Right to Vote

ভোটাধিকার রক্ষার লড়াই নাগরিকত্ব রক্ষারও লড়াই

সম্পাদকীয় বিভাগ

কেড়ে নেওয়া হচ্ছে ভোটাধিকার,  লক্ষ্য কি নাগরিকত্বও? এসআইআর-এ পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম বিচারাধীন তালিকায় ছিল। কমিশন মারফত যেটুকু তথ্য মিলছে তাতে ৩২ লক্ষ নামের নিষ্পত্তি হয়েছে, অর্থাৎ ভোটাধিকারই হোক অথবা তাদের নাগরিকত্ব নিয়ে তোলা প্রশ্নই হোক তার অর্ধেকের ফয়সালা নাকি করে ফেলা হয়েছে। স্পষ্ট করে কেউ কিছু বলছে না, তবু কম বেশি ৪০ শতাংশ বাদ যেতে পারে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যাচ্ছে। ধোঁয়াশা সর্বত্র। আশঙ্কায়, উদ্বেগে এ রাজ্যের বহু মানুষ। আছেন এমন বহু প্রবীণ মানুষও, যাঁরা বহুদিন ধরে ভোট দিয়ে আসছেন। 
প্রশ্ন এখানেই, যাঁরা ভোটার তালিকা থেকে বাদ চলে যাবেন তাঁদের কি হবে? তাদের আসামের মতো সন্দেহজনক ভোটার বা ডি-ভোটারের তালিকায় ফেলে দেওয়া হবে কি ?  নাকি সন্দেহভাজন নাগরিক হিসাবে ডিটেনশন সেন্টারে আটক করে রাখা হবে! পশ্চিমবঙ্গে কি তবে ডিটেনশন সেন্টার তৈরি হবে! মাত্র কয়েকবছর আগে সিএএ, এনআরসি’র নিয়ে হইচইয়ের সময় সে উদ্যোগও দেখা গেছে। মমতা ব্যানার্জির সরকারকেই ডিটেনশন সেন্টারের জন্য মোদী সরকারকে জায়গা-জমি খুঁজে দিতে দেখা গেছে। সেখানে সন্দেহভাজন নাগরিকদের আটক করে প্রয়োজনে বাংলাদেশ পাঠানো বা রিপোর্ট করার পথে হাঁটতে পারে সরকার। এসআইআর শুরুর পরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ স্বয়ং সংসদে বলেছিলেন এসআইআর’র উদ্দেশ্যই হলো অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে তাঁদের নাম বাদ দেওয়া। যার পরবর্তী ধাপ হতেই পারে ভোটার তালিকায় নাম বাদ দিয়ে দেশ থেকে বিতারিত করার পথ প্রশস্থ করা, যা বিজেপি এমনকি তৃণমূলেরও বহুদিনের পুরানো  যুক্তি রাজ্য জুড়ে আছে ’অনুপ্রবেশকারী’। একসময় সংসদেও যা নিয়ে হট্টগোল বাধিয়েছেন মমতা ব্যানার্জি। আপাতত বলা হচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে যাঁদের নাম বাদ যাচ্ছে তাঁদের ট্রাইব্যুনালে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সবাই যেতে পারবে তো?  আর যদি যায় তাহলেও ট্রাইব্যুনাল যদি তাকে ভোটার হিসাবে অযোগ্য বলে বিবেচনা করে, বিশেষ করে নাগরিকত্বের মাপকাঠিতে অযোগ্য বলে দাগিয়ে দেয় তাহলে আইন অনুযায়ী তাঁরা নাগরিকত্ব হারাবেন। তারপর কি হবে ? কোনও উত্তর কমিশন তো নয়ই, বিজেপি বা তৃণমূলের কছ থেকে  মিলছে না। 
ভোটের আগেই ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে, এ দাবি বামপন্থীদের। গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে হবে সংবিধান মেনেই। ভোটার তালিকা ঠিক না হলে ঠিকমত ভোট হবে কি করে!  যাঁরা এসআইআর পর্বে তাদের ভোটাধিকার হারাচ্ছেন, যাঁদের নাম ওঠেনি কিংবা এখনও বিচারাধীন তালিকায় রয়েছেন তাঁদের প্রতিবাদে রাস্তায় নামতে হবে। শুধু তাঁরাই নন, প্রতিবাদে নামতে হবে রাজ্যের সব নাগরিককে। আরএসএস-বিজেপি গণতন্ত্র মানে না। সংসদীয় গণতন্ত্রকে ধ্বংস করতে চায়।  মমতা ব্যানার্জিও পারতেন বিধানসভায় প্রস্তাব আনতে। তামিলনাডু, কেরালা করেছে। মমতা ব্যানার্জি সর্বদলীয় বৈঠক ডেকে এই উদ্বেগ আতঙ্কের নিরসনের চেষ্টা করতে পারতেন। কিন্তু করেননি। ভোটাধিকার রক্ষার জন্য সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে দাঁড়ানোর দরকার ছিল। মমতা ব্যানার্জি তা করেননি। 
এককথায় বলা যায় আঘাত গুরুতর এবং তা সংবিধানের ওপরই।  প্রথম থেকেই এই কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করে এসেছে বামপন্থীরা। আদালতে গিয়েছে  সিপিআই(এম)। আর এ কারণেই ৩০ এবং ৩১ মার্চ রাজ্য জুড়ে ভোটাধিকার রক্ষার দাবি নিয়ে রাস্তায় নামছে সিপিআই(এম)। শুধু তই নয়, ভোটের ট্রাইব্যুনালে বিচারের সুবিধার জন্য রেড ভলান্টিয়ার হিসাবে আইনজীবী স্বেচ্ছাসেবকরা থাকবেন। সেই সঙ্গে রাস্তায় বিক্ষোভ হবে। বাংলার মানুষ ভোট কাকে দেবেন তা পরের কথা। তার আগেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে তাঁরা ভোটাধিকার রক্ষার পক্ষে থাকবেন নাকি, যারা ভোটাধিকার লুট করতে চাইছে তাদের পক্ষে থাকবেন।

Comments :0

Login to leave a comment