অন্যকথা
মুক্তধারা
---------------------------------------------
নেতা অভিনেতার লড়াই
---------------------------------------------
কৃশানু ভট্টাচার্য্য
তখনও দেশ হয়নি স্বাধীন, কিন্তু তখনই স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠান কিংবা কেন্দ্রীয় ও রাজ্যের আইন সভায় সদস্যপদ পাবার জন্য এদেশের প্রভাবশালী মানুষদের লড়াই অব্যাহত ছিল। ভোটযুদ্ধ এদেশে গত শতাব্দীর দুইয়ের দশক থেকে বেশ জনপ্রিয়। নির্বাচন আসলেই জনতা জনার্দনের দরবারে করজোড়ে অনেক সাধু মহাত্মা প্রভাবশালী নতমস্তকে হাজির হতেন। তাদের মন পাবার জন্য নানা ধরনের উদ্ভট প্রতিশ্রুতিও দিতেন। তারপর? বলাই বাহুল্য।
সেই যুদ্ধে নেতাদের অভিনেতা হবার সহজাত দক্ষতা বারে বারে লক্ষ্য করা গেছে। প্রতিশ্রুতি সেজে কি বিরাট বহর! মাছ কুটলে মূড়ো দেবো , গাই বিয়োলে দুধ দেবো, দুধ খেতে বাটি দেবো, ফি দিলে উকিল হব- নানা ধরনের জনমনোরঞ্জক প্রতিশ্রুতি। আজকের দিনে যখন এই বঙ্গের ভোট রঙ্গের বাজারে নেতাদের নাপিত কিংবা রাজমিস্ত্রি ভূমিকায় দেখতে পাওয়া যাচ্ছে সেই ট্রাডিশনের জন্ম কিন্তু এই দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে থেকে।
সে সময়েও তাদেরকে তীর্যক ভাষায় আক্রমণ করে কবিতা গান এবং গদ্য রচনায় বিদ্ধ করেছেন এ দেশের সাংবাদিকরা। এদের একজন অগ্রগণ্য মানুষ ছিলেন শরৎচন্দ্র পণ্ডিত । এক কথার মানুষ- কারণ তিনি নিজেই বলতেন তার জন্ম সাল যেদিক থেকেই পড়া হোক না কেন একই থাকে- ১৮৮১। আবার যেদিন জন্মেছিলেন ৮৭ বছর পর সেদিনকেই তার প্রয়াণ- বাংলা ক্যালেন্ডার এ দিনটি ১৩ ই বৈশাখ।
কেবলমাত্র রাজনৈতিক প্রশ্নে বিদ্রূপাত্মক রচনার মধ্যে দিয়ে অংশগ্রহণই নয় রীতিমতো সমাজের গণ্যমান্য শক্তিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে জঙ্গিপুর পৌরসভার পৌর প্রতিনিধি পদে তিনি কার্তিক চন্দ্র সাহা নামে একজন অতি সাধারণ নিম্নবিত্ত মানুষকে জিতিয়েছিলেন। এও কিন্তু কম কথা নয়। কারণ সমসাময়িক উচ্চবিত্ত সমাজের কাছে এ ছিল একটা বিরাট বড় আঘাত। যারা নিজেদের বিদ্যা এবং বৃত্তের মিশ্রণে সমাজ ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করবার স্বঘোষিত দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন তাদের কাছে এ ছিল এক আক্রমণ। সেই কারণেই ভোটরঙ্গের বাজারে বারে বারে উচ্চারিত হয় দাদা ঠাকুরের কবিতা এবং রচনা। সেই কারণেই ভোটের বাজারে প্রার্থীদের দেখলে মানুষের কানে বেজে ওঠে-
" আমি নেতা না অভিনেতা হেথায় মালুম করিবে কে তা?"
দায়টা অবশ্যই জনগণের- অজস্র অভিনেতার মধ্যে থেকে যোগ্য নেতা কে বেছে নেবার কঠিন কাজটা কিন্তু তাদেরকেই করতে হবে।
Comments :0