সুজন চক্রবর্তী
বিধানসভা নির্বাচনের দোরগোড়ায় বাংলা। একদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘ ১৫ বছরের দুঃশাসন। সীমাহীন অসভ্যতা আর প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির পাহাড়। অন্যদিকে নয়া ফ্যাসিবাদি আক্রমণ আর ক্রমবর্ধমান অসাম্য। ভারতীয় জনতা পার্টির বিভাজনের রাজনীতি। এই দুইয়ের জাঁতাকলে পিষ্ট বাংলার সাধারণ মানুষ। উন্নয়ন আজ কেবল বিজ্ঞাপনী হোর্ডিংয়ে সীমাবদ্ধ, আর বাস্তবে মানুষের জীবন-জীবিকা ঘোর অনিশ্চয়তায়। বর্তমানে এক গভীর সঙ্কটের আবর্তে পশ্চিমবঙ্গ। কেবল অনুমানের বিষয় নয়, বরং বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি পরিসংখ্যানের নিরিখে এক রূঢ় বাস্তবতা। বাংলাকে বাঁচাতে এই সঙ্কট থেকে পরিত্রাণ পেতেই হবে। মানুষের অধিকার বাংলার হারানো মর্যাদা পুনরুদ্ধারে বামপন্থাই একমাত্র নির্ভরযোগ্য বিকল্প।
ধ্বংসের মুখে বাংলা
২০১১ সালে যে 'পরিবর্তনের' প্রতিশ্রুতি দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় এসেছিল, তা আজ এক নেতিবাচক এবং বিপজ্জনক মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে। গত দেড় দশকের তৃণমূলী শাসনে এ রাজ্যে কৃষি, শিল্প এবং গণতন্ত্রের ভিত একে একে দুর্বল হয়ে চলেছে। মানুষের বাস্তব জীবনমান উত্তরোত্তর নিম্নমুখী। এই প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষের সামনে আজ দুটি ভিন্ন ধারার রাজনীতি উপস্থিত। একদিকে তৃণমূল ও বিজেপি’র পারস্পরিক দ্বৈরথ। যাদের উন্নয়নের ধারণার সাথে মানুষের মর্যাদা ও অধিকারের কোনও গভীর সম্পর্ক নেই। অন্যদিকে বাম বিকল্পের ধারা। মানুষমুখী। উন্নয়নের মূল লক্ষ্য হিসাবে বিবেচনা করে সাধারণ মানুষকেই। মানবিক সামাজিক অগ্রগমনের বন্দোবস্ত।
শিক্ষা ব্যবস্থায় এ রাজ্যের কঙ্কালসার চেহারাটা প্রকটভাবে ধরা পড়ে যাচ্ছে। বামফ্রন্ট আমলে বরাবরই শিক্ষা ছিল একটি সামাজিক অধিকার। ১৯৭৭ সালে এ রাজ্যের সাক্ষরতার হার ৩৮ শতাংশ, বৃদ্ধি পেয়ে ২০১১ সালে তা ৭৭ শতাংশে পৌঁছায়। স্কুল কলেজে ছাত্র ভর্তি, পড়াশোনা, পরীক্ষা, উচ্চশিক্ষা সবই নতুন নতুন রেকর্ড গড়েছে এই সময়ে। কিন্তু গত দেড় দশকে তা ক্রমশ তলানিতে নেমেছে। দুর্নীতির কালো ছায়া গ্রাস করেছে রাজ্যটাকে। প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কলেজ প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নজিরবিহীন দুর্নীতি। আদালতের নথিতেও তা প্রমাণিত। শিক্ষাক্ষেত্রে রাজ্যে শূন্যপদ প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ। পরিসংখ্যান বলছে, ২০১১ সালে রাজ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ছিল প্রায় ৮২,৯০০, যা প্রায় ২৫ হাজার ভ্যানিশ হয়ে গেছে। মাধ্যমিক স্কুল বন্ধ হয়েছে আট হাজার। উল্টোদিকে বেড়েছে শুধু ২২ হাজার মদের দোকান। সরকারি স্কুল ছেড়ে বেসরকারি স্কুলে ভর্তির হার এই সময়ে ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর মানুষ আস্থা হারিয়ে ফেলেছে— তা স্পষ্ট। নতুন প্রজন্মের উপর সামগ্রিকভাবে এর বিষময় ফল ক্রমশই বিপজ্জনক হচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য এবং জীবনমানের ক্ষেত্রেও পশ্চিমবঙ্গের অবনমন আজ জাতীয় স্তরে আলোচনার বিষয়। বাম আমলে গ্রামীণ স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। ফলত শিশুমৃত্যুর হার হাজারে ৯০ থেকে কমে ২০১১ সালে ৩২-এ দাঁড়িয়েছিল। যেখানে বাম শাসিত কেরালায় প্রতি দশ হাজার জনসংখ্যায় ডাক্তারের সংখ্যা দশের বেশি, পশ্চিমবঙ্গে সেই সংখ্যা মাত্র চার। কেরালায় বাম সরকার তার জিএসডিপি’র ৩.