শারদ উৎসব যখন শেষের মুখে তখন সেই সময় দাঁড়িয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্য নতুন করে বিতর্ক তৈরি করল। বাজে কদমতলা ঘাট পরিদর্শনে এসে তিনি স্পষ্ট ঘোষণা করলেন, "সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষরাই কেবলমাত্র প্রতিমা স্পর্শ করবেন।"
প্রশাসনিক পরিদর্শনের মঞ্চকে এভাবে ধর্মীয় বিভাজনের হাতিয়ার করা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।
প্রতিমা বিসর্জন বাংলায় কখনোই কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়, এটি একটি সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক সমন্বয়ের উৎসব। কলকাতা পুরনিগমের কর্মী থেকে শুরু করে পোর্ট ট্রাস্ট, পুলিশ, NDRF - বহু ধর্মের, বহু সম্প্রদায়ের মানুষের অক্লান্ত পরিশ্রমে এই বিসর্জন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। সেখানে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী যখন বলেন কে প্রতিমা ছোঁবে আর কে ছোঁবে না, তখন তা সরাসরি সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষ চেতনার পরিপন্থী।
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে সাম্প্রদায়িকতা নেই বলে সাফাই দিলেও, তাঁর বক্তব্যের মধ্যেই গভীর সাম্প্রদায়িক ইঙ্গিত স্পষ্ট। "এটার মধ্যে কোনও সাম্প্রদায়িকতা নেই" - এই আত্মপক্ষ সমর্থনই প্রমাণ করে তিনি জানেন তাঁর মন্তব্য বিভাজনমূলক।
একজন মুখ্যমন্ত্রীর কাজ সকল নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ধর্ম দেখে মানুষকে আলাদা করা নয়। বিসর্জন ঘাটে নিরাপত্তা, আলো, ক্রেন, বিপর্যয় মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে কথা বলার বদলে কে সনাতন আর কে নয়, সেই বাছাই করতে ব্যস্ত হলেন তিনি। এটা প্রশাসনিক ব্যর্থতাকে ঢাকতে ধর্মীয় মেরুকরণের চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়।
বাংলার দুর্গাপুজো ইউনেস্কো স্বীকৃত, কারণ এর অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্র। সেই ঐতিহ্যকে ক্ষুন্ন করে ঘাট থেকে দেওয়া এই বার্তা বাংলার সংস্কৃতির জন্য অশনি সংকেত। উৎসবকে উৎসব থাকতে না দিয়ে, তাকে সংকীর্ণ ধর্মীয় গণ্ডিতে বেঁধে ফেলার এই প্রয়াসকে সাধারণ মানুষ ভালোভাবে নিচ্ছেন না।
Comments :0