অরিজিৎ মণ্ডল
উদ্বোধন হয়েছে চার দিন আগে। পুলিশ কিছু বলেনি। তার আগে পুলিশকে পাঠানো হয়েছে চিঠি। কর জমা পড়েছে কর্পোরেশনে। বিদ্যুতের অনুমতি রয়েছে সিইএসসি’র। এখন যাদবপুর এইট-বি বাসস্ট্যান্ডে স্টল গুটিয়ে দিতে বলছে পুলিশ এবং কর্পোরেশন। মোতায়েন হয়েছে বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী।
সিপিআই(এম) রাজ্য কমিটির সদস্য সুদীপ সেনগুপ্ত পুলিশ এবং কর্পোরেশনের আধিকারিকদের বলেছেন, ভাঙতে হলে বুলডোজার চালাতে হবে আমাদের বুকের ওপর দিয়ে। রয়েছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা। রয়েছেন যাদবপুরের সাধারণ মানুষ।
পুলিশ আধিকারিককে তিনি বলেন, এতদিন বাধা দিলেন না। চার দিন বুক স্টল চলল। বামফ্রন্ট সভাপতি বিমান বসু গত ১৩ অক্টোবর উদ্বোধন করলেন। এখন আদালত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বলছেন কোর্টে যান। এখন এসেছেন ভাঙতে। তিনি বলেছেন, বরাবর যে পদ্ধতি অনুমতি নেওয়া হয়। এবারও তাই হয়েছে। বারবার থানায় যাওয়া হয়েছে। তা’হলে আগে জানানো হলো না কেন যে বুক স্টল করতে দেওয়া হবে না?
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা নন্দিনী মুখার্জি বলেছেন, বোঝাই যাচ্ছে রাজ্যে আসীন সরকার এই পুলিশকে পাঠিয়েছে। ওরা বামপন্থীদের কোনও বু্ক স্টল হতে দেবে না। কাছেই ঢাকুরিয়ায় স্টল ভেঙে দিয়েছে। সরকারে আসীন দল আসলে ভয় পেয়েছে। দিল্লিতে প্রতিবাদ ওদের ভয় ধরিয়েছে।
কোথাও বিজেপি-আরএসএস’র দুষ্কৃতীবাহিনী, কোথাও পুলিশ এবং প্রশাসনকে দিয়ে বামপন্থীদের স্টল ভাঙার কাজ চলছে রাজ্যজুড়ে। গতকাল, ১৮ অক্টোবর, কলকাতা কর্পোরেশনের ১১৩ এবং ১১৪ নম্বর ওয়ার্ডে একের পর এক স্টল ভাঙা হয়েছে। প্রথমে দুষ্কৃতীবাহিনী হামলা করেছে। তারপর এসেছে পুলিশ। আবার পুলিশ আসার কিছুক্ষণের মধ্যে জড়ো হয়েছে দুষ্কৃতী বাহিনী। তার প্রতিবাদে থানায় ডেপুটেশন দেওবা হয়েছে শনিবার।
যাদবপুর এইট-বি বাসস্ট্যান্ডে রাত সাড়ে সাতটা নাগাদ বুক স্টল ঘিরে মানববন্ধন করেছেন বামপন্থী কর্মী-সমর্থকরা। পৌঁছেছেন সিপিআই(এম) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী।
Comments :0