Minakhi Mukherjee

নাটক নয় বাংলার মানুষ লুঠের টাকার হিসাব চায় : মীনাক্ষী মুখার্জি

রাজ্য জেলা

স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আবাসন, পেট ভরে খাবার জন্য লড়াইয়ের পাশাপাশি বেঁচে থাকার প্রত্যেকটি দিনের যন্ত্রণা প্রতিনিয়ত বাড়ছে এই পশ্চিমবঙ্গে। এই যন্ত্রণা যখন বাড়ছে, তখন পশ্চিমবঙ্গের মানুষ ইডি এবং মুখ্যমন্ত্রীর এসব নাটক দেখতে প্রস্তুত নন। এই মুহুর্তে রাজ্যের যন্ত্রণাক্লিষ্ট মানুষ হিসাব চাইছেন, বিচার চাইছেন। এই দাবিতে রাস্তায় আছে লাল ঝান্ডা। কালকেও লড়াইয়ে ছিলো, আজকেও আছে, এলড়াই চলছে। শুক্রবার কোচবিহারে একথাই জানিয়ে দিলেন সিপিআই(এম) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যা মীনাক্ষী মুখার্জি।
এদিন কোচবিহার জেলার জিরানপুর এলাকায় নাটাবাড়ি বিধানসভা এলাকার পার্টি নেতৃত্ব এবং জেলার ভেটাগুড়িতে দিনহাটা বিধানসভা কেন্দ্রের সিপিআই(এম) নেতৃত্বদের নিয়ে সাংগঠনিক সভায় যোগ দেন তিনি।
এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘ইডি-র সাথে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর ফাইল নিয়ে যে ঘটনা ঘটেছে তাতে আইনি হস্তক্ষেপের প্রয়োজন। এই প্রসঙ্গে সংবিধান অনুযায়ী যে প্রশ্নটা প্রথম উঠে আসে তা হল, ইডি-র তল্লাশি চলাকালীন কিভাবে একজন ব্যক্তি সেখানে ঢুকে কাগজ নিয়ে বের হয়ে চলে আসেন এবং প্রকাশ্যে স্বীকার করে যে তিনি এই সমস্ত নিয়ে বের হয়ে চলে এসেছেন? তাহলে এই সময় কর্তব্যরত অবস্থায় যে আধিকারিকরা ছিলেন, তাদেরকেও আইনি হেপাজতে নেওয়া দরকার।’
মীনাক্ষী মুখার্জি বলেন, ‘যিনি এই ফাইল নিয়ে আসার কাজটি করেছেন, তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হলেও একজন ব্যক্তি। কোন কেবিনেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উনি এই কাজ করতে গিয়েছিলেন এটাও প্রশ্ন? মন্ত্রীসভার সাথে কথা বলে তিনি এই কাজ করতে গেলে, গোটা মন্ত্রীসভাকে এর জবাবদিহি করতে হবে।’ তিনি বলেন, এই কাজ করতে গেছেন একজন ব্যক্তি। তাই এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি হস্তক্ষেপ এবং আইনের যা যা ব্যবস্থা গ্রহণ করার সেটা করতে হবে।
তিনি বলেন,  কি এমন ছিল এই দলিল দস্তাবেশে, যে সমস্ত কিছু ছেড়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রতীক জৈনের বাড়ি চলে গেলেন? তারা প্রতীক জৈনকে তৃণমূলের সুপ্রিমো বানাবেন কিনা সেটা তৃণমূলের নিজস্ব ব্যাপার। আইপ্যাক এমন একটি সংস্থা যাকে নির্বাচনী কনসালটেন্সি হিসাবে সকলে চেনেন। শোনা যায় ৫০০কোটি টাকার বিনিময়ে প্রতীক জৈনের এই এজেন্সিকে ভাড়া করেছে তৃণমূল। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তৃণমূলের কাছে এত টাকা আসে কি করে? দিল্লির ক্ষমতায় বিজেপি, পশ্চিমবঙ্গের প্রধান বিরোধীদল বিজেপি। বিধানসভার ভেতরে সমস্ত প্রশাসনিক জায়গায় বসে আছে বিজেপি। অথচ এই ৫০০ কোটি টাকার কোন হিসেব নেই। কোথা থেকে এলো তৃণমূলের কাছে এই বুকিদের ধার করা বা ভাড়া করার জন্য এত টাকা? এর আগেও রাজীব কুমার এর ক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রীকে ছুটে যেতে দেখা গিয়েছে, এক্ষেত্রেও সেই ছবি দেখা গেলো। 
মীনাক্ষী মুখার্জী বলেন, বর্তমানে রাজ্যের যা অবস্থা, তাতে মানুষ পরিস্থিতি অনুযায়ী এবং নিজেদের অবস্থান অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবেন। কিন্তু আজকের এই অবস্থাটা গোটা পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে বিপজ্জনক। মুখ্যমন্ত্রী একটি নির্বাচনী কনসালটেন্সিকে বলছেন এটা আমাদের নিজেদের সংগঠন। তাদেরকে সমস্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ইডি-র তল্লাশি চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী সেখানে চলে গেলেন, জিনিসপত্র নিয়ে চলে এলেন। আর বিজেপি চুপ করে আছে। আসলে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির তৃণমূলকে এনে রেখেছে এবং পশ্চিমবঙ্গের গুন্ডামি, পুলিশি হয়রানি, দুর্নীতি এবং জুলুমবাজি করার জন্য তৃণমূল টিকে আছে। আর এটা শুধুমাত্র প্রশাসন, পুলিশ এবং বিজেপি এদের মাথায় ছাতা ধরে আছে বলে।

Comments :0

Login to leave a comment