কিউবার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা প্রদেশের একটি আদালত। সোমবার ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল এই ঘোষণা করেছেন। ১৯৯৬ সালে কিউবার উপকূলের কাছে দু’টি মার্কিন বিমান ভূপাতিত করার ঘটনায় কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ। সে সময় বিমান দু’টি চালাতেন কিউবার কমিউনিস্ট সরকারের বিরোধী নির্বাসিতদের একটি সংগঠন।
ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উঠমেয়ার মায়ামিতে সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, প্রথম ডিগ্রির খুনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে প্রদেশ স্তরে মামলা করা হচ্ছে এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। তাঁর দাবি, ওই অভিযানের সঙ্গে কিউবার একটি গুপ্তচর নেটওয়ার্কের যোগসূত্র এবং কাস্ত্রোর নির্দেশের প্রমাণ পেয়েছেন তদন্তকারীরা।
চলতি বছরের মে মাসে মার্কিন বিচার বিভাগও কাস্ত্রো-সহ ছ’জনের বিরুদ্ধে পৃথকভাবে অভিযোগ দায়ের করে। খুন, মার্কিন নাগরিকদের হত্যার ষড়যন্ত্র এবং বিমান ধ্বংসের অভিযোগ আনা হয় তাঁদের বিরুদ্ধে।
কিউবার রাষ্ট্রপতি মিগেল দিয়াজ-কানেল ওই পদক্ষেপকে ‘আইনি ভিত্তিহীন রাজনৈতিক কৌশল’ বলে মন্তব্য করেন। তাঁর অভিযোগ, ভবিষ্যতে কিউবার বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের যুক্তি তৈরি করতেই ওয়াশিংটন এই মামলাকে ব্যবহার করতে পারে।
১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে কিউবার যুদ্ধবিমান মায়ামিভিত্তিক নির্বাসিত কিউবানদের সংগঠন ‘ব্রাদার্স টু দ্য রেসকিউ’-এর পরিচালিত দু’টি মার্কিন বিমান ভূপাতিত করে। নিহত হন চারজন। হাভানার দাবি, কিউবার আকাশসীমা লঙ্ঘন করায় আত্মরক্ষার স্বার্থেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছিল।
কিউবার বিরুদ্ধে মার্কিন চাপ দীর্ঘদিনের। ১৯৬১ সালে ব্যর্থ ‘বে অব পিগস’ অভিযানেও কিউবার নির্বাসিত গোষ্ঠীগুলিকে ব্যবহার করেছিল মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। পরের বছর কিউবার বিরুদ্ধে ব্যাপক বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা জারি করে ওয়াশিংটন।
সম্প্রতি মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবার বিরুদ্ধে চাপ আরও বাড়িয়েছেন। ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরোকে জানুয়ারিতে মার্কিন বাহিনী আটক করার পর কিউবার বিরুদ্ধে প্রায় সম্পূর্ণ জ্বালানি অবরোধ আরোপ করা হয়। ট্রাম্প ঘোষণা করেন, শাসন পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কিউবা হবে পরবর্তী লক্ষ্য। এর জেরে দেশটিতে তীব্র জ্বালানি সংকট ও ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
Raul Castro
রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করল ফ্লোরিডা
×
Comments :0