বই পড়ার চর্চাকে বাঁচিয়ে রাখার লড়াইয়ে এবার শামিল হচ্ছে সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউশনের পড়ুয়ারা। ক্যাম্পাসের গণতন্ত্র বাঁচিয়ে রাখার পাশাপাশি ক্যাম্পাসের বাইরে রাজ্যজুড়ে বামপন্থীদের বইয়ের স্টল স্টলে যে বুলডোজাররাজ চলছে তার বিরুদ্ধে রাস্তায় নামার সিদ্ধান্ত নিলেন চলচ্চিত্র শিক্ষার পড়ুয়ারা।
সম্প্রতিএসআরএফটিআইয়ের রেজিস্ট্রারের তরফে একটি নির্দেশিকা জারি করে চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে পড়ুয়াদের হোস্টেল ফাঁকা করে নেওয়ার হুশিয়ারি দেওয়া হয়েছিলো। ভিন রাজ্য থেকে আসা প্রায় ৮০ থেকে ১০০ ' র কাছাকাছি পড়ুয়াদের পক্ষে রাতারাতি টিকিট সংগ্রহ করে বাড়ি ফিরে যাওয়া যে কার্যত অসম্ভব সেকথা কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলেনও পড়ুয়ারা। কিন্তু খাবারের মেস বন্ধ করে দেওয়া থেকে পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা জারি করে, ৬ জন পড়ুয়াকে দুটো সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কারের নোটিশ ধরানোর মাধ্যমে ক্যাম্পাসের ভেতর ফ্যাসিবাদের শাসন জারি রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে বলে পড়ুয়াদের অভিযোগ। পড়ুয়াদের এই অভিযোগ মূলত এসআরএফটিআইয়ের বর্তমান উপাচার্য আরএসএস ঘনিষ্ঠ সন্তোষ আজমেরার বিরুদ্ধে। রবিবার এসআরএফটিআই ছাত্র সংসদের সম্পাদক সুদীপ চক্রবর্তী জানালেন , কর্তৃপক্ষের হুশিয়ারির তোয়াক্কা না করেই হোস্টেলে রয়েছেন পড়ুয়ারা। চলছে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে এবং পড়ুয়াদের ওপর হিন্দু জাগরণ মঞ্চ ও অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েতের হামলার বিরুদ্ধে ন্যায়বিচার আদায়ের লক্ষ্যে ধর্ণা ও বিক্ষোভ কর্মসূচিও। সুদীপ জানাচ্ছেন মেস বন্ধ করে দেওয়া হলেও নিজেদের দৈনন্দিন খাবারের বন্দোবস্ত নিজেরাই করে নিচ্ছেন পড়ুয়ারা। ইতিমধ্যেই ৬ ছাত্রকে অনৈতিকভাবে বহিষ্কার করার কারণে আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করে আইনী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবনা চিন্তা করা হচ্ছে জানানো হয়েছিল ছাত্রসংসদের তরফে।
রাতারাতি হোস্টেল ছাড়ার হুমকি আসার পরে সেই ভাবনা - চিন্তা সিদ্ধান্তে পরিণত করার দিকে এগোচ্ছেন বলে জানাচ্ছেন পড়ুয়ারা। সমস্ত প্রক্রিয়াগত বিষয় ঠিকঠাক থাকলে সোমবার হাইকোর্টে কর্তৃপক্ষ ও উপাচার্যের বিরুদ্ধে পিটিশন দাখিল করবেন বলে জানালেন সুদীপ চক্রবর্তী। পাশাপাশি রাজ্যজুড়ে বামপন্থীদের বইয়ের স্টলগুলিতে যে ন্যক্কারজনক আক্রমণ চালাচ্ছে আরএসএস বিজেপির কর্মী, সমর্থকরা তার বিরুদ্ধে এবার ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ে শামিল হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানাচ্ছেন চলচ্চিত্র শিক্ষার পড়ুয়ারা। শনিবার নাগেরবাজার, যাদবপুরে এবং রবিবার হাওড়ার শ্যামপুকুর এরিয়া কমিটিসহ একাধিক জায়গায় তছনছ করে দেওয়া হয়েছে বইয়ের স্টল। সুদীপ বলছেন, " বুলডোজারের সামনে দাঁড়িয়ে বই বাঁচানোর লড়াই লড়ছেন ছাত্ররা এই ছবি ইতিহাস তৈরি করল কার্যত। স্বাধীন ভারতের ইতিহাসের কোনো সরকারের আমলে এই ছবি আমাদের দেখতে হয়নি। ওরা ভয় পায় শিক্ষাকে তাই আমরা এবার শিক্ষার পাশে দাঁড়াব। আইনের শাসন ওরা বোঝে না, মানে না, যা বোঝে সেই পথেই লড়াই হবে, রাস্তায় নেমে এবার লড়াই হবে। গোটা দেশের বিশিষ্টজনেরা আমাদের সঙ্গে প্রতিদিন যোগাযোগ করছেন । আমাদের লড়াইয়ে অংশগ্রহণ করার ইচ্ছা প্রকাশ করছেন।
আমরা তাঁদেরকেও স্বাগত জানাচ্ছি। এই লড়াই আর কেবল আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেতরে সীমাবদ্ধ নেই । এর পরিধি বিস্তৃত হচ্ছে রাজ্যে এবং দেশের প্রতিটি প্রান্তে। " প্রতিদিন সকালে ক্যাম্পাসে নিজেদের মতো করে বুক রিডিং সেশন চালাচ্ছেন এসআরএফটিআইয়ের পড়ুয়ারা। তাঁরা জানাচ্ছেন আগে এই সেশন সপ্তাহে তিনদিন হতো । এখন প্রতিদিন হচ্ছে । আক্রমণ যত বাড়বে বই পড়ার ক্লাসও সংখ্যায় তত বেশি বাড়াবেন বলে প্রতিশ্রুতি ভারতের অন্যতম কেন্দ্রীয় চলচ্চিত্র প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের এসআরএফটিআইয়ের পড়ুয়াদের।
SRFTI
বই পড়ার চর্চাকে বাঁচিয়ে রাখার লড়াইয়ে এসআরএফটিআই পড়ুয়ারা
×
Comments :0