প্রসূন ভট্টাচার্য
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে পুলিশে পুলিশে ছয়লাপ। মোতায়েন করা হয়েছে সিআরপিএফ। ভেতরে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আসছেন মন্ত্রীরা।
কিন্তু মা-কে আর ফিরে পাবেন না জেনে গিয়েছেন সৌরভ। কুমারটুলির সৌরভ মন্ডল মা-কে নিয়ে গিয়েছিলেন চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসবের মণ্ডবে। তিনি নিজেও আহত। জানালেন যে তিনি কোনোক্রমে মা-কে নিয়ে মেডিক্যাল কলেজে আসেন। এক্সিট গেটের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন তাঁরা। ভিড়ের চাপে সেখানেই পদপিষ্ট হতে থাকেন দর্শনার্থীরা। তিনিই জানিয়েছেন ঘটনার পর ছিল না পুলিশ।
মেডিক্যাল কলেজ চত্বরে শোকের আবহ গভীর। আর্তনাদ এবং স্বজন হারানোর বেদনা চারদিকে।
রাজ্যের মন্ত্রীরা এলেও সংবাদমাধ্যমে কোনও কথা বলছেন না। মুখ নিচু করে ভেতরে ঢুকে যাচ্ছেন। শনিবার রাত ১১টা নাগাদ মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৮। তার মধ্যে এক শিশুও রয়েছে। এখনও ঢুকছে অ্যাম্বুল্যান্স।
বিপর্যয়ের পর দেখা মেলেনি পুলিশ বা দমকলের। পুজো কমিটির কোনও ব্যবস্থাপনাই ছিল না। আপৎকালীন দরজার ব্যবস্থাও রাখা হয়নি। ভিড়ের চাপে অনেকে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান। আহতদের অনেককে হাতের কাছে কিছু না পেয়ে মোটর বাইকে করেই নিয়ে যেতে হয়েছে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।
রাত সাড়ে দশটায় জানা যাচ্ছে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৮। তার মধ্যে রয়েছে এক শিশুও। ভর্তি অন্তত ৪০। তার মধ্যে একাধিক আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন।
গিরিশ পার্ক থানা এলাকায় চোরবাগানের পুজো ঘিরে এইঅভিযোগে সোচ্চার হয়েছেন দর্শনার্থীদের বড় অংশ। তাঁরাই জানিয়েছেন প্রাথমিকভাবে তাঁদের সহায়তা করতে এগিয়ে আসেন স্থানীয়রাই।
অপ্রশস্ত রাস্তায় পুজো। ভিড় দেখাই যাচ্ছিল। পুলিশ এবং প্রশাসনের ভূমিকা কী তা নিয়ে রয়েছে একগুচ্ছ ক্ষোভ। ঘটনার পরপরই মেলেনি দমকলের দেখা।
শনিবার, দুর্গাপুজোর সপ্তমীতে ভিড় বাড়ছিল সন্ধ্যায়। তার ওপর নামে বৃষ্টি। ফলে অনেকে এক্সিট গেটের সামনে ভিড় করে দাঁড়িয়েছিলেন। জানা গিয়েছে এক্সিট গেট বন্ধ ছিল। এর মধ্যেই মন্ডপ চত্বরে ভিড় বাড়তে থাকে। বাড়ে হুড়োহুড়ি। বেশ কয়েকজন মাটিতে পড়ে যান।
রাজ্য প্রশাসন এবং কলকাতা কর্পোরেশন এদিনই ব্যস্ত ছিল বামপন্থীদের বইয়ের স্টল ভাঙার কাজে। বিনা অনুমতিতে স্টল করার যুক্তি দিয়ে বিশাল পুলিশবাহিনী এবং কর্পোরেশনের লোকজন নেমে পড়ে স্টল ভাঙতে। যাদবপুর এইট বি বাসস্ট্যান্ডে পাঠানো হয় বুলডোজার। মোতায়েন করা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী। অথচ প্রশাসনের উৎসবের সময় যে ব্যবস্থাপনা করার কথা সেখানেই থেকে গিয়েছে বড় ফাঁক।
চোরবাগানে প্রশ্ন উঠেছে অপ্রশস্ত রাস্তায় এত বড় পুজোর আোজনের ক্ষেত্রে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা রাখা হয়নি কেন, তা নিয়ে। পুলিশ বা দমকল থেকে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট অংশগুলি কী করছিল, তা নিয়ে রয়েছে ক্ষোভ।
সন্ধ্যা ৭ টা ৪০ নাগাদ ভিড়ের চাপে অসুস্থ হয়ে পড়তে থাকেন দর্শনার্থীরা। কিছু পরে মেডিক্যাল কলেজে বাড়তে থাকে অসুস্থদের ভিড়। রাত দশটার কিছু আগেই অন্তত ৭ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হয়। হাসপাতালে আনা হতে থাকে একের পর এক সংজ্ঞাহীন দর্শনার্থীকে।
Comments :0