Uluberia

নদীতে বর্জ্য ফেলার অভিযোগ উলুবেড়িয়ায় গ্রেপ্তার ৩

জেলা

চুপিসারে নদীর জলে শৌচাগারের বর্জ্য ফেলতে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের হাতে ধরা পড়ল গাড়ির চালক সহ তিনজন। সোমবার দুপুরে ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় উলুবেড়িয়া পৌরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর জগদীশপুর এলাকায়। পরে খবর পেয়ে উলুবেড়িয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। কী কারণে নির্দিষ্ট জায়গার পরিবর্তে নদীতে শৌচাগারের বর্জ্য ফেলা হচ্ছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উলুবেড়িয়া পৌরসভার ২২ নম্বর ওয়ার্ডের এক বাসিন্দার বাড়ির শৌচাগার পরিষ্কার করার জন্য পৌরসভার পক্ষ থেকে শ্যামপুর থানার ৫৮ গেট এলাকার একটি শৌচাগার পরিষ্কার করার এজেন্সিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ, সোমবার দুপুরে ওই এজেন্সির একটি গাড়ি শৌচাগার পরিষ্কার করার পর সংগৃহীত বর্জ্য নিয়ে উত্তর জগদীশপুর এলাকায় নিয়ে আসে। অভিযোগ পাইপের মাধ্যমে সেই বর্জ্য নদীর জলে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছিল। বিষয়টি স্থানীয় বাসিন্দাদের নজরে আসতেই তাঁরা বাধা দেন। শুরু হয় বিক্ষোভ। গাড়ির চালক সহ তিনজনকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন এলাকার বাসিন্দারা। পরে পুলিশ এসে তাঁদের আটক করে নিয়ে যায়। এদিন ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, বর্জ্য পরিষ্কারের গাড়ি থেকে একটি পাইপ নদীর জলে ফেলে রাখা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গাড়ি খারাপ হয়ে যাওয়ার অজুহাত দেখিয়ে গাড়িতে থাকা চালক ও কর্মীরা নদীতে শৌচাগারের বর্জ্য ফেলছিলেন। জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এবং নদীর জলে এভাবে শৌচাগারের বর্জ্য ফেলে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যও বিপদের মুখে ফেলা হচ্ছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
উলুবেড়িয়া পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভার নিজস্ব দুটি বর্জ্য পরিষ্কারের গাড়ি রয়েছে। তবে বর্তমানে দু’টিই খারাপ থাকায় শৌচাগারের বর্জ্য পরিষ্কারের কাজের দায়িত্ব একটি বেসরকারি এজেন্সিকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার গাড়ি কীভাবে নদীতে বর্জ্য ফেলতে গেল, তা খতিয়ে দেখা হবে বলে পৌরসভা সূত্রে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে এজেন্সির মালিক কাশেম বলেন, ‘‘তাঁদের শৌচাগারের বর্জ্য ফেলার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা রয়েছে এবং সেখানেই বর্জ্য ফেলা হয়। নদীতে কেন বর্জ্য ফেলা হচ্ছিল, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।’’
ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছেন পরিবেশকর্মী শুভ্রদীপ ঘোষ। তিনি বলেন, নদীকে ডাস্টবিন হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা এখনও বদলায়নি। মানুষ এবং প্রশাসনের মানসিকতায় পরিবর্তন না এলে নদী দূষণ রোধ করা সম্ভব নয়।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, যে জায়গায় নদীতে শৌচাগারের বর্জ্য ফেলার অভিযোগ উঠেছে, তার অদূরেই রয়েছে উলুবেড়িয়া কালীবাড়ির ঘাট। সেখান থেকে দর্শণার্থীরা গঙ্গার জল সংগ্রহ করেন। অদূরেই রয়েছে উলুবেড়িয়া পৌরসভার জল সংশোধনাগার। ওই জল সংশোধনাগার থেকেই পৌরসভার বিস্তীর্ণ এলাকায় বাড়ি বাড়ি পানীয় জল সরবরাহ করা হয়। ফলে নদীতে শৌচাগারের বর্জ্য ফেলার ঘটনায় দূষণ ও জনস্বাস্থ্য নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়েছে স্থানীয় মানুষের মধ্যে।

Comments :0

Login to leave a comment