টোল আদায় নিয়মিত হলেও জাতীয় সড়ক ও তার সংলগ্ন সার্ভিস রোডের রক্ষণাবেক্ষণে চরম গাফিলতির অভিযোগে ক্ষোভে ফুঁসছেন উত্তরবঙ্গের মানুষ। করোনা পর্বে নির্মিত কোচবিহার থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত জাতীয় সড়কের বিস্তীর্ণ অংশ জুড়ে কোথাও কুচি পাথর, কোথাও বালির স্তূপ, আবার কোথাও দীর্ঘদিনের জলজমার সমস্যায় প্রতিনিয়ত বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার প্রতিবাদে শনিবার জলপাইগুড়ি শহর সংলগ্ন আসাম মোড়ের করলাভ্যালী মোড়ে জমা জলে দাঁড়িয়েই বিক্ষোভে সামিল হলেন সিপিআই(এম) কর্মী-সমর্থক, স্থানীয় বাসিন্দা, টোটোচালক ও স্কুল কর্তৃপক্ষ।
প্রায় প্রত্যেক বছরই বর্ষার সময় একদিন বৃষ্টি হলেই করলাভ্যালী মোড়ের প্রায় ৫০ মিটার সার্ভিস রোডে জল জমে থাকে টানা কয়েকদিন।ফলত, প্রতিদিনই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন মোটরসাইকেল, টোটো ও ছোট গাড়ির চালকরা। এই পথ দিয়েই চলাচল করে জলপাইগুড়ি-হলদিবাড়ি রুটের বাস। পাশাপাশি এলাকায় অবস্থিত সেন্ট এনি'স জুনিয়র হাই স্কুলের ছাত্রছাত্রীদেরও প্রতিদিন জল পেরিয়ে স্কুলে যেতে হচ্ছে। শনিবারের বিক্ষোভে সামিল হন স্কুলের আবাসিক সিস্টাররাও। প্রায় এক ঘণ্টার অবরোধে আটকে পড়ে একাধিক বাস, টোটো ও অন্যান্য যানবাহন। পরে হাইওয়ে ট্রাফিকের ওসি কমল চন্দ্র দাস ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, তিন দিনের মধ্যে কাজ শুরু এবং সাত দিনের মধ্যে সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ঘটনাস্থল থেকেই তিনি জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
সিপিআই(এম)-এর সদর পশ্চিম এরিয়া কমিটির সম্পাদক শুভাশিস সরকার অভিযোগ করেন, সার্ভিস রোডের এই অংশটি আশপাশের তুলনায় অনেক নিচু হওয়া সত্ত্বেও জল নিষ্কাশনের কোনও স্থায়ী ব্যবস্থা করা হয়নি। তাঁর দাবি, "টোল আদায় চলছে নিয়মিত, কিন্তু রাস্তাঘাটের রক্ষণাবেক্ষণে কোনও নজর নেই। সাত দিনের মধ্যে সমস্যা না মিটলে বৃহত্তর আন্দোলনের পাশাপাশি জাতীয় সড়ক অবরোধের কর্মসূচি নেওয়া হবে।"
Comments :0