওয়া হয়েছে। বাকি ৮ শতাংশ বোনাস দীপাবলী ও বড়দিনের উৎসবের আগে মিটিয়ে দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে মালিকপক্ষ। নকশালবাড়ি চা বাগানের শ্রমিকেরা এবারেও তাদের উৎসব ভাতা এক কিস্তিতে হাতে পাননি। স্বাভাবিকভাবেই ক্ষোভ রয়েছে শ্রমিকদের মধ্যে। চা শ্রমিক নেতা গৌতম ঘোষ বলেন, উৎসবের মাঝেও চা শ্রমিকেরা আগামী দিনে তাদের ন্যায্য দাবিদাওয়া আদায়ের জন্য আন্দোলনের নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কারণ মূল্য বৃদ্ধির চাপে তাদের জীবনযাত্রাও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তরাইয়ের দুই একটি বাগান ছাড়া প্রায় সমস্ত বাগানেই এক কিস্তিতে উড়ৎসব ভাতা মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। নকশালবাড়ি বাগানে এবারও ২০ শতাংশ উৎসবভাতা এক কিস্তিতে দেওয়া হয়নি। প্রয়োজনে বকেয়া উৎসবভাতা লড়াই করেই আদায় করতে হবে। এছাড়া অন্য কোন বিকল্প নেই।
নকশালবাড়ি চা বাগানের শুক্রা ওঁরাও, থানঝোরার রঞ্জিত কেরকেট্টা, গুলমার বুজি বরাইক সহ অন্যান্য চা শ্রমিকদের কথায়, উৎসব ভাতা তাদের প্রাপ্য অধিকারের মধ্যে পড়ে। সেটা তো দিতেই হবে। কিন্তু এই মুহুর্ত্বে জিনিসপত্রের দাম যেভাবে বেড়ে চলেছে তাতে সংসার চালানো দায়। দীর্ঘ দিনের ন্যূনতম মজুরির দাবি আজও উপেক্ষিত। বিগত সরকার গত ১৫ বছরে এবিষয়ে কোনরকম ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। বর্তমান রাজ্য সরকারও এখন পর্যন্ত কোন সদর্থক ভূমিকা দেখা যাচ্ছেনা। উদাসীন সরকার ও মালিকপক্ষ। অথচ চায়ের উৎপাদন বাড়ছে। চায়ের বাজারও ভালো। কিন্তু চা শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। শুধু সংসারের খরচ নয়, ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার খরচও বেড়েছে।
সন্ধ্যা তামাঙ, মুনিয়া ওরাঁওদের কথায়, সংসারের যাবতীয় ঝক্কি তাদেরই সামলাতে হয়। চা বাগানে পাতা তোলার কাজের পাশাপাশি ছেলেমেয়েদের দেখভাল ও সংসার চালানোর ক্ষেত্রে দায় তাদেরই বেশী। অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির চাপে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে আমাদের। দাবি আদায়ের জন্য পথে আমাদের নামতেই হবে। রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের মধ্যেই পড়ে। কিন্তু তাদের কাছে বিলাসিতার পর্যায়ে পৌছেছে। আগে বাগান থেকে জ্বালানি সরবরাহ করা হতো। এখন তা অনিয়মিত। এই বিষয়টিও তাদের ভাবাচ্ছে।
Comments :0