কৃষ্ণনগরের দুই শ্রমিক মারা গিয়েছেন তারাতলায় গোডাউন বিপর্যয়ে। মর্মান্তিক কাণ্ডে মৃতদের তালিকায় নাম রয়েছে জগদ্দলের দুই শ্রমিকেরও। পরিজন হারানোর যন্ত্রণা আর বুক ভাঙা কান্না শ্রমিক পরিবারে। রয়েছে ক্ষোভও।
কলকাতার তারাতলা এলাকায় নির্মীয়মান একটি গোডাউন ধসে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন নদীয়ার দুই নির্মাণ শ্রমিক। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুই শ্রমিক।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই নদীয়ার কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানার চর শম্ভুনগর চৌধুরীপাড়া এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জীবিকার তাগিদে ঠিকাদারের মাধ্যমে গ্রামের ৬-৭ জন শ্রমিক কলকাতায় নির্মাণকাজে গিয়েছিলেন।
বুধবার দুপুরে হঠাৎ করেই নির্মীয়মান গোডাউনটি ভেঙে পড়লে বহু শ্রমিক ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন। ঘটনায় একাধিক মৃত্যুর পাশাপাশি অনেকে আহত হন।
মৃত দুই শ্রমিকের নাম চন্দ্রমা চৌধুরী (৬০) এবং রাহুল চৌধুরী (১৭)। প্রথমে তাঁদের আহত হওয়ার খবর গ্রামে পৌঁছায়। পরে বুধবার গভীর রাতে মৃত্যুর সংবাদ আসতেই গোটা এলাকায় শোকের আবহ সৃষ্টি হয়।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, চন্দ্রমা ও রাহুল দুজনেই পরিবারের অন্যতম উপার্জনকারী ছিলেন। সংসারের হাল ধরতে এবং পরিবারের মুখে অন্ন জোগাতে তাঁরা নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করতে কলকাতায় গিয়েছিলেন। কিন্তু সেই কাজই শেষ পর্যন্ত তাঁদের প্রাণ কেড়ে নিল।
এদিকে, দুর্ঘটনায় আহত এলাকার আরও দুই শ্রমিকের চিকিৎসা চলছে বলে জানা গিয়েছে। নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর দাবি তুলেছেন এলাকাবাসী।
মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরই গ্রামের আত্মীয়-পরিজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকস্তব্ধ চর শম্ভুনগর চৌধুরীপাড়া গ্রাম।
কলকাতার তারাতলায় নির্মীয়মান কাজে গিয়ে দুর্ঘটনায় নিহত চন্দ্রমা চৌধুরী ও রাহুল চৌধুরীর দেহ ময়না তদন্ত হওয়ার পর, আজ, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এসে পৌঁছায়নি।
মৃতদের ও আহতদের পরিবারের পাশে যোগাযোগ রেখে চলেছেন নদীয়া জেলার সিআইটিইউ নেতৃবৃন্দ। যোগাযোগ করছেন এস এম সাদি, বিকাশ মল্লিক, সুমিত চাকি ও পরেশ দত্ত সহ নেতৃবৃন্দ।
শ্যামনগর এবং জগদ্দলে ভেঙে পড়েছে মৃত আরও দুই শ্রমিকের পরিবার। ভাটপাড়া পৌরসভার ২৩ নং ওয়ার্ডের শ্যামনগর আতপুরের বিবেকানন্দ নগরের বাসিন্দা পাপ্পু রজক (৪০)। ভাটপাড়ারই ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্বাশা এলাকার বাসিন্দা কৃষ্ণ চৌধুরী (৩২)। দু’জনেই মারা গিয়েছেন তারাতলা গোডাউন বিপর্যয়ে।
পাপ্পু রজকের স্ত্রী শিউলি রজক এবং কৃষ্ণ চৌধুরীর স্ত্রী সুচিত্রা চৌধুরী অঝোরে কেঁদে চলেছেন। সংসার চলবে কিভাবে জানেন না। এভাবে মৃত্যু হওয়া মেনে নিতে পারছেন না পরিবার।
Taratala Disaster Families
স্বজন হারানোর যন্ত্রণায় মিশে যাচ্ছে জগদ্দল আর ভাটপাড়া
ভাটপাড়ার মৃত শ্রমিক কৃষ্ণ চৌধুরীর মায়ের আর্তনাদ।
×
Comments :0