দুর্গাপুজো শুরু হলেও উৎসবের আনন্দ নেই ডুয়ার্সের বহু চা শ্রমিকের পরিবারে। কোথাও বোনাসের টাকা বকেয়া, কোথাও মজুরি আটকে থাকার অভিযোগ, আবার কোথাও দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ চা বাগান। বকেয়া পাওনা মেটানো, বন্ধ বাগান খোলা এবং শ্রমিকদের আইনগত অধিকার সুনিশ্চিত করার দাবিতে জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারের চা বলয়ে ক্রমশ ক্ষোভ বাড়ছে। বাগরাকোট চা বাগানে মালিক পক্ষের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের এবং আলিপুরদুয়ারে পাঁচটি চা বাগানের ম্যানেজার গ্রেপ্তারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে। শ্রমিক নেতৃত্ব পুজোর দিন গুলিতে বৃহত্তর আন্দোলন স্থগিত রাখলেও উৎসব মিটলেই জোরালো আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
জলপাইগুড়ি জেলার বামনডাঙা, টুন্ডু, ধরণীপুর, সামসিং, বাগরাকোট, নাগেশ্বরী ও কিলকোট চা বাগানে বোনাসের পরিমাণ এবং বকেয়া পাওনা নিয়ে অসন্তোষ চলছে। শ্রমিক সংগঠন গুলির সঙ্গে বাগান কর্তৃপক্ষের দফায় দফায় আলোচনা হলেও এখনও স্থায়ী সমাধান মেলেনি। বোনাসের টাকা নির্ধারিত সময়ে না পাওয়া এবং মালিক পক্ষের অবস্থান ঘিরে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। বাগরাকোট চা বাগানে বকেয়া বোনাসের দাবিতে মালিক পক্ষের বিরুদ্ধে স্থানীয় চা শ্রমিকরা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অন্যদিকে, চামুর্চি, আমবাড়ি, রেড ব্যাংক ও সুরেন্দ্রনগর চা বাগান দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। কাজ ও নিয়মিত আয়ের অনিশ্চয়তায় এই বাগান গুলির হাজার হাজার শ্রমিক পরিবারের জীবন-জীবিকা গভীর সংকটে। বন্ধ বাগান দ্রুত খোলা, শ্রমিকদের প্রাপ্য পাওনা মেটানো এবং জীবিকার নিশ্চয়তার দাবিতে সরব হয়েছেন জয়েন্ট ফোরাম।
আলিপুরদুয়ার জেলাতেও বেতন ও বোনাস বকেয়া থাকাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত। সিআইটিইউ-র আলিপুরদুয়ার জেলা সম্পাদক বিকাশ মাহালী জানান, গত শুক্রবার দীর্ঘ আলোচনা হলেও কোনও সদর্থক ফল মেলেনি। বিকেল চারটে পর্যন্ত শ্রমিকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা না ঢোকায় ক্ষোভ চরমে ওঠে। বকেয়া পাওনা আদায়ের দাবিতে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা রাত সাড়ে এগারোটা পর্যন্ত থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান।
পুলিশ ও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মেরিকো কোম্পানির অধীন আলিপুরদুয়ার জেলার ছয়টি চা বাগানের মধ্যে হান্টু, দুমসি, গারগাণ্ডা, বীরপাড়া ও ডিমডিমা—এই পাঁচটি বাগানের ম্যানেজারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ষষ্ঠ বাগানের ম্যানেজারকে এখনও গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে খবর।
এই গ্রেপ্তারির পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিকাশ মাহালী। তাঁর অভিযোগ, শ্রমিকদের ক্ষোভ ও আন্দোলনকে স্তিমিত করতেই লোক দেখানো পদক্ষেপ করা হয়েছে। শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা মেটানোর ক্ষেত্রে মূল মালিক পক্ষের দায় এড়িয়ে শুধু ম্যানেজারদের গ্রেপ্তার করে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। শ্রমিকদের প্রাপ্য টাকা আদায় এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়াই জরুরি।
পুজোর সময়ে সাধারণ মানুষের অসুবিধার কথা বিবেচনা করে জয়েন্ট ফোরাম আপাতত বৃহত্তর আন্দোলনে না নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে চা বাগান মজদুর ইউনিয়ন নেতৃত্ব সিকান্দার মাঝি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, পুজো মিটলেই বকেয়া বোনাস ও মজুরি আদায়, বন্ধ চা বাগান খোলা এবং আইনগত অধিকার রক্ষার দাবিতে আরও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
Dooars
বোনাস, বকেয়া পাওনা ক্ষোভ ডুয়ার্সের চা বলয়ে
×
Comments :0