Assembly Election 2026: Jalpaiguri

জলপাইগুড়ি: সীমান্ত এলাকায় প্রচার বাম প্রার্থী দেবরাজের

জেলা বাংলা বাঁচানোর ভোট

সীমান্ত এলাকার গ্রামে সিপিআই(এম) প্রার্থী দেবরাজ বর্মন। ছবি: প্রবীর দাশগুপ্ত

দীপশুভ্র সান্যাল

বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী জলপাইগুড়ি বিধানসভার গ্রামীণ এলাকায় নির্বাচনী প্রচারে মানুষের নিত্যদিনের বাস্তব সমস্যার মুখোমুখি হলেন বামফ্রন্ট ও আইএসএফ সমর্থিত সিপিআই(এম) প্রার্থী দেবরাজ বর্মন। 
সিং পাড়া, ভোজরিপাড়া, দেওনিয়াপাড়া, বেরুবাড়ি, মানিকগঞ্জের মতো বহু অঞ্চলে ঘুরে তিনি সরাসরি কথা বলেন কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে। আর সেই কথোপকথনেই উঠে আসে একদিকে কৃষি সংকট, অন্যদিকে সীমান্তবর্তী জীবনের অনিশ্চয়তা ও বঞ্চনার চিত্র।
কৃষক আব্দুল রহমানের আক্ষেপ, “ফসলের ন্যায্য দাম নেই, সারের দাম বেড়েই চলেছে।”  আলুচাষি হরিপদ বর্মনের কথায়, ‘‘উৎপাদন খরচ বাড়লেও বাজারে মেলে না ফসলের দাম।’’ 
চা শ্রমিক কমলা দাস জানালেন, ‘‘অনিয়মিত কাজ আর কম মজুরিতে সংসার চালানোই দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।’’
এই বাস্তবতার প্রেক্ষিতেই বামফ্রন্টের ইশ্‌তেহারে ফসলের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা, সারের মূল্য নিয়ন্ত্রণ, সরকারি ক্রয়ব্যবস্থা জোরদার, কোল্ড স্টোরেজ গড়ে তোলা এবং কৃষিপণ্যের বিপণনে সরকারি উদ্যোগ বাড়ানোর লক্ষ্য তুলে ধরেন দেবরাজ।
দক্ষিণ বেরুবাড়ির মতো এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থার বেহাল দশা মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়িয়েছে। বেরুবাড়ি বাজার মানিকগঞ্জ, সাতকুড়া-সহ বহু এলাকা থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে। ফলে চিকিৎসা, শিক্ষা বা প্রশাসনিক পরিষেবা পেতে নিত্য সমস্যায় পড়তে হয় বাসিন্দাদের।
একইসঙ্গে সীমান্ত এলাকার বিশেষ সমস্যাও উঠে আসে। চাষের জমিতে যাতায়াতে নির্দিষ্ট সময়সীমার বাধা রয়েছে। রয়েছে নিরাপত্তাহীনতা ও নানা হয়রানি। 
বামপন্থীদের বক্তব্য, এই সমস্যার সমাধানে প্রয়োজন কার্যকর প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর রাজনৈতিক সদিচ্ছা।
প্রচারে দেবরাজ বর্মন স্পষ্ট করে বলেন, “এই লড়াই শুধু নির্বাচনের নয়, মানুষের জীবনের লড়াই।” ১০০ দিনের কাজের পূর্ণ বাস্তবায়ন, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়ন— এই দাবিগুলিকেই সামনে রেখে এগোতে চায় বামফ্রন্ট।
তিনি বলেন, ‘‘কেন্দ্র ও রাজ্যের দুই শাসক দল বিভাজনের রাজনীতি উস্কে দিয়ে মানুষের আসল সমস্যা থেকে নজর ঘোরাতে চাইছে। এর বিপরীতে বামপন্থীরা সম্প্রীতি ও ঐক্যের রাজনীতির কথা বলেছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জননেতা জ্যোতি বসু ও বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সময়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে রক্ষার দায়িত্ব নিয়েছিল সরকার।’’
প্রচারের দেবরাজের সঙ্গে ছিলেন সিপিআই(এম) নেতা হাসিফুল হক, মহিলা নেত্রী সুস্মিতা রায়, সবিতা বর্মন সহ অন্যান্য বামপন্থী নেতৃবৃন্দ।

Comments :0

Login to leave a comment