Brown sugar

২৯০ গ্রাম ব্রাউন সুগার উদ্ধার করণদিঘীতে, গ্রেপ্তার ১০

জেলা

পুজোর মরশুমে উত্তর দিনাজপুরের করণদিঘীতে ২৯০ গ্রাম ব্রাউন সুগার উদ্ধার এবং ১০ জনকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। করণদিঘি থানার অন্তর্গত দোমহনা বিকৌর এলাকায়  সোমবার রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অভিযান চালায় পুলিশ। ধৃতদের প্রত্যেকের বাড়ি মালদহের কালিয়াচক থানা এলাকায় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। ধৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে এই অভিযানের সাফল্যের পাশাপাশি মাদক পাচার প্রতিরোধে পুলিশের নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
প্রশ্ন উঠছে, ভিন জেলা থেকে এত পরিমাণ ব্রাউন সুগার কীভাবে করণদিঘীতে পৌঁছল? আন্তঃজেলা মাদক পাচারের সম্ভাব্য রুটগুলিতে কি নিয়মিত নজরদারি চালানো হচ্ছে? মাদক পাচারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের গতিবিধি সম্পর্কে আগাম তথ্য সংগ্রহে পুলিশের গোয়েন্দা ব্যবস্থা কতটা সক্রিয়? গোপন সূত্রে খবর পাওয়ার পর অভিযান চালিয়ে মাদক উদ্ধার করা গেলেও, পাচারচক্রের মূল উৎসে পৌঁছনোই এখন পুলিশের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।
শুধু ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেই কি মাদক কারবারের জাল ছিন্ন করা সম্ভব? এই চক্রের পিছনে বড় কোনও সরবরাহকারী, আর্থিক মদতদাতা কিংবা আন্তঃজেলা যোগাযোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে মাদকের উৎস, সরবরাহের পথ এবং সম্ভাব্য ক্রেতাদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা গেলে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হতে পারে। পুলিশের তদন্তের দিকেই এখন নজর রয়েছে।
এই ঘটনায় রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও সামনে এসেছে। সিপিআই(এম)-এর উত্তর দিনাজপুর জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য সুরজিৎ কর্মকারের অভিযোগ, মাদক কারবারের পিছনে শাসক দলের হাত রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, সাধারণ মানুষের পক্ষে এভাবে মাদক পাচার করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। যদিও এই অভিযোগের সমর্থনে কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি এবং এ বিষয়ে শাসক দলের প্রতিক্রিয়াও জানা যায়নি।
পুজোর মরশুমে যুবসমাজকে মাদকের গ্রাস থেকে রক্ষা করা এবং মাদক পাচার বন্ধ করা প্রশাসনের কাছে বড় দায়িত্ব। তাই বিচ্ছিন্ন অভিযান ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি মাদক সরবরাহের মূল উৎস চিহ্নিত করে গোটা চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। করণদিঘীর এই ঘটনায় পুলিশ শেষ পর্যন্ত পাচারচক্রের শিকড়ে পৌঁছতে পারে কি না, এখন সেটাই দেখার।

Comments :0

Login to leave a comment