জনগণনায় কর্মী নিয়োগের বিধি সংশোধন প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হস্তক্ষেপ চাইল সিপিআই(এম)। পার্টির সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি রাষ্ট্রপতিকে চিঠি দিয়ে অভিযোগ করেছেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সাম্প্রতিক সংশোধনী জনগণনার নিরপেক্ষতা, বিশ্বাসযোগ্যতা ও সংগৃহীত ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
গত ১৬ অক্টোবর, ২০২৬-এ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ১৯৯০ সালের জনগণনা বিধিতে সংশোধনী বিজ্ঞপ্তি জারি করে। নতুন বিধিতে জনগণনার কাজে নিয়োগের পরিধি বাড়ানো হয়েছে। সাহায্যপ্রাপ্ত ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সমিতি ও ট্রাস্টের কর্মী-আধিকারিকদের পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা, স্বশাসিত সংস্থা, ব্যাঙ্ক ও কোম্পানির কর্মীদেরও জনগণনার কাজে নিয়োগ করা যেতে পারে। এমনকী, রাজ্য সরকার বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রশাসন যাঁকে উপযুক্ত বলে মনে করবে, তাঁকেও নিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে।
সিপিআই(এম)-এর বক্তব্য, নিয়োগের ক্ষেত্রে স্পষ্ট মাপকাঠি এবং জবাবদিহির ব্যবস্থা না থাকায় স্বেচ্ছাচারী ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নিয়োগের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শাসক পার্টির সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগ রয়েছে, এমন ব্যক্তিদের জনগণনার কাজে নিয়োগ করা হলে গোটা প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও চিঠিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বেবি।
ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহারের আশঙ্কা
জনগণনায় প্রতিটি পরিবার ও ব্যক্তির কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এই তথ্য রাজনৈতিক পরিচয় নির্ধারণ, নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে নিশানা করা, নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা কিংবা প্রাপ্য অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা থেকে মানুষকে বঞ্চিত করার কাজে ব্যবহৃত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সিপিআই(এম)। পার্টির বক্তব্য, তথ্য সংগ্রহকারীদের নিরপেক্ষতা নিয়ে মানুষের আস্থা না থাকলে তাঁরা প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে দ্বিধা করবেন। তাতে জনগণনার বিশ্বাসযোগ্যতাও প্রশ্নের মুখে পড়বে।
চিঠিতে ২০২৭ সালের জনগণনার দ্বিতীয় পর্যায়ের জন্য ১৪ আগস্ট, ২০২৬-এ বিজ্ঞাপিত প্রশ্নমালার প্রসঙ্গও তুলেছে দল। ওই প্রশ্নমালায় বাবা-মায়ের ধর্ম, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ, আধার ও অন্যান্য পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট এবং মোবাইল নম্বর-সহ নানা তথ্য চাওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই তথ্য সংগ্রহ বন্ধ করা এবং জনগণনার তথ্যের সঙ্গে অন্য কোনও তথ্যভান্ডারের সংযোগ রোধে কঠোর সুরক্ষাব্যবস্থা চালুর দাবিতে গত ২৪ আগস্ট ভারতের রেজিস্ট্রার জেনারেল ও জনগণনা কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছিল সিপিআই(এম)। সংগৃহীত তথ্য নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যের বাইরে ব্যবহার করা যাবে না, সেই নিশ্চয়তাও দাবি করেছিল দল। সাম্প্রতিক বিধি সংশোধনের ফলে সেই উদ্বেগ আরও বেড়েছে বলে রাষ্ট্রপতিকে জানিয়েছেন বেবি।
এসআইআর-এর অভিজ্ঞতার উল্লেখ
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর-এর অভিজ্ঞতার কথাও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। সিপিআই(এম)-এর অভিযোগ, অস্বচ্ছ পদ্ধতি ও খামখেয়ালি নথির শর্তের কারণে এসআইআর-এ যোগ্য নাগরিকদেরও ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে বিপুল পরিমাণ সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব আরও বিস্তৃত এবং পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণহীন কর্মীদের হাতে তুলে দেওয়া উদ্বেগজনক।
বেবির বক্তব্য, জনগণনা দেশের মানুষের জন্য একটি জাতীয় প্রক্রিয়া। একে শাসক দল বা তার আদর্শগত সহযোগীদের রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ার হতে দেওয়া যায় না। জনগণনাকে নজরদারি, নাগরিকত্ব নির্ধারণ কিংবা ভোটাধিকার থেকে মানুষকে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় পরিণত করা চলবে না।
রাষ্ট্রপতিকে লেখা চিঠিতে সিপিআই(এম)-এর সাধারণ সম্পাদক সংশোধিত বিধি প্রত্যাহারে কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশ দেওয়ার জন্য জরুরি হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়েছেন। সংবিধানের নীতি ও জনসাধারণের আস্থার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে জনগণনা পরিচালনার দাবিও জানিয়েছেন তিনি।
Census CPI-M President
জনগণনায় সংশোধিত বিধি প্রত্যাহার চেয়ে রাষ্ট্রপতিকে চিঠি বেবির
×
Comments :0