জয়ন্ত সাহা: মাথাভাঙা
অনাদরে আর অবহেলায় মর্যাদা হারাচ্ছে কোচবিহার রাজবাড়ির মিউজিয়াম! পর্যটকদের সামনে রাজ আমলের ইতিহাস তুলে ধরতে ১৯৮২ সালে বামফ্রন্টের উদ্যোগে তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকারের পুরাতত্ব সর্বেক্ষণ কোচবিহার রাজবাড়ি অধিগ্রহন করেছিল। এরপরেই রাজবাড়িতে গড়ে ওঠে সংগ্রহশালা। সংগ্রহশালায় রাজপরিবারের বিভিন্ন দুষ্প্রাপ্য ছবি ও তৈলচিত্রের পাশাপাশি প্রাচীন মূর্তি,অস্ত্র, মুদ্রা থেকে শুরু করে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জনজাতির ব্যবহৃত জিনিস পত্র ঠাঁই পায় সংগ্রহশালায়। নথি বলছে ১৮৮৭ সালে মহারাজা নৃপেন্দ্রনারায়নের আমলে ইংলন্ডের বাকিংহাম প্যালেসের অনুকরণে রাজপ্রাসাদ তৈরি হয়েছিল। এই রাজবাড়ির আকর্ষণে দূর দূরান্তের পর্যটক আসেন কোচবিহারে।
অভিযোগ উঠেছে, এই সংগ্রহশালা ঠিকমত রক্ষণাবেক্ষন করা হচ্ছে না। ইতিমধ্যে সংগ্রহশালার দুটি কক্ষ বন্ধ করে দিয়েছে পুরাতত্ব সর্বেক্ষণ। ওই দুই কক্ষেই ছিল উত্তরবঙ্গের জনজাতির পোষাক তাদের ব্যবহৃত জিনিসপত্র এখন আর পর্যটকেরা দেখতে পান না। কথা ছিল সংগ্রহশালা বড় হবে, সেটা না হয়ে সংগ্রহশালা দিন দিন ছোট হচ্ছে।
মহালয়ার দিন রাজবাড়িতে উপচে পড়া ভীড়। স্থানীয়দের পাশাপাশি এসেছেন ভিন রাজ্য এমনকি নেপালের পর্যটকেরাও। টিকিট কাউন্টারে খোঁজ নিয়ে জানা গেল প্রতিদিন গড়ে অন্তত দু হাজার পর্যটক আসেন সংগ্রহশালা দেখতে। বিশেষ দিনে পর্যটকের সংখ্যাটা ৩ হাজার ছাড়িয়ে যায়। রাজবাড়ির সংগ্রহশালা বাইরে থেকে আসা আত্মীয়দের নিয়ে এসেছিলেন মাথাভাঙার অতীশ সরকার। সংগ্রহশালা ঘুরে বাইরে এসে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, আগে তো রাজবাড়ির সাতটি কক্ষ নিয়ে সংগ্রহশালা হয়েছিল। এবার ঢুকে দেখলাম দুটি কক্ষ তালাবন্ধ। একটি কক্ষে রাজপরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন মুহুর্তের ছবি রয়েছে। অন্য একটি কক্ষে রাজপরিবারের ব্যবহৃত জিনিস, এছাড়া অন্য তিনটি কক্ষে আছে প্রাচীন মুর্তি। দেখলাম উত্তরের জনজাতির ব্যবহৃত পোষাক, দৈনন্দিন কাজে ব্যবহৃত সামগ্রী ছিল। সেই দুটি কক্ষই তালাবন্ধ পড়ে আছে। আরেক পর্যটক আসামের গোলকগঞ্জের সুবীর শীল বলেন,বছর তিনেক আগে শুনে গেছিলাম রাজাদের ব্যবহৃত মুদ্রা নিয়ে মুদ্রা গ্যালারি হবে। সেটা তো হয় নি। উলটে সংগ্রহশালা অবহেলায় তার গরিমা হারাচ্ছে। এটা অত্যন্ত অন্যায়। রাজবাড়ির দায়িত্ব থাকা এক আধিকারিকের বক্তব্য, ‘‘কবে ফের বন্ধ দুই কক্ষের তালা খুলে পর্যটকদের দেখার সুযোগ দেওয়া হবে সেটা বলা সম্ভব নয়।’’
Cooch Behar Palace
ছোট হচ্ছে সংগ্রহশালা, কোচবিহার রাজবাড়ি দেখতে এসে হতাশ পর্যটকরা
×
Comments :0