সোমবার শেষ লগ্নের প্রচারে শহীদ তামান্নার মা সাবিনা ইয়াসমিনের সমর্থনের মহামিছিল হয় কালিগঞ্জে। রাস্তার দু'ধারে মানুষের ঢল নামে। উপনির্বাচনের ফল গণনার দিন তৃণমূলের ছোঁড়া বোমায় খুন হয় চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী তামান্না। একমাত্র মেয়েকে হারানো মা কালিগঞ্জকে বোমা মুক্ত, সমাজবিরোধী মুক্ত, উন্নয়নের পাশাপাশি শান্তির পরিবেশ প্রতিষ্ঠিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
পলাশীর প্রান্তর থেকে শুরু হওয়া মহামিছিলে ছাত্র- যুব মহিলা সহ কৃষক,পরিযায়ী শ্রমিক সমাজের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং শেষ দেখে নেবার প্রত্যয়ী মেজাজে কাঁপন ধরে শাসক শিবিরের। সিপিআই(এম) প্রার্থী সাবিনা ইয়াসমিনের মিছিল ভেস্তে দেওয়ার চেষ্টা করে পুলিশ। অভিযোগ, একই সঙ্গে একই জায়গায় একই সময় দুটো রাজনৈতিক দলকে প্রচারের অনুমতি দেয়। পুলিশের এই ভূমিকায় কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম ও রাজ্য কমিটির সদস্য শতরূপ ঘোষ। নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, দুটি রাজনৈতিক দলকে এনওসি দেওয়ায় বিডিও অফিস অনুমতি দিয়েছে। তৃণমূলকে সুবিধা পাইয়ে দিতেই পুলিশ এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
শেষ প্রচারে এদিন রীতিমতো ঝড় উঠল নদীয়া জেলা জুড়ে। জেলার উত্তরের কালিগঞ্জ বিধানসভার পলাশী সীমান্ত, এদিকে করিমপুর থেকে জেলার দক্ষিণ প্রান্তের কল্যাণী, অন্যদিকে নবদ্বীপ থেকে কৃষ্ণগঞ্জ, সীমান্ত পারের মতুয়া অধ্যুষিত উত্তর-পূর্ব বা শান্তিপুর, চাকদহ থেকে হরিণঘাটা সর্বত্র। জেলার উদ্বাস্তু তপশিলি সমাজ, সংখ্যালঘু সমাজের মানুষ তৃণমূল ও বিজেপি শিবিরের ওপর আস্থা হারিয়েছে সেই ছবির স্পষ্ট আভাস মিলছে জেলা জুড়েই। শতাংশের বিচারে নদিয়ায় সবথেকে বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। নদীয়ায় ৪ লক্ষ ৮৭ হাজার ৫১৯ জন ভোটারের মধ্যে ২ লক্ষ ৮ হাজার ৬২৬ জন ভোটারের নাম বাদ গেছে বিচারাধীন তালিকা থেকে। রানাঘাট উত্তর-পূর্ব রানাঘাট দক্ষিণ ও কৃষ্ণগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্র এলাকা মতুয়াগড় বলে পরিচিত। ভোটাধিকার হারানো ৫২,৫০০ জনই এই ৩ কেন্দ্রের। এসআইআর নিয়ে দুই শাসকের বিরুদ্ধেই মানুষের যে তীব্র ক্ষোভ নিয়ে ইতোমধ্যে জোর চর্চা শুরু হয়ে গেছে। রানাঘাট উত্তর-পূর্ব কেন্দ্রের সিপিআই(এম) প্রার্থী হরিচাঁদ গুরুচাঁদ আদর্শ যাত্রার জেলা আহ্বায়ক, মতুয়া ঘরের শ্রমিক পরিবারের শহীদ পিতার সন্তান, তরুণ যুবক মৃণাল বিশ্বাস এর ওপর মানুষের আস্থার প্রতিফলন ঘটেছে শেষ দিনের প্রচারেও। চাপড়া ও পলাশী পাড়া কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থীদের কপালে রীতিমতো ভাঁজ ফেলেছে বাম সমর্থিত আইএসএফ প্রার্থীরা। কল্যানীবাসী তৃণমূল ও বিজেপির শাসনকে হাড়ে হাড়ে চিনে নিয়েছে। মানুষের ভরসা বেড়েছে প্রাক্তন এসএফআই নেতা, সিপিআই(এম) প্রার্থী সবুজ দাসের ওপর। একই রকম ভাবে ২ শাসক শিবির কে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন রানাঘাট উত্তর-পশ্চিম কেন্দ্রের আইনজীবী সিপিআই(এম) প্রার্থী দেবাশীষ চক্রবর্তী।
এদিকে শান্তিপুরে সিপিআই(এম)’র প্রার্থী হয়েছেন সারা বছর মানুষের পাশে থাকা সংগ্রামী নেতা সৌমেন মাহাতো। ঘাতক তৃণমূলের হাতে শহীদদের রক্ত ভেজা চাকরি বিক্রির অন্যতম শান্তিপুর আর ভুল করতে রাজি নই। তেহট্ট বিধানসভা কেন্দ্রের সিপিআই(এম) সুবোধ বিশ্বাস। প্রাক্তন শিক্ষকের প্রচার ও মানুষের ব্যাপক সমর্থনের কারণে দিশাহারা তৃণমূলে বিজেপি। তৃণমূলের অপশাসনের বিজেপির ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতিতে দূরে সরিয়ে নবদ্বীপ বিধানসভার সিপিআই(এম) প্রার্থী স্বর্ণেন্দু সিংহ-র সমর্থনে মানুষের ঢলই জানিয়ে দিচ্ছে তাদের মনের ভাষা। কৃষ্ণনগর দক্ষিণ কেন্দ্রের সিপিআই(এমএল-র) প্রার্থী লাবনী জঙ্গিও তৃণমূল বিজেপি শিবিরের সব অংককে কার্যত নস্যাৎ করে দিয়েছে। সেই একই চিত্র দেখা গেছে দ্বিতীয় দফা নির্বাচনের শেষ প্রচারে কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রেও। শেষদিনের কৃষ্ণনগর শহরের প্রতিটা ওয়ার্ড পরিক্রমা করে মিছিল। ছিলেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম, পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুমিত দে, রাজ্য কমিটির সদস্য অলকেশ দাস, শতরূপ ঘোষ, মেঘলাল শেখ, প্রাক্তন বিধায়ক সুবিনয় ঘোষ, এসএম সাদী প্রমুখ। সিপিআই(এম) কর্মী সমর্থক সহ বহু অংশের সারারণ মানুষের মহামিছিলে পা মেলান।
বাংলাকে বাঁচাতে লাল ঝাণ্ডার শক্তি বৃদ্ধি করতে, সিপিআই(এম) প্রার্থী শুক্লা সাহা চক্রবর্তীর প্রচারে নাওয়া খাওয়া ছেড়ে অংশ নেওয়ার নতুন মুখের সংখ্যা বৃদ্ধিতে চিন্তা বাড়িয়েছে দুই শিবিরকেই।
West Bengal Elections
কালিগঞ্জে বাম প্রার্থীর মিছিল ভেস্তে দেওয়ার চেষ্টা পুলিশের
×
Comments :0