৪ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করে, যেখানে পশ্চিমবঙ্গ ব্যয় করে মাত্র ১.৪ শতাংশ। এই পার্থক্য কেবল সংখ্যার নয়, এটি আসলে দুটি ভিন্ন রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য।
বামফ্রন্ট আমলে ভূমি সংস্কার ও 'অপারেশন বর্গা'র মাধ্যমে ১৫ লক্ষ বর্গাদার স্বীকৃতি পায় এবং ৩১ লক্ষ পাট্টা বিলি হয়। ১৯৭৭ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে ধান উৎপাদন ৭৪ লক্ষ থেকে ১৫৮ লক্ষ টনে পৌঁছায়। গ্রামীণ দারিদ্র ৬৩% থেকে কমে ২২% হয়।
যা গ্রামীণ অর্থনীতি বদলে দেয়। বর্তমানে সেই মজবুত ভিত তুলনামূলক ভাবে অনেকটাই দুর্বল। ২০১১-র পরবর্তী সময়ে কৃষি বৃদ্ধির হার ৩.৪% থেকে কমে ২.৩% হয়েছে। নাবার্ড (NABARD)-এর তথ্যমতে, রাজ্যের কৃষকদের গড় বার্ষিক আয় জাতীয় গড়ের চেয়ে কম এবং কৃষি শ্রমিকদের প্রকৃত মজুরি বৃদ্ধিও কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
শিল্প ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও পশ্চিমবঙ্গ আজ বড় সঙ্কটের মুখে। ১৯৭৭ সালে বামফ্রন্ট সরকার প্রতিষ্ঠার সময় শিল্প অর্থনীতি ছিল গভীর সমস্যায়। কেন্দ্রীয় লাইসেন্সিং ব্যবস্থা ও মাশুল সমীকরণ নীতির কারণে বড় শিল্প বিনিয়োগ তখন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছিল। এই পরিস্থিতিতে বামফ্রন্ট সরকার ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে ভিত্তি করে বিকল্প শিল্প কাঠামো গড়ে তোলে। ১৯৮০ সালে রাজ্যে ক্ষুদ্র শিল্প ইউনিট ছিল ১.৮ লক্ষ, যা ২০১০ সালে প্রায় ৫ লক্ষে পৌঁছায়। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে কর্মসংস্থান ১৮ লক্ষ থেকে বেড়ে প্রায় ৪৮ লক্ষে দাঁড়ায়। একই সময়ে হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যাল, কলকাতা লেদার কমপ্লেক্স, খড়্গপুর শিল্প কেন্দ্র, সল্টলেক সেক্টর ফাইভ, রাজারহাটে তথ্য প্রযুক্তি সহ নানান শিল্পক্ষেত্র গড়ে ওঠে।
বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাও ২৮০০ মেগাওয়াট থেকে বেড়ে প্রায় ৮২০০ মেগাওয়াট হয়।
পরিকাঠামো উন্নয়নের নানান প্রকল্প, কেমিক্যাল হাব, সিঙ্গুরের অটো হাব, শিক্ষা-গবেষণার নানা কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার বহুবিধ সুদূরপ্রসারি নানান প্রকল্প গ্রহণ করেছিল বামফ্রন্ট সরকার।
কিন্তু ২০১১ সালের পর এই ধারা থেমে যায়। ধ্বংস করা হয় রাজ্যের অগ্রগতির প্রকল্প সমূহকে। বাংলার পুনরুজ্জীবনের স্বপ্নগুলিকেই ধ্বংস করা হয় নির্মমভাবে। পিরিয়ডিক লেবার ফোর্স সার্ভে ২০২৩ অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে নিয়মিত মজুরি শ্রমিক মাত্র ২৮ শতাংশ, যেখানে জাতীয় গড় ৪৩ শতাংশ। ২০১২ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার ক্ষুদ্র শিল্প ইউনিট এরাজ্যে বন্ধ হয়ে যায়, ফলে প্রায় ৯ লক্ষ শ্রমিক কাজ হারান। নিয়মিত কর্মীদের গড় মাসিক আয়ও কম, পশ্চিমবঙ্গে ২০,২০০ টাকা যেখানে কেরালায় ৩৪,৫০০ টাকা।
