Cut Money TMC

কোচবিহারে ‘কাটমানি’ ফেরাতে তৃণমূল নেতাদের মাইকিং-মুচলেকা

জেলা

তৃণমূল আমলে নেওয়া ‘‘কাটমানি’’ ফেরানোর হিড়িক কোচবিহারে। কোথাও কাটমানি তোলাবাজির টাকা ফেরাতে তৃণমূলের নেতা,পঞ্চায়েতদের বাড়িতে বিক্ষোভের পাশাপাশি প্রতারিতরা যেমন আইনের দ্বারস্থ হচ্ছেন আবার অনেক জায়গায় কাটমানি খোরেরা রীতিমত মাইকিং করে নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট জায়গায় প্রতারিরদের হাজির হতে জানান দিচ্ছেন। কাটমানির টাকা ফেরত দিতে চেয়ে কোচবিহারের ঘুঘুমারি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার তৃণমূলের এক পঞ্চায়েত সদস্য মাইকিং করে আগামী ৪ জুন তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বললেন! অন্যদিকে মাথাভাঙা শহর লাগোয়া ফকিরেরকুঠিতে গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য সহ কয়েকজন তৃণমূল নেতা বাড়িবাড়ি গিয়ে প্রতারিতদের টাকা ফেরাচ্ছেন! মাথাভাঙা শহরের ৮ নং ওয়ার্ডের এক প্রাক্তন কাউন্সিলার কাটমানি ও তোলাবাজির টাকা ফেরত দেবার মুচলেকা দিয়ে আগামী দূর্গাপুজা পর্যন্ত সময় নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রতারিতরা।
কোচবিহার জেলার ঘুঘুমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের ৪/১৭৩ নম্বর বুথের তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যা জ্যোৎস্না বর্মন নিজের উদ্যোগে এলাকায় মাইক যোগে প্রচার করে জানিয়েছেন যারা আবাস যোজনার ঘর নেবার জন্য টাকা দিয়েছিলেন তারা যেন আগামী ৪ জুন টাকা ফেরত নিয়ে যায়। ওই এলাকার বাসিন্দা মলিন বর্মন বলেন, পঞ্চায়েত সদস্য শুধু মাইকিং করেন নি, যাদের কাছে কাটমানি নিয়েছিলেন তাদের বাড়ি বাড়ি খবর পাঠিয়েছেন আগামী ৪ জুন তার বাড়িতে গিয়ে যেন টাকা ফেরত নিয়ে আসে। ঘুঘুমারির মত মাইকিং না হলেও মাথাভাঙা শহর লাগোয়া পচাগড় গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য বিক্রম দত্ত ওরফে পুচু, এলাকার তৃণমূল নেতা পেশায় প্রাথমিক শিক্ষক জয়ন্ত রায়, তপন দে(চানু) মজিবুল, বুবাই সহ আরও দুই তিনজন কাটমানি ও তোলাবাজি চালিয়েছে দীর্ঘ সময়। প্রাথমিক হিসেব অনুযায়ী ওই চক্র সব মিলিয়ে ওই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা থেকে ৮০ লক্ষ টাকার ওপরে কাটমানি ও তোলাবাজি করেছিল। প্রতারিতরা জানিয়েছেন ওই পঞ্চায়েত সদস্য ও নেতারা ইতিমধ্যে বাড়ি বাড়ি গিয়ে টাকা ফেরাতে শুরু করেছেন।
মাথাভাঙা পৌরসভার তৃণমূলের প্রাক্তন কাউন্সিলার মুকুল সাহাও কাউন্সিলার থাকা কালীন সময়ে যে কাটমানি ও তোলাবাজি করেছেন তা ফেরানোর জন্য আগামী পুজো পর্যন্ত সময় চেয়ে মুচলেকা দিয়ে টাকা ফেরানোর কাজ শুরু করেছেন বলে জানা গেছে। এদিকে মাথাভাঙা শহরের তৃণমূলের ভাইসচেয়ারম্যাম থেকে দলের শহর সভাপতি এবং অন্তত এক ডজন তৃণমূল নেতা কাটমানি ও তোলাবাজির টাকা ফেরতের ভয়ে এখনও এলাকাছাড়া রয়েছেন।
রবিবার কোচবিহারের ঘুঘুমারী গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৭১ নম্বর বুথের পালপাড়া এলাকায় পঞ্চায়েত সদস্য মন্টু রায়ের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ শুরু করেছেন। অভিযোগ ওই পঞ্চায়েত সদস্য আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দিতে উপভোক্তা পিছু ১০ হাজার করে টাকা কাটমানি হিসেবে আদায় করেছিল। কাটমানি ফেরানোর দাবিতে কোচবিহার-১ ব্লকের হাঁড়িভাঙা গ্রাম পঞ্চায়েত তৃণমূলের সদস্য মোস্তাফা আলী মিয়ার বাড়িতেও ঘেরাও করে বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। ইনি আবার দলের অঞ্চল সভাপতিও ছিলেন। অভিযোগ আবাস যোজনার প্রাপক গোবিন্দ দাসের থেকে ৫৮ হাজার টাকা কাটমানি নিয়েছেন! উপভোক্তা পেয়েছেন মাত্র ৫২ হাজার টাকা! এরকম ভুঁড়ি ভুঁড়ি অভিযোগ রয়েছে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
উল্লেখ্য ভোটের ফল প্রকাশের পর কোচবিহার জেলার ১২৮টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ইতিমধ্যে কাটমানি ফেরানোর দাবিতে বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন প্রতারিত উপভোক্তারা। এসব দেখেই তৃণমূলের অনেক পঞ্চায়েত সদস্য ও দলের নেতা প্রতারিতদের রোষের হাত থেকে বাঁচতে নিজেরাই মাইকিং করে টাকা ফেরাচ্ছেন। কোথাও বা বাড়ি বাড়ি গিয়ে টাকা ফেরাচ্ছেন। দিচ্ছেন মুচলেকাও।

Comments :0

Login to leave a comment