Delhi 10 October

‘ওরা ভয় পেয়েছে, ওরা হারছে’, দিল্লিতে বলছেন ছাত্ররা

জাতীয়

অরূপ সেন: নয়াদিল্লি

হাওয়া, জল ছাড়া আর যা যা বন্ধ করা যায় সব করেছে সরকার। পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে আন্দোলনকে ভয় পাচ্ছে। এসআইআর বাতিল এবং জ্ঞানেশ কুমারকে না হটানো পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
সারা দিন দিল্লি পুলিশের ধরপাকড়ের পর সন্ধ্যার দিকে এই ঘোষণা করেছেন এসএফআই, এআইএসএফ, সিজেপি সহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। 
এসএফআই নেত্রী ঐশী ঘোষ, এআইএসএ নেত্রী নেহা বোরা সহ মহিলাদের যেভাবে জোর করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তারও নিন্দা করেছেন এসএফআই সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য সহ নেতৃবৃন্দ। 
সিজেপি নেতৃত্বকে গ্রেপ্তার করার পর অভিজিৎ দীপকে জানিয়ে দেন অজিঙ্ক শিন্ডে থাকবেন দায়িত্বে। তিনি হরকিষেণ সিং সুরজিৎ ভবনে এই সাংবাদিক সম্মেলনেও ছিলেন অভিজিৎ দায়িত্ব দিয়ে গিয়েছে। ছিলেন প্রতিবাদী সমাজকর্মী নন্দিতা নারায়ণ, সোহেল হাসমি, সুধন্ব দেশপাণ্ডেও। 
আটক সকলের মুক্তির দাবি জানিয়ে সৃজন, অজিঙ্করা বলেছেন প্লেনের ভেতরে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সিজেপি নেতাদের। জরুরি অবস্থার সময়ও এতটা হয়নি। অভিজৎ কোথায় কোনও খবর নেই। তাঁর আইনজীবীকে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। এদিকে অভিজিতের দিদিমা মারা গিয়েছেন। 
সৃজন বলেছেন, ভারতীয় গণতন্ত্রকে গত আট দশকে বহু উত্থান পতনের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। জরুরি অবস্থার মুখেও পড়তে হয়েছে। কিন্তু এই প্রথম নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা একেবারে উবে গিয়েছে। ভোটার তালিকায় কারচুপি করা হচ্ছে একটি নির্দিষ্ট দলকে জেতাতে। কমবয়সীদের নাম রাখা হচ্ছে না। আমরা বলেছিলাম ১০ অক্টোবর ঐতিহাসিক হবে। এদিন সারা দিন দেশের মানুষ দেখেছেন বিক্ষোভ কিভাবে হয়েছে। দেখেছেন দমন। ওরা প্রশ্নের জবাব দিতে পারছে না বলে ছাত্রদের ‘দেশদ্রোহী’ বলছে। কিন্তু তারপরও এই বিক্ষোভ থামানো যায়নি।  
সৃজন বলেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতাদের টানা হেঁচড়া করা হয়েছে। আটক করে জল দেয়নি। ভুখ হরতাল পর্যন্ত করতে হয়েছে। কিন্তু আন্দোলন থামার নয়। সরকার ভয় পেয়েছে। ওরা হেরে গিয়েছে। আজ সারাদিন যা করেছে তাতেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। 
এক প্রশ্নে ছাত্ররা বলেন, দিল্লির লোকদের অসুবিধা হবে বলা হচ্ছে। দায়ী তো প্রশাসন। আগের বারও ৪৭ দিন অবস্থান অনশন চলেছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
এদিন পুলিশের ঘেরাটোপ ভেঙে একাধিক মিছিল হয়। কেরালা হাউস থেকে যন্তর মন্তর পর্যন্ত মিছিল হয়। সে মিছিলে ছিলেন সিপিআই(এম) নেতৃবৃন। গোল মার্কেটে একেজি ভবনের সামনে থেকে এসএফআই কর্মীরা মিছিল করে। সংখ্যায় এত বেশি ছিল মিছিল যে পুলিশ দিশা হারিয়ে ফেলে। একাধিক ব্যারিকেড সরিয়ে মিছিল এগোয়। আবার অশোক রোডে বাংলা সাহিব গুরুদ্বারের সামনে থেকেও মিছিল যায় কনট প্লেস পর্যন্ত। আরেকদিকে 
দিল্লি হাট এলাকায় এআইএসএ, সিপিআই(এম-এল) মিছিল করে। এখানে আটক করা হয় সিপিআই(এমএল) সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য, সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদবকে। 

Comments :0

Login to leave a comment