পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর’র কাজে নিযুক্ত আরও এক বিএলও’র মৃত্যু হয়েছে। মৃতের নাম হামিমুল ইসলাম(৪৮)। শনিবার স্কুলের ভেতর থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। ভোটার তালিকা থেকে তথাকথিত ঘুসপেটিয়া বা অনুপ্রবেশকারীদের নাম ছেঁটে ফেলার আওয়াজ তুলে নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে এসআইআর চালু করে কেন্দ্রীয় সরকার। বিহারেও এসআইআর’র পর তেমন কোনও অনুপ্রবেশকারীর সন্ধান মেলেনি। একইভাবে পশ্চিমবঙ্গ সহ দেশের বাকি ১১ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে যে এসআইআর হয়েছে বা চলছে, তাতেও শোরগোল ফেলে দেওয়ার মতো অনুপ্রবেশকারী কিছু খুঁজে পাওয়া যায়নি। অথচ এসআইআর প্রক্রিয়ার চাপে অসুস্থ, এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হচ্ছে একেবারে নিচু স্তরে কাজ করা বিএলও-দের। অনেকে বিএলও আবার নিজেদের পেশাগত কাজের পাশাপাশি এই বাড়তি চাপ নিতে না পেরে আত্মহননের পথও বেছে নিয়েছেন। যাঁদের আস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে তাঁরা অধিকাংশই হৃদরোগে আক্রান্ত হন। দু’-একজনের মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণেও মৃত্যু হয়েছে। এই মৃত্যু-মিছিল দেখে অন্যরা উদ্বিগ্ন হলেও কেন্দ্রীয় সরকার কিংবা নির্বাচন কমিশন নির্বিকার। একারণেই ক্ষোভ বাড়ছে সর্বত্র।
শনিবার রাতে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায় এক বিএলও আত্মঘাতী হয়েছেন। নিহত বিএলও হামিমুল ইসলামের পরিবারের পক্ষ থেকে জানা গিয়েছে, এসআইআর’র কাজ করার সময় প্রায়শই অসন্তোষ প্রকাশ করতেন তিনি। শনিবার রাতে একটি স্কুলের ভেতর থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়।
পরিবারের দাবি অসুস্থ থাকলেও বিএলও কাজ নিয়ে চাপে ছিলেন। গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করতে হতো তাঁকে। জানা গিয়েছে শনিবার সকালে স্কুলে যাওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বের হন রানিতলা থানার নশিপুর আলাইপাড়ার বাসিন্দা হামিমুল ইসলাম (৪৮)। তিনি রানীতলা থানার চরকৃষ্ণপুর বালক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। দুপুর থেকে তাঁর ফোন বন্ধ ছিল। রাত হয়ে গেলেও বাড়ি না ফেরায় পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করে। রাত প্রায় ১১টা নাগাদ ওই স্কুলের মধ্যে ঘর থেকে উদ্ধার ঝুলন্ত মৃতদেহ। পরিবারের সদস্যদের দাবি কাজের চাপেই এমন ঘটনা। রানিতলা থানার পুলিশ দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। কি ভাবে ওই বিএলও মৃত্যু হল তদন্তে নেমেছে পুলিশ।
রানীতলা থানার আধিকারিক জানান, শনিবার গভীর রাতে দেহ উদ্ধার হয়। স্কুলের ভেতরে একটি কক্ষে স্থানীয়রা তাঁর মৃতদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়।
মৃতের পরিবারের অভিযোগ, হামিমুল ইসলাম কাজের কারণে প্রচণ্ড মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে, এসআইআর সম্পর্কিত কাজগুলি সময়মতো সম্পন্ন করার চাপ হঠাৎ করে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এই অতিরিক্ত দায়িত্ব তাঁর অবস্থার আরও অবনতি ঘটায়। একদিকে তিনি স্কুলে শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছিলেন অন্যদিকে, তিনি বিএলও’র কাজও করছিলেন। হামিমুল ইসলামের বড় ভাই ফরমান-উল-কালাম অভিযোগ করেছেন যে এসআইআর সম্পর্কিত কাজের চাপ তার ভাইয়ের পক্ষে সামলানো খুব কঠিন হয়ে পড়ে। তাঁর দাবি, এই চাপের কারণেই তিনি এই চরম পদক্ষেপ নিয়েছেন।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনীর কাজ করতে গিয়ে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩৩ জন বুথ স্তরের কর্মীর (বিএলও) মৃত্যু হয়েছে। কাজের চাপেই তাঁদের অধিকাংশের মৃত্যু হয়েছে বলে পরিবারগুলির অভিযোগ। অনেকে চাপ সহ্য করতে না পেরে আত্মঘাতীও হয়েছেন। শনিবার মুর্শিদাবাদের আরও এক বিএলও’র অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। এত জন বিএলও’র মৃত্যু হলেও নির্বিকার কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার এবং নির্বাচন কমিশন।
BLO Dies By Suicide
ফের বিএলও’র অস্বাভাবিক মৃত্যু মুর্শিদাবাদে
×
Comments :0