বিজেপি বিকল্প নয়
সমসময়ে পশ্চিমবঙ্গের একটা বড় সঙ্কট হলো বাইনারি পলিটিক্স। মানুষকে বোঝানো হচ্ছে তৃণমূল না হলে বিজেপি, বিজেপি না হলে তৃণমূল। এই মেরুকরণের ফলে কাজ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, শিল্পের মতো আসল প্রশ্নগুলি আড়ালে চলে যাচ্ছে। সামনে আসছে মন্দির মসজিদের রাজনীতি। ভয় ও ঘৃণার পরিবেশ। একদিকে দুর্নীতি, অন্যদিকে সাম্প্রদায়িক বিভাজন। বাস্তবে এই রাজনীতি দুই দলকেই লাভবান করে। তৃণমূল বিজেপি-কে দেখিয়ে সংখ্যালঘুদের ভয় দেখায়, আর বিজেপি তৃণমূলের দুর্নীতিকে ব্যবহার করে সংখ্যাগরিষ্ঠ ক্ষোভকে সাম্প্রদায়িক পথে ঘুরিয়ে দেয়।
বিজেপি যে 'গুজরাট মডেল' বা 'ডাবল ইঞ্জিন' সরকারের গল্প শোনায়, তা সাধারণ মানুষের জন্য কোনও সুফল বয়ে আনে না। গুজরাটে শ্রমিকের মজুরি অত্যন্ত কম এবং আয় বৈষম্য সেখানে আকাশছোঁয়া। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো মৌলিক ক্ষেত্রগুলতে সরকারি ব্যয় অত্যন্ত সীমিত। কেরালার তুলনায় গুজরাটে মজুরি প্রায় অর্ধেক। আয় বৈষম্য প্রায় দেড়গুণ। শিক্ষাক্ষেত্রে কেরালার তুলনায় গুজরাটের ব্যয় অর্ধেকের চেয়েও কম। স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে প্রায় অর্ধেক। তদুপরি, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ এবং নয়া ফ্যাসিবাদের উত্থান গণতান্ত্রিক পরিবেশকে বিষিয়ে তুলছে। তৃণমূল এবং বিজেপি উভয়েই পারস্পরিক দ্বৈরথের আড়ালে মানুষের প্রকৃত সমস্যাগুলোকে ধামাচাপা দিতে চায়।
কেরালার বাম বিকল্প মডেল
কেরালার অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে সীমিত আর্থিক সম্পদ ও কেন্দ্রীয় বাধা থাকা সত্ত্বেও একটি বাম সরকার জনমুখী উন্নয়নের উদাহরণ সৃষ্টি করতে পারে। শিক্ষা ক্ষেত্রে কেরালার সাফল্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। National Statistical Office-এর Education in India Report 2023 অনুযায়ী কেরালার সাক্ষরতার হার যেখানে ৯৬.২ শতাংশ, সেখানে গুজরাটে ৮০.৩ এবং পশ্চিমবঙ্গে ৭৭.৯ শতাংশ। কেরালায় স্কুলে ভর্তি হওয়ার হার প্রায় ৯৮ শতাংশ। আর স্কুল ছাড়ার হার মাত্র ০.৪ শতাংশ, যা গুজরাটে ৫.৮ এবং পশ্চিমবঙ্গে রেকর্ড পরিমাণ, ৬.৩ শতাংশ। যদিও এ রাজ্যের বাস্তব চিত্রটা এখন আরও তলানিতে।
স্বাস্থ্য ক্ষেত্রেও কেরালা দেশের মধ্যে অন্যতম এগিয়ে। NFHS-5 অনুযায়ী কেরালায় গড় আয়ু ৭৬.৪ বছর, যেখানে জাতীয় গড় প্রায় ৬৯ বছর। শিশুমৃত্যুর হার প্রতি হাজারে ৮.৮, যা ভারতের মধ্যে সর্বনিম্ন। পশ্চিমবঙ্গে ২৩.৭ আর গুজরাটে ২৭.৪ । NSO-এর তথ্য অনুযায়ী কেরালায় প্রায় ৮৮ শতাংশ মানুষ সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যবহার করেন। সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার উপর মানুষের আস্থাও বেশি।
সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রেও কেরালা অগ্রগামী। NITI Aayog Multidimensional Poverty Index 2023 অনুযায়ী কেরালায় বহুমাত্রিক দারিদ্রের হার মাত্র ০.৫৫ শতাংশ। সাম্প্রতিক সরকারি তথ্য অনুযায়ী প্রায় ৬৪ হাজার চরম দরিদ্র পরিবারকে দারিদ্রসীমার উপরে তুলে আনা হয়েছে। Asia's most inclusive poverty eradication initiative হিসাবে যা স্বীকৃত। নারীর ক্ষমতায়নেও কেরালা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। কুডুম্বশ্রী প্রকল্পে প্রায় ৪৮ লক্ষ নারী সদস্য যুক্ত, এবং এর মাধ্যমে হাজার হাজার ক্ষুদ্র উদ্যোগ গড়ে উঠেছে।
শ্রম ও মজুরির ক্ষেত্রেও কেরালা এগিয়ে। PLFS ২০২৩ অনুযায়ী নিয়মিত কর্মীদের গড় মাসিক আয় প্রায় ৩৪,৫০০ টাকা, এবং নারী শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ প্রায় ৩৭ শতাংশ। পাশাপাশি বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে উন্নয়ন পরিকল্পনায় মানুষের অংশগ্রহণও বেড়েছে। রাজ্যের পরিকল্পনা ব্যয়ের প্রায় ৪০ শতাংশ স্থানীয় স্বশাসিত সংস্থার মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়। এই পরিসংখ্যানগুলি দেখায় যে মানুষকেন্দ্রিক নীতি, সামাজিক বিনিয়োগ ও গণঅংশগ্রহণের ভিত্তিতেই কেরালায় একটি কার্যকর বাম বিকল্প। স্বপ্ন দেখায় গোটা দেশকে।
ভবিষ্যৎ বামপন্থাতেই
পশ্চিমবঙ্গের সামনে আজ যে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাকে ভেঙে এগবার পথে বামপন্থার কোনও বিকল্প নেই। বাংলার কৃষি, শিল্প, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যের হৃত গৌরব পুনরুদ্ধার করতে হলে সেই রাজনীতিকেই ফিরিয়ে আনতে হবে যা মানুষের অধিকার এবং মর্যাদাকে অগ্রাধিকার দেয়।
পশ্চিমবঙ্গের বামফ্রন্ট সরকার গোটা সময়কাল ধরেই রাজ্যটাকে যেভাবে এগিয়ে নিয়ে গেছে তা এখন মানুষের উপলব্ধিতে ক্রমশই আরও স্পষ্ট হচ্ছে। কৃষি, সেচ, শিল্প, পরিকাঠামো, শিক্ষা, কাজ, অধিকার - প্রতিটি ক্ষেত্রেই। বিগত দেড় দশকের তৃণমূলী অপশাসনে তা ধারাবাহিকভাবে তলানিতে নেমেছে। প্রতিটি ক্ষেত্রকেই ক্রমশ বিপন্ন করেছে তৃণমূলের সরকার। সমানতালে প্রশ্রয় দিয়েছে বিজেপি। মোদীজীর সরকার। আর উল্টো দিকে এই প্রথম কেরালায় পরপর দু'বারের একটানা বাম সরকার। নির্দিষ্টভাবে এগিয়ে নিয়ে গেছে রাজ্যটাকে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কাজ, অর্থনীতি, অধিকার— প্রতিটি ক্ষেত্রেই দৃষ্টান্তযোগ্য অগ্রগতির ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। বাম বিকল্পের বিবেচনায় প্রকৃত অর্থেই মানুষের উন্নয়ন। প্রতিটি মানুষের জন্য। বিশেষত পিছিয়ে থাকাদের অগ্রসরমান করার তাগিদ। সামাজিক, মানবিক একটি প্রয়াস। একই গতিতে এগবার সুযোগ ছিল পশ্চিমবঙ্গের। তার পরিবর্তে গত দেড় দশকে যথেচ্ছ ভাবে পিছিয়ে গেছে বাংলা।
তৃণমূলের অসভ্যতা দুর্নীতি আর বিজেপি’র সাম্প্রদায়িক বিভাজনের বাইরে দাঁড়িয়ে একটি উন্নত, ধর্মনিরপেক্ষ এবং প্রগতিশীল বাংলা গড়তেই হবে। সেই বিবেচনায় বামপন্থাই আজও এক এবং অদ্বিতীয় পথ। বাংলাকে বাঁচানোর প্রচেষ্টা এবং শপথ নেওয়া জরুরি। আগামীর লড়াই শুধুমাত্র একটি সরকার গঠন বা ক্ষমতার পরিবর্তনের জন্যই নয়। বরং ব্যবস্থার পরিবর্তনের লড়াই। যে লড়াইয়ের নেতৃত্বে রয়েছে বামপন্থীরাই। বাংলাকে বাঁচাতেই বাম বিকল্প। ভবিষ্যতের দিক নির্দেশ সেদিকেই স্পষ্ট।
Comments :0