STORY — SOURISH MISHRA — ANURAGI — NATUNPATA — 2026 APRIL 11, 3rd YEAR

গল্প — সৌরীশ মিশ্র — অনুরাগী — নতুনপাতা — ২০২৬ এপ্রিল ১১, বর্ষ ৩

নতুনপাতা/মুক্তধারা

STORY  SOURISH MISHRA  ANURAGI  NATUNPATA  2026 APRIL 11 3rd YEAR


গল্প  


 নতুনপাতা

  --------------------------
   অনুরাগী
  --------------------------

সৌরীশ মিশ্র

 

 

"বাবাই আমার সাথে একটু যাবি? আমি তো তোদের ঐদিকটার রাস্তাঘাট তেমন চিনি না, তাই তোকে বলছি যেতে। তুই যাবি একটু... " বাবাই শুনতে পায় ফোনের ওপার থেকে ভেসে আসছে ওর মামাতোদিদি মামের কান্না-ভেজা কণ্ঠস্বর।
"মামদিদি, তুমি কেঁদোনা, প্লিজ়। আমি যাবো তোমার সাথে।" বলে বাবাই।
"তাহলে আমি স্কুটিটা নিয়ে আসছি। তুই রেডি হয়ে থাক্, কেমন? আর, পিসিয়াকে একটু বলে রাখ্, তুই যে আমার সাথে বেরোবি।" বলে মাম।
"ঠিক আছে। তুমি আসো। আমি মা-কে বলে রাখছি। কিন্তু, মা যে বারণ করবে না, তা আমি এখনই বলে দিতে পারি।"
"ঠিক আছে, আমি রাখলাম।" বলে লাইনটা কেটে দেয় মাম।
ল্যান্ডলাইন ফোনটার রিসাভারটা ক্রেডলে রাখে বাবাই-ও।

বাবাই ঠিকই বলেছিল। ওর মা মামের সাথে ওকে যেতে এককথায় পারমিশন দিয়ে দিলেন।

মিনিট কুড়ি বাদে মামের স্কুটি এসে দাঁড়াল বাবাইদের বাড়ির সামনে। বাবাই তৈরিই ছিল। ওয়েট করছিল ওদের বাড়ির একতলার একচিলতে ছোট্ট বারান্দাটায়। এতোক্ষণ ওর মা-ও বাবাই-এর সাথে ছিলেন এখানে। এইমাত্র একটা ফোন আসায় সেটা ধরতে গেছেন তিনি। এখনো আসেননি। মামের স্কুটি এসে দাঁড়াতেই, বাবাই বারান্দা থেকেই চেঁচিয়ে বলল তাই ওর মাকে, "মা, মামদিদি এসে গেছে। আমি বেরোলাম। তুমি দরজায় তালা লাগিয়ে দাও।"
বারান্দা থেকে নেমে বাড়ির সামনের প্যাসেজ পেরিয়ে এসে দাঁড়াল সে মামের স্কুটিটার পাশটায়।
হেলমেটটা খুলে ওড়নাটা দিয়ে মুখের ঘাম মুছছে মাম। ওর মামদিদি কেঁদে-কেঁদে যে চোখ ফুলিয়ে ফেলেছে, তা বাবাই-এর চোখ এড়ায় না। মামদিদিকে এর আগে এমন থমথমে মুখে দেখেনি কোনোদিন বাবাই।
ফের হেলমেটটা পরে মাম। বাবাইকেও হেলমেট পড়িয়ে দেয়। তারপর বাবাইকে বলে, "আমাকে ধরে উঠে পড়্।"
বাবাই তাই করে। 
মাম স্টার্ট করে তার স্কুটি।
স্কুটি এগোতে থাকে। সামনেই বড়রাস্তা। দুপরবেলা। তাই রাস্তায় ভালোই ট্রাফিক। মাম বড়রাস্তায় পড়ে সামনের সিগনালটা ক্রস করেই জিজ্ঞেস করে বাবাইকে, "কোন্ রাস্তাটা ধরলে তাড়াতাড়ি পৌছবো বল্ এবার।"
"একটু এগিয়ে বাঁদিকের রাস্তাটা ধরো মামদিদি। ওটাই বিজয়গড় যাওয়ার রাস্তা। বেশিক্ষণ লাগবে না।"
মাম বাবাই-এর কথা মতোই বাঁদিকে টার্ন নেয়। মাম আর বাবাই দু'জনই চুপ করে আছে। আরো একটু এগোতে মামই বলল কথা প্রথম। "ভাবতেই পারছিনা জানিস বাবাই যে রাহুল নেই। কথাটা ভাবলেই কি যে কষ্ট হচ্ছে, তোকে কি বলব! এমন একজন ট্যালেন্টেড মানুষ এইভাবে চলে যাবে, মানা যায়, বল্..." কথা শেষ করতে পারে না মাম। গলা বুজিয়ে আসে তার কান্নায়।
বাবাই জানে, রাহুলদার দারুণ ফ্যান ওর মামদিদি। ওঁর সিনেমার তো বটেই, ওঁর লেখারও ভীষণই ভক্ত সে। বাবাই এখনও অনেক ছোটো। তাই এই রকম পরিস্থিতিতে কাউকে কনসোল করতে হয় কি করে তা জানা নেই তার। তাই চুপ করেই থাকে সে।
স্কুটি এসে দাঁড়াল একটা সিগনালে। 
মাম জিজ্ঞেস করে ফের বাবাইকে, "এইবার?"
"ঐ রাস্তাটা দেখছো তো? ঐটা দিয়ে কিছুটা এগিয়েই সামনেই বাড়িটা। আমার এক বন্ধু থাকে তো ঐ পাড়াতেই! আমি বাড়িটা চিনি।"
সিগনাল ছাড়ে। বাবাই-এর কথা মতোন রাস্তাটা ধরে মাম। আর ঐ রাস্তাটায় পড়ে একটু এগোতেই মাম বুঝতে পারে, পৌঁছে গেছে ও। কারণ, একটু এগিয়ে সামনে, রাস্তাটায় একেবারে উপচে পড়া ভিড়। আর এই অসংখ্য মানুষ যে এসেছেন তারই মতোন রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিরবিদায় জানাতে, শেষ একটিবারের জন্য চোখের দেখা দেখতে, শেষবারের জন্য শ্রদ্ধা জানাতে, তা মামের বুঝতে অসুবিধা হয় না একটুও।
মামের দু'চোখের পাতা ভিজে ওঠে মুহূর্তে ফের।

 


--------------------------------

Comments :0

Login to leave a comment